BJP Kerala, Thiruvananthapuram Mayor | ৪৫ বছরের বামদূর্গ ভেঙে ইতিহাস, তিরুবন্তপুরমে বিজেপির মেয়রকে চিঠি লিখে ‘নতুন রাজনীতির’ বার্তা মোদীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ তিরুবন্তপুরম : কেরল (Kerala) রাজনীতির মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হল দেশ। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বাম শাসনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তিরুবনন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির মেয়র নির্বাচিত হওয়াকে শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক জয় হিসেবেই দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এই সাফল্য দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে গেরুয়া শিবিরের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত। এই আবহেই তিরুবনন্তপুরমের নবনির্বাচিত মেয়র ভিভি রাজেশকে (V V Rajesh) অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।

গত বছরের ডিসেম্বরের গোড়ার দিকে কেরলের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমের পুরনিগম নির্বাচনে কার্যত চমক দিয়েছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মোট ১০১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫০টিতে জয়লাভ করে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। এতদিন যে শহর বামেদের অজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেই গেরুয়া শিবিরের এই উত্থান কেরল রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে এই তিরুবনন্তপুরমই আবার কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Shashi Tharoor) -এর লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় জয়ের তাৎপর্য আরও বেড়েছে। ভোটের ফল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগত ভাবে চিঠি পাঠান নবনির্বাচিত মেয়র ভিভি রাজেশকে। সেই চিঠিতে তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তন’-এর সূচনা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘২০২৬ সালের সূচনাপর্বে তিরুবনন্তপুরমের মতো একটি মহানগরে ইতিহাস তৈরি করে আপনি মেয়র পদের জন্য শপথগ্রহণ করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা এই শহরের প্রতিটি মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।’

আরও পড়ুন : PM Modi Flags Antimicrobial Resistance in Mann Ki Baat | ‘মন কি বাত’-এ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রসঙ্গ তুলে সতর্ক প্রধানমন্ত্রী মোদী, অ্যান্টিবায়োটিক অপব্যবহারে বিপদের আশঙ্কা আইসিএমআর-এর

প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে তিরুবন্তপুরম শহরের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথাও বিশেষ ভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘তিরুবনন্তপুরম একটি সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতীক। এই শহর চিন্তাশীল নেতা, সমাজসংস্কারক, শিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ, কবি ও সাধুসন্তদের জন্ম দিয়েছে। এমন একটি শহরের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার সুযোগ পেয়ে বিজেপি গর্বিত।’ একই সঙ্গে তিনি এই শহরের সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।চিঠিতে শুধু মেয়রকেই নয়, কেরল বিজেপির নেতা-কর্মীদের ভূমিকাকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী লিখেছেন, ‘এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কেরল বিজেপির প্রতিটি নেতা ও কর্মীর নিরলস পরিশ্রম। তাঁদের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও ত্যাগের ফলেই এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ভারতের মতো কঠিন রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপির সংগঠনিক লড়াইকে স্বীকৃতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিটি নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন তিরুবনন্তপুরমের মেয়র ভিভি রাজেশ। তিনি লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই স্বীকৃতি কেরলের মানুষের জন্য নববর্ষের এক বিশেষ উপহার। পাশাপাশি এটি কেরল বিজেপির নেতা-কর্মীদের কয়েক দশকের পরিশ্রমের স্বীকৃতিও।’ তাঁর এই পোস্টের পরেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। কেরলের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাম ও কংগ্রেসের আধিপত্য দীর্ঘদিনের। সেই প্রেক্ষাপটে বিজেপির এই জয়কে অনেকেই ‘দ্বারোদ্ঘাটন’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জাতীয় রাজনীতির প্রভাব, এই তিনটি বিষয় মিলেই তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির পালে হাওয়া দিয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারের ফলও এই সাফল্যের নেপথ্যে কাজ করেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

শশী থারুরের কেন্দ্র তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির এই উত্থান কংগ্রেস শিবিরেও নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শশী থারুরের সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। তার মধ্যেই এই পুরনিগম নির্বাচনের ফলাফল সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। বলা যায়-ই যে, তিরুবন্তপুরম পুরনিগমে বিজেপির জয় শুধু একটি শহরের প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং কেরল রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিঠি সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। আগামী দিনে এই সাফল্য কেরলের অন্য শহর ও অঞ্চলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তবে এটুকু নিশ্চিত, ৪৫ বছরের বামদূর্গ ভাঙার এই ঘটনা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi and PM Benjamin Netanyahu discuss strategic partnership | ভারত-ইসরায়েল কূটনীতিতে নতুন গতি: নরেন্দ্র মোদী–নেতানিয়াহুর আলোচনায় জোর সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও শান্তিপ্রক্রিয়ায় সমর্থন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন