extramarital love story | শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন জামাইবাবু, জামাইবাবুর বোনকে নিয়ে চম্পট শ্যালক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বারেলী : অভিনব প্রেম-পরকীয়ায় হইচই। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বারেলীর (Bareilly) দেওরানিয়ান থানার কমলুপুর (Kamlupur) গ্রামে ঘটেছে এক অভিনব প্রেম ও পরকীয়ার ঘটনা। বিষয়টি শুনলে মনে হবে সিনেমার কাহিনি, কিন্তু এটি একেবারেই বাস্তব। একদিকে স্ত্রীকে লুকিয়ে শ্যালিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে পালিয়ে যান জামাইবাবু, অন্যদিকে তাঁরই বোনকে নিয়ে চম্পট দেন শ্যালক। টানা কয়েকদিন ধরে দুই পরিবারে হইচই চলার পর অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে ঘটনার নিষ্পত্তি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা খবর, কমলুপুর গ্রামের বাসিন্দা কেশব কুমার (Keshav Kumar), বয়স মাত্র ২৮ বছর। ছয় বছর আগে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের বাবা। কিন্তু সংসার জীবনে থেকেও চোখ পড়েছিল শ্যালিকা কল্পনার দিকে। প্রায় ১৯ বছরের ওই তরুণীর সঙ্গে গোপন প্রেমে জড়িয়ে পড়েন কেশব। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গোপন জায়গা থেকে প্রকাশ্যে চলে আসে। গত ২৩ আগস্ট পরিস্থিতি চরমে ওঠে। ওই দিন কেশব শ্যালিকাকে নিয়ে ঘর ছাড়েন। হঠাৎ মেয়েকে ও জামাইকে না পেয়ে দুই পরিবারেই শুরু হয় হাহাকার। তারা কোথায় গেল? কারও কাছে কোনও খোঁজ নেই। চারদিকে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। এর পরের দিন, অর্থাৎ ২৪ আগস্ট নতুন মোড় নেয় কাহিনি। কেশবের ১৯ বছর বয়সি বোনকেও নিয়ে পালিয়ে যায় তাঁরই শ্যালক রবীন্দ্র।

সমাজবিদদের মতে এই ধরনের ঘটনা গ্রামীণ সমাজের ভেতরের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের জটিলতার দিকটাই তুলে ধরে। অনেক সময় পরিবারে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পরবর্তীতে এমন নাটকীয় পরিণতি ডেকে আনে।
-প্রতীকী চিত্র

একই পরিবারের দুই যুগল পালিয়ে যাওয়ায় গ্রাম জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অবিশ্বাস্য এই ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েন উভয় পরিবারের সদস্যরা। এর পর নবাবগঞ্জ (Nawabganj) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দুই পরিবারই। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনুসন্ধানের পর অবশেষে ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দুই যুগলকেই খুঁজে বের করে পুলিশ। সেই সময় থানায় দুই পক্ষকেই ডাকা হয়। উপস্থিত ছিলেন দুই পরিবারের প্রবীণ সদস্যরাও। নবাবগঞ্জ থানার এসএইচও (SHO) অরুণ কুমার শ্রীবাস্তব জানান, “আমরা টানা অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে দুই যুগলকে উদ্ধার করি। উভয় পরিবারের সদস্যদের থানায় ডাকা হয়েছিল। সবাই ঠান্ডা মাথায় বসে কথা বলেন। অবাক করা বিষয় হল, কোনও পক্ষই ঝগড়ায় জড়াননি। শান্তভাবেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা হয়।”

সূত্রের খবর, অবশেষে উভয় পরিবারই যুগলদের সম্পর্ক মেনে নেয়। ফলে পুলিশি হস্তক্ষেপে আইনি কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের হস্তক্ষেপেই বিষয়টি মীমাংসায় গড়ায়। অন্যদিকে, ওই গ্রামে এখন এই ঘটনাই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। কেউ বলছেন এটি ভালবাসার টান, কেউ বলছেন দায়িত্বহীনতার উদাহরণ। তবে অধিকাংশ মানুষের মতে, একই সময়ে জামাইবাবু ও শ্যালকের পালিয়ে যাওয়া গ্রামের ইতিহাসে বিরল। একজন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে আগে কখনও হয়নি। একদিকে জামাইবাবু শ্যালিকাকে নিয়ে পালালেন, অন্যদিকে শ্যালক জামাইবাবুর বোনকে নিয়ে গেল! মনে হচ্ছিল সিনেমা চলছে। শেষমেশ দুই পরিবার একে অপরকে মেনে নিয়েছে, এটিই স্বস্তির।”

সমাজবিদদের মতে এই ধরনের ঘটনা গ্রামীণ সমাজের ভেতরের টানাপোড়েন ও সম্পর্কের জটিলতার দিকটাই তুলে ধরে। অনেক সময় পরিবারে বন্ধুত্ব বা আত্মীয়তার মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পরবর্তীতে এমন নাটকীয় পরিণতি ডেকে আনে। উল্লেখ্য, পুলিশি নথি অনুযায়ী, যেহেতু উভয় পরিবারই শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে এবং মেয়েদের বয়স প্রাপ্তবয়স্ক, তাই কোনওরকম জোরজবরদস্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ফলে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কমলুপুর গ্রামে এখনও এই ঘটনা আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। প্রত্যেকেই বলছেন, এ যেন রূপকথার গল্প বাস্তবে দেখা। একই পরিবারের মধ্যে এভাবে দুই দিকের প্রেম পালানোর ঘটনাকে কেউ মেনে নিতে পারছেন না, আবার কেউ বা এটিকে যুগের পরিবর্তনের স্বাভাবিক চিত্র হিসেবে দেখছেন।

ছবি: প্রতীকী 
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Birthday: ৭৫তম জন্মদিনে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন