সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) -এর কোয়ার্টার ফাইনালে টানটান লড়াইয়ের শেষে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা (Argentina)। ১০ জনের সুইৎজারল্যান্ডকে (Switzerland) অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে হারালেন লিওনেল মেসিরা (Lionel Messi)। নির্ধারিত সময়ের লড়াই শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়, পরে অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে লিয়োনেল স্কালোনির (Lionel Scaloni) দল। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ চারে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল কৌশলের লড়াই। সুইৎজারল্যান্ড দ্রুতগতির ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখার চেষ্টা করে, অন্যদিকে মেসিদের পরিকল্পনা ছিল খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা। বল দখলের লড়াইয়ে বহুক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল সুইসরা। মাঝমাঠে গ্রানিট জাকা (Granit Xhaka) ও তাঁর সঙ্গীরা বারবার আক্রমণ তৈরি করেন। তবে গোলমুখে গিয়ে শেষ কাজটি করতে পারেননি ব্রিল এমবোলো (Breel Embolo) ও ড্যান এনদোয়েরা (Dan Ndoye)। ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে লিওনেল মেসির নিখুঁত ডেলিভারি পেয়ে হেডে গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (Alexis Mac Allister)। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল (Gregor Kobel) সেই হেড আটকাতে পারেননি। শুরুতেই গোল খেয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সুইৎজারল্যান্ড। একাধিকবার আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি হয়। দ্রুত পাসিং, উইং থেকে আক্রমণ সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল সুইসরা, কিন্তু তারা গোলের মুখ খুলতে পারেনি।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। কিন্তু সুইৎজারল্যান্ডই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। তাদের সংগঠিত আক্রমণ এবং দলগত ফুটবল বারবার আর্জেন্টিনার রক্ষণকে চাপে ফেলে। ড্যান এনদোয়ে এবং এমবোলোর গতির সামনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই চাপের ফল পায় সুইৎজারল্যান্ড। ৬৭ মিনিটে দুরন্ত মুভ থেকে সমতা ফেরান এনদোয়ে। রিকার্ডো রদ্রিগেজ (Ricardo Rodriguez)-এর সঙ্গে দ্রুত পাস বিনিময় করে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন তিনি। স্কোরলাইন ১-১ হওয়ায় ম্যাচ নতুন করে শুরু হয়।
ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে এর কিছু পরেই। এমবোলো একটি ফাউলের পরিস্থিতিতে নাটকীয়ভাবে পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। VAR-এ ধরা পড়ে বিষয়টি। রেফারি তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান। ফলে ৭২ মিনিট থেকে ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয় সুইৎজারল্যান্ড। এই লাল কার্ড ম্যাচের গতি বদলে দেয়। এক জন কম নিয়ে খেলেও সুইসরা রক্ষণ শক্ত করে রাখে। আর্জেন্টিনা আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ালেও গোল করতে সমস্যায় পড়ে। লিওনেল মেসি একাধিক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যায় ১-১ সমতায় এবং ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও লড়াই ছিল সমানতালে। ১০ জন নিয়ে সুইৎজারল্যান্ড যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল, তা নজর কাড়ে। তবে ১০২ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করেন জুলিয়ান আলভারেজ (Julian Alvarez)। প্রথমে মেসির শট রুখে দেন কোবেল, কিন্তু ফিরতি বলে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এরপর শেষ মুহূর্তে জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেজ় (Lautaro Martinez)। নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে তিনি দ্বিতীয় গোল করেন। সুইস ডিফেন্সের ভুলের সুযোগ নিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দেন মার্তিনেজ়।
এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে পৌঁছল ও আবারও বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে নিজেদের জোরালো অবস্থান তুলে ধরল। তবে ম্যাচে সুইৎজারল্যান্ডের পারফরম্যান্সও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ১০ জনে নেমেও তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, লিয়োনেল স্কালোনির দলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এই ম্যাচে রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে। মাঝেমধ্যে প্রতিপক্ষের চাপে ভেঙে পড়ার প্রবণতা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে মেসির উপর নির্ভরতা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কিন্তু জয়ই শেষ কথা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন তাঁদের পরবর্তী ম্যাচে। টানা দুই বিশ্বকাপে শেষ চারে পৌঁছে ইতিহাসের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : FIFA World Cup 2026, Jude Bellingham goals | বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড



