সাশ্রয় নিউজ ★ বাঁকুড়া : বাঁকুড়া (Bankura) জেলার তালডাংরা (Taldangra) গ্রামীণ হাসপাতালকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন সহকর্মীর সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হয়েছেন একজন চিকিৎসক, তিনি বর্তমানে ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ বা বিএমওএইচ (BMOH) পদে কর্মরত। নির্যাতিতা ওই হাসপাতালেরই একজন ফিজিওথেরাপিস্ট। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ইতিমধ্যেই জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে তালডাংরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট মহিলা কর্মী। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে কাজের সূত্রে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নির্যাতিতার মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক নাকি তাঁকে বিয়ের আশ্বাস দেন। নির্যাতিতার দাবি, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আমাকে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। বহুবার বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।’ কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে যায় বলে অভিযোগ। চাপ বাড়তেই অভিযুক্ত বিয়ে করতে অস্বীকার করেন, এই অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর নির্যাতিতা তালডাংরা থানায় অভিযোগ জানান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে আইনি ধারায় পদক্ষেপ করা হবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ‘সম্পর্কটি ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে এখন প্রশাসনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁদের বক্তব্য, বিষয়টি ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত ছিল। তবে অভিযোগকারী পক্ষের পাল্টা বক্তব্য, ‘ক্ষমতার অবস্থান থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও প্রভাব খাটানো, এ দু’টির মধ্যে ফারাক আছে। বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত নয়।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্যামল সরেন (Shyamal Soren) জানিয়েছেন, ‘আমার কাছে সরাসরি কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে সংশ্লিষ্ট বিএমওএইচ আমার কাছে কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, প্রশাসন বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।
স্বাস্থ্য দফতরের একাংশের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার বিষয়ও বটে। কারণ, একজন বিএমওএইচ শুধু চিকিৎসক নন, ব্লক স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রশাসনিক প্রধানও। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গোটা ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য ও সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। আদালত এ ধরনের মামলায় প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতা, পারস্পরিক সম্মতির প্রেক্ষাপট এবং প্রমাণের ভিত্তি খতিয়ে দেখে। ফলে তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপ।
তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে চাপা উদ্বেগ রয়েছে। একজন কর্মী বলেন, ‘হাসপাতালের পরিবেশে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই সত্যিটা সামনে আসুক।’ অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আধিকারিকদের আচরণ নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। ঘটনার জেরে প্রশাসনের উপরও চাপ বাড়ছে। মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা প্রতিরোধে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি কতটা সক্রিয়, সেই প্রশ্নও উঠছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত কমিটি দ্রুত রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে অভিযুক্ত চিকিৎসক তাঁর পদে বহাল রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনের এক কর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘রিপোর্টে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হবে।’ উল্লেখ্য, বাঁকুড়ার তালডাংরা গ্রামীণ হাসপাতালে ওঠা এই অভিযোগ স্বাস্থ্য দফতরের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলেছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামোয় জবাবদিহি ও শৃঙ্খলার প্রশ্নও সামনে আনবে। সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় হাসপাতাল চত্বর, আর নজর রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরবর্তী পদক্ষেপে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Somnath Temple Stands Tall After 1000 Years, Tribute by PM Narendra Modi | হাজার বছরেও অটল সোমনাথ, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধায় ইতিহাসের নতুন পাঠ




