Forest Conservation Act, Environment Ministry | বন সংরক্ষণ আইন সংশোধন ঘিরে বিতর্ক: বেসরকারিকরণ নয়, লক্ষ্য ৩৩ শতাংশ বনভূমি, কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ কেন্দ্রের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বন সংরক্ষণ আইন সংশোধনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্কের আবহে বৃহস্পতিবার অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে বন (সংরক্ষণ) আইন বা ফরেস্ট কনজারভেশন অ্যাক্ট-এ (Forest Conservation Act) যে সংশোধনী আনা হয়েছে, তার ফলে বনভূমির পরিচালন ব্যবস্থা কোনওভাবেই বেসরকারি বা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ক্ষয়প্রাপ্ত বনভূমির পুনরুদ্ধার এবং দেশের মোট ভূখণ্ডের অন্তত ৩৩ শতাংশ বন আচ্ছাদনের লক্ষ্যে পৌঁছনো।

এই ব্যাখ্যা আসে কংগ্রেসের (Congress) একদিন আগের অভিযোগের পর। কংগ্রেসের দাবি ছিল, ২০২৩ সালের সংশোধনী কার্যত বন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের দরজা খুলে দিয়েছে। বিরোধী দলের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, সংশোধনীকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং এতে বনভূমির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের চরিত্র বদলাচ্ছে না।এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নতুন নির্দেশিকায় বনভূমির পরিচালনা অ-সরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কোনও কথা নেই।’ তাঁর দাবি, ‘বন সংরক্ষণ ও সংবর্ধন আইন, ১৯৮০ (Van Sanrakshan Evam Samvardhan Adhiniyam, 1980) -এর অধীনে যে নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়েছে, তা কেবল ক্ষতিগ্রস্ত বনভূমি পুনরুদ্ধারের কাজে অ-সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে। এই উদ্যোগ ভারতের ৩৩ শতাংশ বন আচ্ছাদনের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।’

কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের বহু বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত। এই ধরনের জমিতে বনায়ন ও পুনরুদ্ধারের কাজে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) -এর আওতায় থাকা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ দরকার। তবে এই অংশগ্রহণ মানে বনভূমির মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে পুনরুদ্ধারমূলক কাজের অনুমতি।
অন্য দিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের ২ জানুয়ারির একটি সার্কুলার প্রকাশ করেন। ওই সার্কুলারে বনভূমি লিজে দেওয়ার শর্ত ও নিয়ম সংক্রান্ত নির্দেশিকার সংশোধনের কথা উল্লেখ রয়েছে। জয়রাম রমেশের দাবি, এই সংশোধনের মাধ্যমে দেশের বন শাসন ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বনভূমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

আরও পড়ুন : India GDP growth forecast, MoSPI | উৎপাদন ও পরিষেবা খাতে গতি সঞ্চার, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশে পৌঁছনোর পূর্বাভাস

কংগ্রেসের বক্তব্য, বনভূমি সংরক্ষণ শুধুমাত্র পরিবেশগত প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে আদিবাসী অধিকার, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লে বন ব্যবস্থাপনায় লাভের বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে, যা সংরক্ষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে দুর্বল করবে। এই কারণেই কংগ্রেস নেতৃত্ব সংশোধনীকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক এই অভিযোগ মানতে নারাজ। আধিকারিকদের দাবি, সংশোধিত নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, বনভূমির ব্যবহার হবে শুধুমাত্র পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণমূলক কাজে। কোনও শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য এই সংশোধনীর মাধ্যমে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত বনাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশের বন আচ্ছাদন বাড়াতে সরকারের লক্ষ্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী হলেও, তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের মতে, ‘বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ নিজে খারাপ নয়, কিন্তু তার জন্য স্পষ্ট নিয়ম, জবাবদিহি এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থরক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।’ অন্যথায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে এই বিতর্কের তাৎপর্যও কম নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন নয়, তবে বন সংরক্ষণ আইনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংশোধনী ভোটের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে এই প্রশ্ন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সংশোধিত নির্দেশিকা ভারতের আন্তর্জাতিক পরিবেশগত অঙ্গীকার পূরণেও সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বনভূমির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই কারণেই বন আচ্ছাদন বাড়ানো এখন জাতীয় অগ্রাধিকারের মধ্যে পড়ে। সরকারের যুক্তি, পুনরুদ্ধারমূলক কাজে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া এই লক্ষ্যে পৌঁছনো কঠিন। উল্লেখ্য, বন সংরক্ষণ আইন সংশোধন ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল আইনি ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবেশ, রাজনীতি এবং সামাজিক স্বার্থের এক জটিল সমীকরণ। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট নীতি ও ব্যাখ্যা না এলে বিতর্ক থামবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian AI Startups 2026, PM Narendra Modi AI Roundtable | ভারতের AI উদ্ভাবনে স্টার্টআপদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন