সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক বড় উদ্যোগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্ন (Nabanna)-এ আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি জানান, গঙ্গাসাগর (Gangasagar) কেন্দ্রিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মীয় আবেগ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং আধুনিক পরিষেবার সমন্বয়ে এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলা দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী এখানে আসেন। সেই কারণে এখানে আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’ তাঁর মতে, এই উদ্যোগ শুধু তীর্থযাত্রীদের জন্য নয়, পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে কপিলমুনি আশ্রম (Kapil Muni Ashram) সংলগ্ন সমুদ্রসৈকত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বিচ এলাকাকে নতুনভাবে সাজানো হবে, যাতে পর্যটকরা উন্নত অভিজ্ঞতা পান।’ সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি সেখানে বসার জায়গা, উন্নত আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে গঙ্গাসাগরের আকর্ষণ আরও বাড়বে। গঙ্গাসাগরের উন্নয়নের পাশাপাশি কলকাতার গঙ্গাতীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলির সংস্কারেও জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, ‘গঙ্গার পারে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।’ এর মধ্যে বাগবাজার ঘাট (Bagbazar Ghat) এবং আহিরীটোলা ঘাট (Ahiritola Ghat)-এর কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটা এগিয়েছে। আরও কয়েকটি ঘাটের সংস্কার দ্রুত শেষ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। এই ঘাটগুলির গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলি শুধু ধর্মীয় আচার পালনের জায়গা নয়, কলকাতার ঐতিহ্যেরও অংশ।’ তাই উন্নয়ন কাজের সময় ঘাটগুলির প্রাচীন বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে তৈরি হচ্ছে নিরাপদ সিঁড়ি, পর্যাপ্ত আলো, বসার জায়গা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে খবর, এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘দুর্গাপুজোর আগেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।’ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে। গঙ্গাসাগর মেলার আন্তর্জাতিকীকরণের পরিকল্পনায় পর্যটন ছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সড়ক, জলপথ ও অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে কোনো অসুবিধা না হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে, যাতে বিপুল জনসমাগমের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পরিবেশের দিকটিও এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গঙ্গাসাগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়ন কাজ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
গঙ্গাসাগর মেলা বহুদিন ধরেই আধ্যাত্মিক ও সামাজিক মিলনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখন সেটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা রাজ্যের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে প্রশাসনের তরফে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে গঙ্গাসাগরকে বিশ্বমানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সরকার একাধিক দিক থেকে কাজ শুরু করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Yojana Bengal, Suvendu Adhikari Scheme Update | অন্নপূর্ণা যোজনায় কড়াকড়ি কেন? লক্ষ্মীর ভান্ডার জালিয়াতির উদাহরণ তুলে ব্যাখ্যা শুভেন্দুর




