সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিজেপি (BJP) নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি সরাসরি কটাক্ষ করলেন সদ্য নতুন দল গঠনের কথা ঘোষণা করা হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir)। দিলীপের মতে, হুমায়ুন এমন একজন ব্যক্তি, যাঁকে কোনও রাজনৈতিক দলই বেশিদিন ধরে রাখতে পারেনি। তাঁর কথায়, “ওঁকে কেউ কোনওদিন ধরে রাখতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে যত দল, সব করা হয়ে গিয়েছে। তাই নতুন দল করার দরকার।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভরতপুরের বিধায়ক তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন যে, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়বেন। এই ঘোষণার পরেই তাঁর অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও তৃণমূলের প্রতি ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি নেতার অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর যে সব মন্তব্য অতীতে করতেন, তা তাঁর একার ইচ্ছে ছিল না। বরং তৃণমূলও চাইত, তিনি সেই কথাগুলো বলুন। দিলীপের কথায়, “আমার যেটা মনে হচ্ছে, এতদিন উনি যেসব ডায়লগ দিতেন, সেসব শুধু ওঁর ইচ্ছে নয়, তৃণমূলও চাইত।” এখানেই থামেননি দিলীপ ঘোষ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি উঠতে পারে। তাঁর কথায়, “ছাব্বিশে (2026) যদি কোনও মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী হয়, অবাক হওয়ার কিছু নেই… মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সব জানেন।” তবে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে দিলীপ ঘোষ বলেন, তাদের দলে কোনও ধরনের বিভাজনের রাজনীতি নেই। তিনি বলেন, “আমরা কোনও ভাগাভাগিতে বিশ্বাস করি না। সবার সাথে, সবার বিকাশে বিশ্বাসী, এই স্লোগান আমরাই দিয়েছি। ভারতীয় সংবিধানের (Indian Constitution) আঁধারে রাজনীতি করি আমরা। বিজেপি এই ভাবেই চলবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য আসলে মুসলিম তোষণের প্রশ্নকে সামনে এনে তৃণমূলকে চাপে ফেলতে চাওয়ার একটি কৌশল। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের ঘোষণা যে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। হুমায়ুন কবীর নিজে এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে সূত্রের খবর, নতুন দলের সাংগঠনিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে খুব শিগগিরই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন তিনি। এদিকে, বিজেপির এই মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী মন্তব্যকে ঘিরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বারবার নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবু বিজেপির এই আক্রমণ যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে আরও উস্কে দেবে, তা নিয়ে সংশয় নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলই ইতিমধ্যেই নিজেদের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির ‘মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী’ ইস্যু তোলাকে অনেকেই দেখছেন ভোট কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই।
ছবি: সংগৃহীত


