Donald Trump 18 trillion investment | ‘ট্যারিফই আমার প্রিয় শব্দ’, ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে শক্তিশালী সেনাবাহিনী, নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: অর্থনীতি থেকে প্রতিরক্ষা, নিজের নেতৃত্বাধীন সময়ের সাফল্য নিয়ে ফের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাঁর নীতির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। এই বিপুল বিনিয়োগের বড় অংশ সম্ভব হয়েছে শুল্ক বা ট্যারিফ নীতির মাধ্যমে, যা তিনি মজা করেই ‘আমার প্রিয় শব্দ’ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে, একাধিক যুদ্ধের নিষ্পত্তি হয়েছে এবং গাজা যুদ্ধেরও অবসান ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে অর্থনৈতিক নীতিই ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছি, যেখানে আমেরিকার স্বার্থই সবার আগে। ট্যারিফ ছিল সেই নীতির মূল অস্ত্র।’ তাঁর মতে, বিদেশি সংস্থাগুলিকে মার্কিন বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে এই শুল্কনীতি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ‘১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটা শুধু সংখ্যা নয়, এটা কর্মসংস্থান, উৎপাদন আর আমেরিকার ভবিষ্যৎ।’

তিনি আরও বলেন, ট্যারিফের মাধ্যমে আমেরিকার শিল্পকে রক্ষা করা হয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘অনেকে ট্যারিফকে সমালোচনা করে, কিন্তু আমার কাছে এটা শক্তির প্রতীক।’ তাঁর এই মন্তব্য আবারও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। অর্থনীতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনী আজ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। আমি আমেরিকার শক্তি ফিরিয়ে এনেছি।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সামরিক বাজেট বৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ এবং সেনা সদস্যদের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন বাহিনী গড়েছি, যাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করার সাহস পায় না।’

আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তাঁর নেতৃত্বে মাত্র দশ মাসের মধ্যে আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও এই দাবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি, তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী কূটনৈতিক চাপ ও শক্ত অবস্থানের মাধ্যমেই এই সমাধান সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। কিন্তু শক্তিশালী না হলে শান্তি আসে না।’ সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যগুলির মধ্যে ছিল গাজা যুদ্ধ নিয়ে তাঁর দাবি। ট্রাম্প বলেন, ‘গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটানো হয়েছে।’ এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, তিনি নিজের নেতৃত্বকে শক্তি, সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরতে চান। তিনি বলেন, ‘আমার সময়ে আমেরিকা দুর্বল ছিল না। আমরা শক্তিশালী ছিলাম, আমরা সম্মান পেয়েছি।’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দৃঢ় হওয়ায়ই কূটনৈতিক সাফল্য এসেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য আসলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। এক মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘ট্রাম্প সবসময় শক্তির ভাষায় কথা বলেন, হোক তা অর্থনীতি বা সেনাবাহিনী। তাঁর সমর্থকদের কাছে এটাই তাঁর বড় আকর্ষণ।’ তবে সমালোচকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ও দাবির মধ্যে ফারাক রয়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্য নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ট্যারিফ-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছিল। একাধিক দেশ তখন পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। তবে ট্রাম্পের মতে, ‘স্বল্পমেয়াদে কিছু চাপ এলেও দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকাই লাভবান হয়েছে।’ তাঁর দাবি, কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং উৎপাদন খাতে নতুন গতি এসেছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য একদিকে যেমন তাঁর সমর্থকদের উৎসাহিত করেছে, তেমনই সমালোচকদের নতুন করে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে। অর্থনৈতিক সাফল্য, সামরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের নিষ্পত্তি, এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তিনি নিজের নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আগামী দিনে মার্কিন রাজনীতিতে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Assam government jobs update, CM Himanta Biswa Sarma statement | অসম ক্যাবিনেটের একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে উন্নয়নের গতি, ১ লক্ষ ৪২ হাজার ছাড়াল সরকারি নিয়োগ, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News