সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের (Bangladesh) -এর অর্থনৈতিক কাঠামোয় এক বড় দাগ ধরেছে ব্যাংকিং সেক্টরের ঘাটতি। জুন ২০২৫-এ প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪টি নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে মিলেছে ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার বেশি মূলধনের ঘাটতি, যা গত মার্চে ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার অলিখিত ঘাটতির তুলনায় প্রায় ৪০ % বেশি। এই বিষয়ে একাধিক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, “এই দ্রুত বেড়ে ওঠা মূলধন ঘাটতি ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করছে।”
সাধারণভাবে ব্যাংকগুলোর মধ্যে বড় ধরণের মৃত ঋণ (Non-performing loans: NPL) বাড়ার কারণে নিজেদের সুরক্ষিত পর্যাপ্ত নিবন্ধন ও মূলধন রাখার জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে রিস্ক-ওয়েটেড অ্যাসেট (Risk-Weighted Assets) বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে ছাড়ার বৈধ মূলধনমান বজায় রাখতে কঠিন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
মূল ধ্বংস গঠন করেছে এমন কয়েকটি বিষয়:
- ঘাটতির পরিমাণ এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ শেষে ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতির পর মাত্র তিন মাসে তা ১.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার ওপর চলে গিয়েছে।
- ব্যাংকগুলোর ‘Capital to Risk-Weighted Assets Ratio (CRAR)’ মাত্র ৪.৪৭ %-এ নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সীমার তুলনায় অর্ধেকও নয়।
- ঘাটতির তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বেসরকারি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক, অর্থাৎ সেক্টরের সর্বস্তরের ব্যাংক এই সমস্যার মুখে।
এই সংকটের প্রভাব অর্থনীতিতে তাত্ক্ষণিক ও গভীরভাবে অনুভূত হতে পারে। প্রথমত, ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন সংকট অর্থাৎ আমানতকারীদের জমা রাখা টাকা ও বিনিয়োগকারীদের অনুকূল পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেউলিয়া ব্যাংক বা বাণিজ্যিক সঙ্কটের আশঙ্কা থাকায় আমানতকারীরা অস্থির হয়ে পড়ছেন। দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক অংশীদারদের চোখ এখন ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতার ওপর রয়েছে। একটি বড় ব্যাংকিং সংকট দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়াবে।
তৃতীয়ত, সরকারি অর্থনৈতিক নীতিগুলোকে এখন প্রায় ‘দুর্নীতি ও বিলুপ্ত ঋণ খাতে’ ফেলতে হবে বলেই বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন। এক বিশ্লেষক বলেছেন, “যদি সময়মতো কঠোর সংস্কার না হয়, তাহলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও গভীর সংকটের সম্মুখীন হবে।” সরকার এই সংকট মোকাবেলায় ইতোমধ্যে কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্যাংকগুলোর মূলধন উন্নয়নের জন্য পুনরায় বিনিয়োগ ও মূলধন জোগানোর পরিকল্পনা, মৃত ঋণ পুনর্গঠনের উদ্যোগ, ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা চলমান। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ বলছেন, এসব প্যালিয়েটিভ পদক্ষেপ-মূল সমস্যার- দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা সমাধানে যথেষ্ট নয়।
বাংলাদেশের এই সংকট শুধু দেশি সমস্যা নয়; দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রতিবেশী দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগের কারণে এটি একটি অঞ্চলীয় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে neighbouring দেশ India-এর নজর রয়েছে বাংলাদেশের বেসেস্থিত ব্যাংকিং সেক্টরের ওপর। তবে সংকট নিরসনে বিকল্প পথ রয়েছে: সুসংহত আর্থিক নীতিমালা, নিরপেক্ষ নিয়ম-শাসন, ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের দায়বদ্ধতা এবং দোষী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। এইসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সংকট নিরসনের আশা থাকবে।
ছবি : প্রতিনিধিত্বমূলক ও সংগৃহীত



