সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা ২৫ অক্টোবর ২০২৬: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ (Bay of Bengal Cyclone Update)। সমুদ্রের উপর আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে আগামী সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department)। বুধবারের মধ্যে সেটি উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব শুধু অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতেও ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা ও উপকূলবর্তী এলাকার পরিস্থিতির উপর এখন নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। গত শনিবার দুপুরে প্রকাশিত আবহাওয়ার বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর থাকা নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়েছে। শনিবার সকালে সেটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়। ওই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ঘূর্ণাবর্তটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের পরিস্থিতিতে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন এবং সমুদ্রের উপর পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্পের জোগান থাকলে নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হতে পারে। শনিবারই নিম্নচাপ অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই আবহাওয়া ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক দিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও বাতাসের গতিপ্রকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সোমবার সকালের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তার পরে সেটি কোন পথে এগোবে এবং কতটা শক্তি অর্জন করবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের উপর। ঘূর্ণিঝড়টি বুধবারের মধ্যে উপকূলের কাছে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন সময়ে ও কোন উপকূলবর্তী এলাকায় সেটি স্থলভাগে প্রবেশ করবে, তা নির্ধারণের জন্য পরবর্তী হাওয়া বুলেটিনগুলির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে প্রভাবের ধরন বদলে যেতে পারে। সে কারণে আগাম সতর্কতা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের পরিস্থিতিরও অবনতি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠলে ছোট নৌকা ও মাছ ধরার ট্রলারের পক্ষে নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা মেনে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হলে তা মেনে চলা জরুরি। উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশের উপর নজর রাখা প্রয়োজন।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও এই আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বলে উল্লেখ। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হলে মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি নদী ও মোহনা অঞ্চলে যাতায়াতকারী মানুষেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে নির্দিষ্ট জেলায় কত গতিবেগে হাওয়া বইবে কিংবা কতটা বৃষ্টি হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আবহাওয়া দফতরের হালনাগাদ পূর্বাভাস দেখা জরুরি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব উপকূলের বাইরেও অনুভূত হতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস স্থলভাগে প্রবেশ করলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মেঘের পরিমাণ বাড়তে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি কিংবা ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও তার বিস্তার নির্ভর করবে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান, গতিপথ ও শক্তির উপর। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে পরবর্তী পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দিলে প্রশাসনের তরফে সাধারণত একাধিক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, নিচু এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখার মতো পদক্ষেপ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অপ্রয়োজনে সমুদ্রের কাছে না যাওয়া, ঝোড়ো হাওয়ার সময়ে দুর্বল গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা এবং সরকারি নির্দেশ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্য গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে পাওয়া তথ্য পরবর্তী পর্যবেক্ষণে বদলাতে পারে। নিম্নচাপ যত শক্তিশালী হবে, ততই তার গতিবিধি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে। তাই আগাম আশঙ্কাকে চূড়ান্ত পরিস্থিতি হিসেবে ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনই সতর্কতাকে উপেক্ষা করাও বিপজ্জনক। আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপের ক্রমশ ঘনীভূত হওয়াই আবহাওয়ার প্রধান উদ্বেগ।
সোমবার সকালের মধ্যে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় তৈরি ও বুধবারের মধ্যে উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছনোর পূর্বাভাসকে কেন্দ্র করে আগামী কয়েক দিন গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, স্থলভাগে প্রবেশের সময় ও বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষা করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Putin praises Modi, Modi Ukraine peace efforts | ‘যত দ্রুত সম্ভব সংঘাত শেষ হোক’! মোদীর উদ্যোগে পুতিনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, কী বললেন রুশ প্রেসিডেন্ট?



