অস্থায়ী বিদ্যুৎ কর্মীদের বিদ্যুৎভবন অভিযান
সানি সরকার ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : অস্থায়ী বিদ্যুৎ কর্মীদের পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণের জন্য শ্রম দফতরের সাথে সি.আই.টি.ইউ-এর প্রতিনিধিদের আলোচনার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। অপরদিকে ইউনিয়ন ‘সমকাজে সমবেতন’ সংক্রান্ত মামলা হাইকোর্টে দাখিল করেছে। আদালতে মামলা চলবার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন প্রতিনিয়ত আন্দোলন সংগ্রাম করে চলেছে কর্মীদের স্বার্থে।
[Plesse subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]

১৭ নভেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার “পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎশিল্প সহায়ক কর্মী ইউনিয়ন” ১২ দফা দাবি নিয়ে বিদ্যুৎভবন অভিযান করেন। অভিযানে অংশ নেন রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রায় দুই হাজার অস্থায়ী বিদ্যুৎকর্মী। বিদ্যুৎশিল্প সহায়ক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ চক্রবর্তী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “গোটা দেশ জুড়ে সরকার সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে, সাধারণ মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরাও তার বাইরে নই, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ দপ্তরে কাজ করছি। একদিকে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার বলছেন, আম্বানি আদানিদের আরও বড়লোক বানাতে হবে! পুঁজিপতি থেকে আরও বেশি পুঁজির অধিকারী তাঁদের করতে হবে, তার দায়ভার কাঁধে নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কথা ভাবছেন না। ভারতবর্ষের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন দরকার। কারণ আপনারা শ্রমিকের রক্তচুষে খান। কারণ শ্রমিকের রক্ত ভারি মিষ্টি হয়।”
[Please Subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]

এই অভিযানে নেতৃত্ব বলেন, ”বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার রিডিং ও বিলিং, রাজস্ব সংগ্রহ, বকেয়া বিলের অর্থ সংগ্রহ, লাইন মেরামতির কাজ, ফিউজ কল মনিটরিং, ফন্ট মেরামতি, নিরাপত্তা, সাব-স্টেশন অপারেশন, অফিস গাড়ী চালানো, অফিস পরিষ্কার সহ সব কাজ করানো হলেও বিদ্যুৎ কর্মীর মর্যাদা ও স্বীকৃতি দিয়ে বিদ্যুৎ সহায়ক কর্মীদের বেতন দেওয়া হয় না। তাঁদের বক্তব্য, বেশকিছু ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে কর্তা ব্যক্তিদের মন জয় করে চলতে না পারলে অনৈতিকভাবে বদলী বা ছাঁটাই করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তাঁদের অভিযোগ, কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হলেও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে টালবাহানার মতন অবস্থাও চলে। ধরনের অনৈতিক কাজ কর্তৃপক্ষকে বন্ধ করার দাবি নিয়ে বিক্ষোভ সভা হয়। তাঁরা বলেন, “বিদ্যুতের মতো ঝুঁকি বহুল কাজ করতে কর্মীদের দক্ষতার প্রয়োজন, তাই রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন বিদ্যুৎ শিল্পে কর্মরত সকল অস্থায়ী বিদ্যুৎ কর্মীদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো গঠন করতে হবে, যা পি.ডি.সি.এলের একাংশের অস্থায়ী কর্মীদের নেওয়া হচ্ছে।”
[Plesse subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]

