সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত এক গুরুতর সমস্যা নিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) রেডিও অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর সাম্প্রতিক রেডিও ভাষণে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তোলায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর (Indian Council of Medical Research- ICMR) ডিরেক্টর জেনারেল ডা. রাজীব বাল (Dr Rajiv Bahl) জানিয়েছেন, এটি এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট, যার দিকে গোটা দেশের নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ডা. রাজীব বাল সতর্ক করেছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক ব্যবহার ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে নিউমোনিয়া (Pneumonia) বা অন্যান্য সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে জীবাণু ধীরে ধীরে সেই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এর ফলে পরবর্তী সময়ে ওই ওষুধ আর কার্যকর থাকে না, রোগ সারাতে আরও শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা শুধু চিকিৎসক বা গবেষকদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক কোনও সাধারণ ওষুধ নয়, যেটি সামান্য সর্দি-কাশি বা জ্বর হলেই খেয়ে নেওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে তা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য তো বটেই, গোটা সমাজের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
আইসিএমআর -এর ডিরেক্টর জেনারেল ডা. রাজীব বাল জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়েই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স একটি ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একদিকে যেমন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের গতি তুলনামূলক ধীর, অন্যদিকে পুরনো ওষুধগুলির কার্যকারিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো জনবহুল দেশে এই সমস্যা আরও গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ আগের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নতুন করে ব্যবহার করছেন, যা একেবারেই অনুচিত। ডা. রাজীব বাল জোর দিয়ে বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত, যখন কোনও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক তা নির্দিষ্টভাবে পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের পর এই বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রয়োজনীয়তা আরও একবার সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতালের উপর দায় চাপালে চলবে না। সাধারণ মানুষকেও জানতে হবে, কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন এবং কখন তা একেবারেই নয়। যেমন ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজই করে না, অথচ বহু মানুষ অযথা এই ওষুধ সেবন করেন। আইসিএমআর দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ে গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। তবুও বাস্তব ক্ষেত্রে তার সঠিক প্রয়োগ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ডা. রাজীব বালের কথায়, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি জাতীয় স্তরে তুলে ধরায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স শুধুমাত্র চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা নয়, এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাও বটে। চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, হাসপাতালে থাকার সময় দীর্ঘ হয় এবং মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পায়। ফলে এই সমস্যা মোকাবিলায় সরকার, চিকিৎসক, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেভাবে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মহল। তাঁর এই বার্তা গ্রাম থেকে শহর, সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছনোর ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মানুষ সচেতনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন, তবে এই বিপজ্জনক প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উল্লেখ্য যে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স আজ ভারতের জন্য একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’-এ এই প্রসঙ্গ উত্থাপন এবং আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল ডা. রাজীব বালের সতর্কবার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সচেতনতা, দায়িত্বশীল ওষুধ ব্যবহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই সংকট মোকাবিলার একমাত্র পথ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Begum Khaleda Zia death, Narendra Modi condolence message | খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর




