বসুধা চৌধুরী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : সমাজে পরকীয়া বা পুরনো প্রেমের জেরে আত্মহত্যা, খুন কিংবা মারপিটের ঘটনা প্রায়ই শিরোনামে আসে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের আমেঠি জেলার এক যুবক যা করলেন, তা শুনে অনেকেই হতবাক। নিজের স্ত্রী যে এখনও প্রাক্তন প্রেমিককে ভুলতে পারেনি, তা বুঝে নেওয়ার পর তিনি কোনও রাগ-ক্ষোভ নয়, ঠান্ডা মাথায় অবাক করা এক সিদ্ধান্ত নিলেন। স্থানীয় মন্দিরে স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ে দিলেন স্বামী নিজেই। এমনকী, সমস্ত রীতিনীতি মেনে তিনি ‘বিদায়’-ও করলেন।
চলতি বছরের ২ মার্চ বিয়ে হয়েছিল কামরৌলি থানার (Kamrauli Thana) বাসিন্দা শিবশঙ্কর (Shivshankar) এবং রানিগঞ্জের (Raniganj) বাসিন্দা উমার (Uma)। মাত্র ছয় মাসের দাম্পত্য সম্পর্ক। কিন্তু এই অল্প সময়েই শিবশঙ্কর বুঝতে পারেন, স্ত্রী মন থেকে অন্য কারও সঙ্গে বাঁধা। উমা বিয়ের পরও ঘনঘন ফোনে কথা বলতেন বিশাল (Vishal) নামে এক যুবকের সঙ্গে। প্রথমদিকে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে সমস্যার গভীরতা বুঝে ওঠেন শিবশঙ্কর। তিনি স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসে জানান, সংসার টিকিয়ে রাখতে চাইলে উমাকে সেই সম্পর্ক শেষ করতে হবে। কিন্তু উমা সাফ জানিয়ে দেন, বিশাল তাঁর প্রেমিক এবং তাঁকে ভুলতে পারবেন না। সংসারে অশান্তি ও বিবাদ দীর্ঘায়িত করার কোনও ইচ্ছা ছিল না শিবশঙ্করের। তাই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েও তিনি স্ত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এগোন।
গত রবিবার সন্ধ্যায় আমেঠীর শিল্পাঞ্চল এলাকার আদিত্য বিড়লা মন্দিরে (Aditya Birla Mandir) আয়োজন করা হয় নতুন বিয়ের অনুষ্ঠান। মন্দির চত্বরেই উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে অবাক হয়ে যান। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁরা বুঝতে পারেন, এটি কোনও নাটক নয়, বাস্তব। উমার হাতে মালা তুলে দেন বিশাল। মন্ত্রোচ্চারণে সম্পন্ন হয় সাত পাকের মতো সমস্ত হিন্দু রীতি। আর সেই বিয়ের ‘অতিথি’ হয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রথম স্বামী শিবশঙ্কর।সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, শুধু বিয়ে দেওয়া নয়, শিবশঙ্কর নিজের স্ত্রীর জন্য বিদায় অনুষ্ঠানও আয়োজন করেন। কনের মতোই তিনি উমাকে তাঁর নতুন স্বামী বিশালের সঙ্গে রীতিমতো বিদায় জানান। শিবশঙ্করের বক্তব্য, “ঘরে ঝামেলা পুষে লাভ কী! যদি স্ত্রী মন থেকে অন্য কাউকে ভালবাসেন, তাহলে জোর করে সম্পর্ক বেঁধে রাখা উচিত নয়। আমি চাই, ও নিজের ইচ্ছামতো সুখে থাকুক।”
এই ঘটনায় এলাকায় নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই শিবশঙ্করের সিদ্ধান্তকে ‘অসাধারণ সাহসী পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় হিংসা বা কলহ দেখা দেয়। কিন্তু এখানে একজন স্বামী নিজের অহংকার বা মানসিক রাগ-ক্ষোভকে প্রাধান্য না দিয়ে স্ত্রীর সুখকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, সমাজে এরকম ঘটনা নজিরবিহীন হলেও এটি এক ধরনের বার্তা বয়ে আনে। ভালোবাসা যদি সত্যিই অন্য কারও জন্য থেকে যায়, তাহলে জোর করে তাকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে এমন মানবিক সিদ্ধান্তই সমাজকে পথ দেখাতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের পর উমা ও বিশাল একসঙ্গে নতুন জীবনের পথে পা বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে শিবশঙ্কর জানিয়েছেন, তিনি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন শান্তিপূর্ণভাবে।সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, এই ঘটনা সামাজিক বাস্তবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত। উত্তরপ্রদেশের আমেঠি থেকে ছড়িয়ে পড়েছে মানবিকতার বার্তা, ভালবাসাকে অস্বীকার করা যায় না, আর সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটানোর জন্য সবসময় হিংসা নয়, বোঝাপড়াও হতে পারে সমাধান।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : extramarital love story | শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন জামাইবাবু, জামাইবাবুর বোনকে নিয়ে চম্পট শ্যালক




