Dilip Ghosh Panchayat Recruitment, Panchayat Vacancy 2026 West Bengal | তিন বছরে বদলি বাধ্যতামূলক! পঞ্চায়েতে বড় রদবদল, শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগে ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত কর্মীদের বদলি এবং বিপুল শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ, দুই ক্ষেত্রেই একযোগে সক্রিয় হচ্ছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর (Department of Panchayat and Rural Development)। বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবন (Mrittika Bhavan)-এ সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘এক জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করলে প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই রোটেশন পলিসি চালু করা হচ্ছে।’ তাঁর কথায়, ‘তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই পঞ্চায়েতে কর্মরতদের বদলি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’ ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ জেলাশাসকদের (District Magistrate) কাছে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত তালিকা তৈরি করে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : Dilip Ghosh Police Remark, Prashanta Barman Arrest | ফেরার অভিযুক্ত ধরা পড়তেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১১০০ জন পঞ্চায়েত কর্মী রয়েছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন একই জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের বদলি প্রক্রিয়া চলতি জুন মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় স্তরে কাজের গতি ব্যাহত না হয়। পঞ্চায়েত স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। যদিও সব ক্ষেত্রেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবুও প্রশাসন মনে করছে, একই জায়গায় দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি এড়াতেই বদলির নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।’

শুধু বদলি নয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতেও জোর দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতগুলিতে নিয়মিত অডিট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন অডিট প্রক্রিয়া নিয়মিত ছিল না বলে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, ‘এখন থেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অডিট হবে, যাতে সরকারি অর্থের ব্যবহার সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা যায়।’ কোনো ধরনের আর্থিক গরমিল ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এদিন পঞ্চায়েত স্তরে কর্মী নিয়োগ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় মোট ১১,১৫৪টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা বা মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে। এই বিপুল শূন্যপদের কারণে প্রশাসনিক কাজকর্মে চাপ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ‘আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬,৫৩৬টি পদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।’ তবে সেই প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি। তিনি আশ্বাস দেন, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং সমস্ত নিয়োগ নিয়ম মেনে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে। তাঁর কথায়, ‘কোনওভাবেই অস্থায়ী বা অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হবে না।’

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকা কর্মীদের বদলি হলে নতুন উদ্যমে কাজ এগোবে এবং স্থানীয় স্তরে কাজের গতি বাড়বে। পাশাপাশি শূন্যপদ পূরণ হলে পরিষেবা আরও মসৃণ হবে। রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে পঞ্চায়েতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তা, পানীয় জল, আবাসন, স্বাস্থ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের ওপরই নির্ভর করে সাধারণ মানুষ। ফলে এই স্তরে প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে উঠেছে। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, বদলি ও নিয়োগ দুই প্রক্রিয়াই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ এগোনো হবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পঞ্চায়েত স্তরে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায় এবং তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হয়।

ছবি : সংগৃহীত :
আরও পড়ুন : Dilip Ghosh | নতুন দাবি ঘিরে ফের বিতর্কে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, গোমাতা প্রসঙ্গে জোর চর্চা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন