Dilip Ghosh Active Politics | ভোটের বছরে বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ, শাহের বার্তায় ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : নতুন বছরের প্রথম প্রহরে বাঙালি যখন আনন্দ, উৎসব আর হইহুল্লোড়ে মেতে উঠেছে, ঠিক তখনই রাজনীতির ময়দানে শুরু হয়ে গিয়েছে আর এক লড়াই। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বছরটাই যে রাজ্য রাজনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা মানছেন সব রাজনৈতিক শিবিরই। বাংলা দখলের এই মহারণে কে এগিয়ে থাকবে, কে পিছিয়ে পড়বে, তার ইঙ্গিত মিলছে বছরের শুরু থেকেই। এক দিকে বিজেপির অন্দরে ফের সক্রিয় হচ্ছেন দীর্ঘদিন নীরব থাকা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), অন্য দিকে এসআইআর বিতর্কের আবহে দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ফলে নতুন বছরের রাজনীতি কোন পথে মোড় নেয়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

গত কয়েক দিন আগেই রাজ্যে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, ভোটের বছরে দলের মধ্যে কোনও বিভেদ নয়, সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক শ্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্য বিজেপির অন্দরে। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পুরনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের ফের কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারই অন্যতম উদাহরণ দিলীপ ঘোষের ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল, রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষকে কেন তেমন ভাবে দেখা যাচ্ছে না দলের কর্মসূচিতে। এক সময় যিনি রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম মুখ ছিলেন, যাঁর আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও সংগঠনিক দক্ষতা দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল, সাম্প্রতিক কালে তিনি ছিলেন অনেকটাই আড়ালে। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতেই সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) -এর সঙ্গে দেখা করতে যান দিলীপ ঘোষ। এই সাক্ষাৎকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, তবে কি তিনি আবার বড় ভূমিকা নিতে চলেছেন?

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee speech, Amit Shah Bengal visit | শাহ-মমতা সংঘাত, পাঁচ খাতে জবাব দিদির, ‘ভাইপো’ খোঁচায় পাল্টা অস্ত্র হলেন শাহ-পুত্র জয়

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, ‘ভোট আসছে, সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। এতদিন কাজ ছিল না। এবার কাজে নামতে হবে। বড় নেতারা সব ঠিক করবেন।’ এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দলীয় নির্দেশ মেনেই তিনি ফের সক্রিয় হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, এতদিন তাঁকে কেন কাজে লাগানো হয়নি, তারও একটি বাস্তব ব্যাখ্যা রয়েছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আগে আমরা মাত্র কয়েকজন নেতা ছিলাম। গত পাঁচ বছরে অনেকে এমএলএ-এমপি হয়েছেন, অন্য দল থেকে আসা নেতারাও দায়িত্ব পেয়েছেন। সবাইকে কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।’ অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বহু দিন বাদে সাংবাদিক বৈঠক করে দিলীপ ঘোষ আরও একবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘দল যেমন চাইবে, তেমন ভাবেই কাজ করব। রাজ্য সভাপতির কথা মেনে চলব।’ একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির অন্দরে আদি ও নব্য নেতৃত্বের কোনও দ্বন্দ্ব নেই। তাঁর মতে, ভোটের আগে দল যদি একজোট থাকে, তবে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তার সুফল মিলবেই। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে চলা জল্পনাকে কার্যত খারিজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

অন্য দিকে, রাজ্য রাজনীতির আর এক বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া। এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা, ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়তে পারে। এই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে কেন্দ্রীয় স্তরে তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে। সেই কারণেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন দিল্লিতে।
দিল্লিতে গিয়ে তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকের পর অভিষেক জানান, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের আপত্তি ও প্রশ্ন নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা, যাতে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না পড়ে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এক দিকে বিজেপি অমিত শাহের বার্তা অনুযায়ী সংগঠনকে চাঙ্গা করতে পুরনো নেতাদের ফের কাজে নামাচ্ছে, অন্য দিকে তৃণমূল এসআইআর ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াচ্ছে। এই দুই কৌশলই ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভোটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নয়। উল্লেখ্য যে, নতুন বছর শুধু ক্যালেন্ডারের পাতা বদলায়নি, বদলাতে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতির চালচিত্রও। দিলীপ ঘোষের ফের সক্রিয়তা বিজেপির কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশলের দিকটি স্পষ্ট করছে। আগামী দিনে এই দুই ধারার রাজনীতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের উপর। আপাতত এতটুকু স্পষ্ট, নতুন বছরের রাজনীতি হবে উত্তপ্ত, সংঘাতপূর্ণ এবং ঘটনাবহুল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Amit Shah Kolkata, West Bengal infiltration issue | কলকাতায় অমিত শাহের কড়া বার্তা: অনুপ্রবেশই বাংলায় বিজেপির প্রধান ভোট-অস্ত্র, সঙ্গে দুর্নীতি-অপশাসনের অভিযোগে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন