সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লী : যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজ়া উপত্যকার পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থসাহায্যের আশ্বাস মিলেছে, এমনি বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানান, তাঁর উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অফ পিস (Board of Peace) -এর সদস্য দেশগুলি গাজ়ার পুনর্গঠনে বিপুল অর্থ বরাদ্দে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বোর্ড অফ পিস ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হয়ে উঠবে। এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে আমি সম্মানিত।’ উল্লেখ্য যে, ওয়াশিংটনে আগামী বৃহস্পতিবার এই গোষ্ঠীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেখান থেকেই অর্থসাহায্য সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে তাঁর ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, বিশেষত গাজ়া পুনর্গঠন, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
ইজরায়েল ও হামাসের সংঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজ়া। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বিমান হামলা ও অবরোধে অবকাঠামো, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আবাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই পরিস্থিতিতে গাজ়া পুনর্গঠন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ‘বোর্ড অফ পিস’ -এর সদস্যরা শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, গাজ়ার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনীতে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। গত ২৩ জানুয়ারি সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে এই শান্তিগোষ্ঠীর সূচনা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধি। উপস্থিত রাষ্ট্রপ্রধানদের তালিকায় ছিল আর্জেন্টিনা (Argentina), আর্মেনিয়া (Armenia), আজ়ারবাইজান (Azerbaijan), বুলগেরিয়া (Bulgaria), হাঙ্গেরি (Hungary), ইন্দোনেশিয়া (Indonesia), কাজাখস্তান (Kazakhstan), কসোভো (Kosovo), পাকিস্তান (Pakistan), প্যারাগুয়ে (Paraguay) এবং উজবেকিস্তান (Uzbekistan)। এছাড়াও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল বাহরিন (Bahrain), জর্ডন (Jordan), মরক্কো (Morocco), কাতার (Qatar), সৌদি আরব (Saudi Arabia), তুরস্ক (Turkey), সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates) এবং মঙ্গোলিয়া (Mongolia)। তবে উল্লেখ্য যে, অনুপস্থিত ছিল ভারত (India), থাইল্যান্ড (Thailand), ইউক্রেন (Ukraine) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলির প্রতিনিধিরা।

ট্রাম্পের বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, ‘বোর্ড অফ পিস’ কেবল গাজ়া নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনে বিকল্প আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তিন বছরের জন্য সদস্যপদ এবং ১০০ কোটি ডলার অনুদানের বিনিময়ে স্থায়ী সদস্যপদের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে নতুন এক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক জোটের সূচনা হতে পারে, যা রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের মত। গাজ়া পুনর্গঠনে ৫০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক বাজার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির নজর কেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অর্থ যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে আবাসন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও শিক্ষা খাতে দ্রুত পুনর্গঠন সম্ভব হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হয়ে উঠতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এই পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। একাংশের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ মার্কিন প্রভাব পুনর্গঠনের কৌশল। অন্যদিকে, সমালোচকদের প্রশ্ন এটি কী রাষ্ট্রপুঞ্জের বিকল্প শক্তি গড়ার প্রচেষ্টা? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজ়া ইস্যুতে বহুপাক্ষিক ঐক্যমত্য তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন নজর রেখেছে ওয়াশিংটনের বৈঠকের দিকে। সেখানে কতগুলি দেশ উপস্থিত থাকবে এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি কতটা স্পষ্ট রূপ পায়, তা-ই নির্ধারণ করবে ‘বোর্ড অফ পিস’-এর ভবিষ্যৎ। আপাতত ট্রাম্পের দাবি বিশ্বমঞ্চে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, গাজ়ার পুনর্গঠন কি সত্যিই বহুজাতিক ঐক্যের নতুন দিশা দেখাবে, না কী এটি আরও এক কূটনৈতিক কৌশল? গাজ়া পুনর্গঠন, বোর্ড অফ পিস, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে। আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হবে, ঘোষিত ৫০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা রূপ পায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump 18 trillion investment | ‘ট্যারিফই আমার প্রিয় শব্দ’, ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প



