Mohanlal Dadasaheb Phalke Award | দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন দক্ষিণী মেগাস্টার মোহনলাল, শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

SHARE:

তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় সিনেমার দীর্ঘ ইতিহাসে অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মেগাস্টার মোহনলাল (Mohanlal)। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর অসাধারণ অভিনয়, বহুমুখী প্রতিভা এবং ভিন্ন ধারার সিনেমায় অবদানই এবার এনে দিল তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। শনিবার কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry of Information and Broadcasting) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেছে। তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, “মোহনলালের অসাধারণ সিনেমা-যাত্রা দুই প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অমূল্য। কিংবদন্তী অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজককে ২০২৩ সালের দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত করা হচ্ছে।” উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত ৭১তম জাতীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এই সম্মান গ্রহণ করবেন তিনি। মোহনলালের এই প্রাপ্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তিনি এক্স (X) হ্যান্ডেলে মোহনলালের সঙ্গে অতীতের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “মোহনলাল একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কয়েক দশক ধরে তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে দর্শককে সমৃদ্ধ করেছেন। শুধু মালয়ালম সিনেমায় নয়, তেলেগু, তামিল, কন্নড় এবং হিন্দি ছবিতেও তিনি অসাধারণ অভিনয় করেছেন। কেরালার সংস্কৃতির প্রতিও তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর অভিনয় প্রতিভা সত্যিই প্রেরণাদায়ক।” শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, দক্ষিণী এবং হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির অসংখ্য সহকর্মী, পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্তরা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন এই কিংবদন্তীকে। দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে সবাই ভালবেসে ডাকেন ‘লালেত্তান’ (Lalettan), তাঁর এই সম্মান যেন গোটা কেরালার মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোহনলাল এখন পর্যন্ত ৩৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৭৮ সালে তাঁর অভিষেকের পর থেকে মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে অপ্রতিরোধ্য এক উচ্চতায় তুলে ধরেছে। দু’বার জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা শুধু বাণিজ্যিক সিনেমায় নয়, সমান্তরাল ও শিল্পধর্মী সিনেমাতেও সমান দক্ষতায় নিজের ছাপ রেখেছেন। চরিত্রাভিনয়, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা রোমান্স সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। মোহনলালের অভিনয় সম্পর্কে সমালোচকরা প্রায়ই বলেন, তিনি চরিত্রকে এমনভাবে নিজের ভেতরে ধারণ করেন যে, দর্শকের কাছে তা হয়ে ওঠে বাস্তব। সেই কারণেই তাঁর সিনেমাগুলো শুধু বিনোদন নয়, শিক্ষারও এক নির্দিষ্ট ব্যাকরণ তৈরি করেছে। তরুণ প্রজন্মের অভিনেতারা তাঁকে দেখে শিখছেন, কীভাবে প্রতিটি চরিত্রে নিখুঁত ডিটেইলস ফুটিয়ে তোলা যায়। কেরালার সিনেমায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য হলেও, জাতীয় পর্যায়ে তিনি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তামিল, তেলেগু, কন্নড় ও হিন্দি সিনেমায় কাজ করে তিনি দক্ষিণী ও হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন। এর ফলে ভারতীয় সিনেমার ঐক্য আরও মজবুত হয়েছে। এই সম্মান ঘোষণার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা আনন্দে মাতোয়ারা। একজন অনুরাগী লিখেছেন, “মোহনলাল শুধু অভিনেতা নন, তিনি এক প্রতিষ্ঠান। দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পেয়ে তিনি যা প্রাপ্য ছিল তাই অর্জন করলেন।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “ভারতের সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান এবার সঠিক জায়গায় পৌঁছেছে।” ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ পুরস্কার পাওয়া মানে শুধু একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সম্মান নয়, তা গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি দেশের কৃতজ্ঞতা। মোহনলালের ক্ষেত্রে এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি একধারে দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় ও হিন্দি চলচ্চিত্রে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এখন গোটা দেশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ২৩ সেপ্টেম্বরের দিকে, যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে মোহনলাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে গ্রহণ করবেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার। সেই দিন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে খোদাই হয়ে থাকবে এক সোনালি অক্ষরে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GST Bachat Utsav, GST 2.0 | জিএসটি বাঁচত উৎসব: ‘এক দেশ-এক কর’ প্রক্রিয়ার নতুন অধ্যায় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন