সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলানোর পর এবার স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি সুজয় পাল (Justice Sujoy Paul) -এর নাম সুপারিশ করল সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম (Supreme Court Collegium)। এই সুপারিশের ফলে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক স্থিতি আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞ মহল।
সূত্রের খবর, গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে বিচারপতি পালের নাম চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। তার পরেই তাঁকে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি পদে উন্নীত করার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের (Union Law Ministry) কাছে। সোমবার শীর্ষ আদালতের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এখন কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি জারি হলেই বিচারপতি সুজয় পাল কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহণ করবেন। আইন মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আদালতের কাজ চললেও, স্থায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধতা থেকেই যায়। সেই জায়গায় বিচারপতি পালের স্থায়ী নিয়োগ আদালতের দৈনন্দিন কাজকর্মে গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম (Justice T.S. Sivagnanam) অবসর নেওয়ার পর থেকেই এই পদটি শূন্য হয়ে যায়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিচারপতি সুজয় পাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তার আগে অল্প সময়ের জন্য বিচারপতি সৌমেন সেন (Justice Soumen Sen) কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে পরে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম বিচারপতি সেনকে মেঘালয় হাই কোর্টের (Meghalaya High Court) প্রধান বিচারপতি হিসেবে পাঠানোর সুপারিশ করে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা হাই কোর্টের শীর্ষ পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বিচারপতি পাল।
বিচারপতি সুজয় পালের কর্মজীবন মূলত বিভিন্ন উচ্চ আদালতে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তিনি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তেলঙ্গানা হাই কোর্ট (Telangana High Court) থেকে বদলি হয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আসেন। তার আগে ২০২৪ সালে ব্যক্তিগত অনুরোধের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট (Madhya Pradesh High Court) থেকে তেলঙ্গানা হাই কোর্টে তাঁর বদলি হয়। সেই সময় থেকেই বিচারপতি পালের প্রশাসনিক দক্ষতা ও বিচারিক ভারসাম্যের প্রতি আইন মহলের নজর পড়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁকে তেলঙ্গানা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় বিচারপতি পাল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি এবং আদালতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা নেন বলে জানা যায়। সেই অভিজ্ঞতাই কলকাতা হাই কোর্টে তাঁর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হয়েছে বলে মত আইনজীবীদের একাংশের।
কলকাতা হাই কোর্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিচারপতি সুজয় পাল বিচারব্যবস্থার গতি বাড়ানো, মামলার জট কমানো এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করার উপর বিশেষ জোর দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর সময়ে একাধিক বেঞ্চের কাজকর্মে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় লক্ষ্য করা গিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিনি বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে সচেষ্ট ছিলেন। আইন মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের এই সুপারিশ শুধু একজন বিচারপতির পদোন্নতি নয়, তা কলকাতা হাই কোর্টের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একজন স্থায়ী প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আদালতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিচারিক সংস্কার আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।

রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। সেই কারণে বিচারপতি পালের স্থায়ী নিয়োগ রাজ্য প্রশাসন, আইনজীবী সমাজ এবং সাধারণ মানুষের কাছেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এখন সকলের নজর কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেই বিচারপতি সুজয় পাল কলকাতা হাই কোর্টের স্থায়ী প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন এবং তাঁর নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু হবে রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Germany trade relations | নতুন কূটনৈতিক সমীকরণে ভারত-জার্মানি সম্পর্ক, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ঘিরে মোদী-মার্জ় বৈঠকে নজর বিশ্বের




