নবারুণ দাস, সাশ্রয় নিউজ ★ মালে: দীর্ঘ দুই বছরের টানাপোড়েনের পর অবশেষে উষ্ণতার বার্তা দিল ভারত-মালদ্বীপ সম্পর্ক। শুক্রবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ়্জ়ু (Mohamed Muizzu)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় বার্তা, দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার।প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মলদ্বীপ সফরে গিয়ে মোদী বলেন, ‘মলদ্বীপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ভারত সবসময় পাশে থাকবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখাই আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য।’ প্রধানমন্ত্রী এদিন মালদ্বীপ সেনাবাহিনীর হাতে ৭২টি সামরিক যান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তুলে দেন। একইসঙ্গে মালদ্বীপ প্রতিরক্ষা দফতরের নতুন সদর দফতরের উদ্বোধনও করেন। ওই নতুন ভবনকে ‘শক্তিশালী অংশীদারি ও অটল বিশ্বাসের কংক্রিটে তৈরি’ বলে উল্লেখ করেন মোদী।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালে নির্বাচনের আগে মুইজ়্জ়ু তাঁর প্রচারে বলেছিলেন, ভারতের সামরিক উপস্থিতি কমাবেন। নির্বাচিত হওয়ার পর ভারতীয় সেনাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এমন অবস্থায় মোদীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরক্ষা ভবন উদ্বোধন নিঃসন্দেহে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। শুধু প্রতিরক্ষা নয়, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা হয়েছে। ভারত মলদ্বীপকে ৫৬.৫ কোটি ডলার (প্রায় ৪৯০০ কোটি টাকা) ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও সমুদ্র গবেষণা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) সূত্রে খবর, মালদ্বীপের ক্রমবর্ধমান ঋণ-সঙ্কট ও আর্থিক দুরবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতীয় সহায়তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইএমএফ (IMF)-এর মতে, বেজিং থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় মালদ্বীপের অর্থনীতি চাপে রয়েছে ও চিনের ঋণ-জালে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল।
মালদ্বীপ সফরে মোদীকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মান। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে যোগ দেন। ২১টি তোপধ্বনিতে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। ১৯৬৫ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা লাভের পর মলদ্বীপ তাদের ৬০তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। শুক্রবার সকালেই মালের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Male International Airport) পৌঁছন মোদী। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মুইজ়্জ়ু স্বয়ং।
মোদীর এই সফর শুধুই সৌজন্যমূলক নয়। কূটনৈতিক দিক থেকেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতে মালদ্বীপ সরকারের ‘ইন্ডিয়া আউট’ নীতি ও চিনের সঙ্গে তাদের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল নয়াদিল্লির (New Delhi) অন্দরে। বিশেষত, মোদীর লক্ষদ্বীপ সফরের পর মলদ্বীপের কিছু মন্ত্রীর কটূক্তি এবং ভারতবিরোধী মনোভাব সম্পর্ককে আরও তিক্ত করেছিল। ভারতীয় পর্যটকদের মধ্যে মালদ্বীপ বয়কটের ডাকও উঠেছিল, যার প্রভাব দেশটির পর্যটন শিল্পে গভীরভাবে পড়ে। তবে এই দুই বছরের অভিজ্ঞতা মুইজ়্জ়ুর সরকারকে বুঝিয়েছে ভারতের গুরুত্ব। আর তাই এবার রণনীতির পরিবর্তন ঘটিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার বার্তা দিল মালে। শনিবার নয়াদিল্লি ফেরার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আরও ক’য়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর শুধু প্রতিরক্ষা নয়, সামগ্রিকভাবে ভারত-মলদ্বীপ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। ভারত মহাসাগরীয় কূটনীতিতে এই সম্পর্ক যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন :PM Narendra Modi Namibia visit | নামিবিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী: গান স্যালুটে স্বাগত, প্রবাসীদের উপহারে ভরা উষ্ণ অভ্যর্থনা