উল্লখ্য, আজকের বিদ্যুৎভবন অভিযানে সংগঠনটির দাবি সমূহের মধ্যে ছিল : সমকাজে সমবেতন সাপেক্ষে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬০০০ টাকা, বিদ্যুৎকর্মীর মর্যাদা ও পৃথক বেতন কাঠামো প্রদান, বিকল্প কর্মসংস্থান করে প্রীপেইড স্মার্ট মিটার চালু, পিডিসিএল সংস্থার ন্যায় চুক্তির মাধ্যমে বেতন কাঠামো, পিডিসিএলে চুক্তির বাইরে থাকা কর্মীসহ সকল অস্থায়ী কর্মীদের জন্য চালু করা, স্থায়ী কর্মীদের ন্যায় অস্থায়ী কর্মীসকলের সমবেতন ও ছুটি, অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সঠিক সময়ে সুনিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় সরকারকে বিদ্যুৎ (সংশোধনী) বিল, ২০২২ সহ রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বন্টন ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরণের উদ্দেশ্যে জারি করা সকল নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা, সকল বিদ্যুৎ কর্মচারীদের কাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, চাকুরীরত অবস্থায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে তার পরিবারকে অস্থায়ী চাকুরী দেওয়া, আলোচনাসাপেক্ষে প্রতিটি জেলাতে উন্নত মানের নার্সিংহোমগুলিকে ইএসআই এর তালিকাভুক্ত করা, অতিরিক্ত কাজের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক শ্রমদপ্তরের আইন অনুযায়ী দ্বিগুনহারে প্রদান সুনিশ্চিত করা, অতিরিক্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে এককালীন (মৃত্যুকালীন / অবসরকালীন ভাতা ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করার দাবিতে বিদ্যুৎ ভবন অভিযানে অংশ নেন রাজ্যের সমস্ত জেলার বিদ্যুৎ সহায়ক কর্মীরা। কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ চক্রবর্তী বলেন, “যতদিন এই দাবি সমূহ সরকার পূরণ না করছেন, ততদিন আন্দোলন জারি থাকবে।”
[Please Subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, রাজ্য সম্পাদক শ্রীমতী বেলা পাত্র, জাব্বার আলি তরফদার, জগদীশ রায়, ইন্দ্রজিৎ ঘোষ, সর্ব ভারতীয় নেতা প্রশান্ত নন্দী চৌধুরী প্রমুখ।
নেতৃরা বক্তৃতায় বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সংসদে বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল পাশ করাতে সচেষ্ট হয়েছিল। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ কর্মচারীদের যৌথ আন্দোলনের চাপে এবং বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতায় আপাততঃ তা সফল হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের টাকার স্মার্টমিটার বসিয়ে বেসরকারী কোম্পানীকে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ করে দিতে উদ্যত হয়েছে। বিভিন্ন রাজা বিদ্যুৎ আইন সংশোধনের পূর্বেই বন্টন ব্যবস্থাকে বেসরকারী সংস্থার হাতে তুলে দিতে সচেষ্ট হচ্ছে। বেসরকারী সংস্থার হাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চলে গেলে মিটার রিডার সহ স্থায়ী-অস্থায়ী সকল কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তাই স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিরোধ গড়ে। তোলাই একমাত্র পথ।”
[Please Subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]

বিক্ষোভ সভায় অন্যান্য বক্তারা আরও বলেন, ”রাজ্যের দুই কোটির উপর গ্রাহকদের দিবারাত্রি পরিশ্রম করে বিদ্যুৎ পরিষেবা আমরা দিয়ে থাকি। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন ধারনের উপযুক্ত পারিশ্রমিক রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বিদ্যুৎ সংস্থাগুলির কাছ থেকে আমরা পাই না। একই ধরনের কাজে যুক্ত থেকে কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার মধ্যে বিস্তর ফারাক। ২৬ শে অক্টোবর ২০১৬ সালে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়কে প্রশাসন ও রাজ্য সরকার মান্যতা দিচ্ছে না। স্থায়ী কাজ দিনের পর দিন আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে অথচ স্থায়ী কাজে স্থায়ী কর্মী নিয়োগের আইনি বৈধতাকে মানা হচ্ছে না। ২০১০ সালে বন্টন কোম্পানী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল কিছু ক্ষেত্রে অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী কাজে নিযুক্ত করা হবে, কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তা কার্যকরী করা হয়নি।”
বিক্ষোভ সভায় সভাপতিত্ব করেন, সোমনাথ ভট্টাচার্য।
[Please Subscribe now our channel 👉 https://youtu.be/1gIQYZsNbDQ ]




