FIFA World Cup 2026, Jude Bellingham goals | বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

SHARE:

সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর কোয়ার্টার ফাইনালে এক নাটকীয় লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। নরওয়েকে (Norway) হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড (England)। ম্যাচের নায়ক জুড বেলিংহ্যাম (Jude Bellingham), জোড়া গোল করে তিনি দলকে জয় এনে দেন। অন্যদিকে, নরওয়ের তারকা আর্লিং হালান্ডকে (Erling Haaland) প্রায় নিষ্প্রভ দেখা যায়, যা ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়।

আরও পড়ুন : England vs Mexico 2026, Harry Kane reaction | আজটেকায় ইতিহাস ভেঙে ইংল্যান্ড, মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে: ‘ভাষা হারিয়ে ফেলেছি’, আবেগে ভেসে কেন ও বেলিংহ্যাম

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের কৌশলগত লড়াই চোখে পড়ে। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (Harry Kane) ও নরওয়ের হালান্ডকে ঘিরেই ছিল মূল নজর। তবে দুই তারকাকেই আটকে রাখতে সচেষ্ট ছিল প্রতিপক্ষ রক্ষণ। সেই সুযোগেই সামনে এগিয়ে আসেন বেলিংহ্যাম। আগের ম্যাচে মেক্সিকোর (Mexico) বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর এই ম্যাচেও তিনি একই ছন্দ বজায় রাখেন। প্রথম ২০ মিনিটে ইংল্যান্ড আক্রমণের ঝড় তোলে। দুই প্রান্ত থেকে একের পর এক ক্রস উঠে আসে, কিন্তু গোলের দেখা মেলে না। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ড (Martin Odegaard) -এর নেতৃত্বে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। তারই ফল মেলে ৩৬ মিনিটে। বাঁ প্রান্ত ধরে উঠে অসাধারণ দূরপাল্লার শটে গোল করেন আন্দ্রিস শেলডেরুপ (Andreas Schjelderup)। তাঁর বাঁ পায়ের শট দ্বিতীয় পোস্টে জালে জড়িয়ে যায়, যা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গোল করার পরেই ছন্দ হারায় নরওয়ের রক্ষণ। সেই সুযোগ কাজে লাগায় ইংল্যান্ড। বিরতির ঠিক আগে সমতা ফেরান বেলিংহ্যাম। অ্যান্থনি গর্ডন (Anthony Gordon) -এর পাস থেকে চার ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বাঁ পায়ে গোল করেন তিনি। স্কোরলাইন হয় ১-১। এই গোলকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। নরওয়ের গোলরক্ষক অর্জান নাইলান্ড (Orjan Nyland) -এর গোলকিক ক্যামেরায় লেগে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছয় বলে অভিযোগ ওঠে। নরওয়ের কোচ স্টালে সলবাকেন (Stale Solbakken) ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই অপেক্ষাকৃত ধীরগতির ফুটবল খেলে। মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগোচ্ছে। নরওয়ে একটি গোল করলেও তা বাতিল হয়, কারণ কর্নারের আগে ফাউলের অভিযোগ ধরা পড়ে।

অন্যদিকে বুকায়ো সাকা (Bukayo Saka) একটি একক প্রচেষ্টায় প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা রুখে দেন ডিফেন্ডার। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। খেলা শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। মরগান রজার্স (Morgan Rogers) -এর শট নাইলান্ড সামাল দিলেও বল হাতছাড়া হয়ে যায়। সেই সুযোগে বেলিংহ্যাম সহজ টোকায় গোল করেন। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন তিনি এবং দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল খাওয়ার পর নরওয়ে আক্রমণে ঝাঁপায়, কিন্তু সফল হতে পারে না। হালান্ডকে কার্যত বক্সে সুযোগই দেওয়া হয়নি। গোটা ম্যাচে হাতে গোনা কয়েকবার বল পেলেও প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। একটি হেড শট গোলমুখে গেলেও তাতে জোর ছিল না।

নরওয়ের আক্রমণে ধার না থাকায় চাপ বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত সময়ের মাঝপথে ক্লান্তির কারণে হালান্ডকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ সলবাকেন। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল (Thomas Tuchel) -এর পরিবর্ত খেলোয়াড়রা ম্যাচে গতি আনেন। সাকা, ইবেরেচি ইজে (Eberechi Eze), রজার্স এবং জেড স্পেন্স (Djed Spence) ম্যাচের ছন্দ বদলে দেন। শেষদিকে ইংল্যান্ড একটি পেনাল্টি পেলেও পরে VAR দেখে তা বাতিল করা হয়। তবু ফলাফলে তার প্রভাব পড়েনি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও লড়াই চালিয়েও সমতা ফেরাতে পারেনি নরওয়ে।

এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল ও দীর্ঘ ৬০ বছর পর আবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন জোরাল হল। বেলিংহ্যাম এখন গোল্ডেন বুটের দৌড়েও এগিয়ে, হ্যারি কেনের সমান তিনি গোল করে ফেলেছেন। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এই ম্যাচ ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের উত্থানের বড় ইঙ্গিত। নরওয়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই দেখিয়ে দিল, শুধু তারকা নয়, দলগত কৌশলই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lionel Messi news, Messi World Cup 2026 | ‘আমাকে এভাবে টাচ্‌ কোরো না’ : লোপেজকে সতর্ক করেছিলেন মেসি, তবু মুগ্ধ প্রতিপক্ষ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন