সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ -এর উত্তেজনায় জমে উঠেছে ফুটবল বিশ্ব। সেই আবহেই এক নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড (England)। আজটেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেন (Harry Kane)। ম্যাচ শেষে তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় ফুটে উঠেছে ক্লান্তি, আবেগ এবং লড়াইয়ের স্মৃতি। এই ম্যাচের আগে পরিসংখ্যান বলছিল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে হারানো সহজ নয়। ঘরের মাঠে তারা দীর্ঘদিন অপরাজিত ছিল। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল তীব্র গতি ও চাপ।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বেলিংহ্যাম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনি দুটি গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। তাঁর গতিময়তা এবং নিখুঁত ফিনিশিং মেক্সিকোর রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয়। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ইংল্যান্ড ১০ জনে নেমে পড়ার পর চাপ বাড়ায় মেক্সিকো। তবুও রক্ষণে দৃঢ়তা দেখায় ইংল্যান্ড দল। সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। তাঁর এই গোল ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। যদিও মেক্সিকোও পেনাল্টি থেকে আরও একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমায়, শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের শেষে সাংবাদিক বৈঠকে হ্যারি কেনের কণ্ঠে ধরা পড়ে তীব্র ক্লান্তি। তিনি বলেন, ‘আমার গলা দিয়ে আওয়াজ বার হচ্ছে না। মাঠে এত চিৎকার করতে হয়েছে যে গলা বসে গিয়েছে। পুরো পাগলামো হয়েছে ম্যাচে। আমাদের শেষ পর্যন্ত লড়তে হয়েছে।’ পরে আরও এক সাক্ষাৎকারে কেন জানান, ‘ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। শরীরে আর শক্তি নেই। খুব ক্লান্ত লাগছে।’
একই আবেগ শোনা যায় জুড বেলিংহ্যামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। এই জয় শুধু আমার নয়, গোটা দলের। আমরা যেভাবে রক্ষণ সামলেছি, কঠিন সময়ে গোল করেছি, তা দারুণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা দল হিসেবে লড়েছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে দলের ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। এই ম্যাচে শুরু থেকেই মেক্সিকোর ডিফেন্ডাররা কেনকে আটকানোর চেষ্টা করে। ফলে গোল করার দায়িত্ব অনেকটাই নিজের কাঁধে তুলে নেন বেলিংহ্যাম। তাঁর দ্রুত গোল ইংল্যান্ডকে আত্মবিশ্বাস জোগায়। পরে কেনের পেনাল্টি সেই ব্যবধান ধরে রাখতে সাহায্য করে। আজটেকা স্টেডিয়ামে এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই মাঠে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জেতা সহজ নয়। সেই কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়ে ইংল্যান্ড এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে (Norway), যা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে।
ফুটবল মহলে ইতিমধ্যেই এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বেলিংহ্যামের পারফরম্যান্স এবং কেনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশংসা হচ্ছে। এই জয় ইংল্যান্ড দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন নাটকীয় জয় দলের মানসিক শক্তিকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। ইংল্যান্ড এখন শিরোপার লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সামনে কঠিন ম্যাচ থাকলেও এই জয় তাদের নতুন উদ্যম এনে দেবে।
মেক্সিকোর জন্য এই হার হতাশার। ঘরের মাঠে এতটা লড়াই করার পরেও শেষ পর্যন্ত জয় না পাওয়া তাদের জন্য বড় ধাক্কা। তবে ম্যাচে তাদের লড়াই নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। ইংল্যান্ডের এই জয়ের পর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে আসছে অভিনন্দনের বার্তা। দল এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতিতে মন দিচ্ছে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বেলিংহ্যাম ও কেনের পারফরম্যান্স, দলের লড়াই এবং ম্যাচের নাটকীয়তা, এই জয় দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Harry Kane record 2026, England World Cup Kane goals | এমবাপের রেকর্ড ভেঙে মেসি-রোনাল্ডোর পাশে কেন, বিশ্বকাপে ঝড় তুলছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক




