Bangladesh vs New Zealand, Women’s World Cup 2025 | বিশ্বকাপে আবার মুখ থুবড়ে পড়ল বাংলাদেশ, ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০০ রানে বড় হার

SHARE:

পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি : বিশ্বকাপে ধারাবাহিক ব্যর্থতা যেন সঙ্গী হয়ে উঠছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের। সুযোগ তৈরি করেও বারবার তা কাজে লাগাতে না পারার এই প্রবণতা এদিনও দেখা গেল গুয়াহাটিতে। তৃতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) কাছে ১০০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেল নিগার সুলতানার (Nigar Sultana) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ভরাডুবিতে আবারও হতাশ হতে হল টাইগ্রেসদের ভক্তদের।

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুরুটা তাঁদের একেবারেই আশানুরূপ হয়নি। মাত্র ৩৮ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। জর্জিয়া প্লিমার (Georgia Plimmer) ৪, সুজি বেটস (Suzie Bates) ২৯ এবং অ্যামেলিয়া কের (Amelia Kerr) ১ রান করে ফিরে যান। একসময় মনে হচ্ছিল ১৫০ রানের গণ্ডিই হয়ত পেরবে না কিউয়িরা। কিন্তু দলের অধিনায়ক সোফি ডিভাইন (Sophie Devine) এবং ব্রুক হ্যালিডে (Brooke Halliday) জুটি গড়ে দলকে ভরসা দেন। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। দু’জনেই অর্ধশত রান তুলে নেন এবং শেষে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তবুও শেষ ১০ ওভারে ৭৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড, যা ম্যাচের গতিপথই পাল্টে দেয়।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন তরুণ স্পিনার রাবেয়া খান (Rabeya Khan)। তিনি মাত্র ৩০ রান খরচ করে তিনটি উইকেট তুলে নেন। নাহিদা আখতার (Nahida Akter) পান একটি উইকেট, তবে রানের দিকে কিছুটা ব্যয়বহুল ছিলেন (১/৪৭)। অন্যদিকে মারুফা আখতার (Marufa Akter) ১/৫৮ নিয়ে হতাশাজনক বোলিং করেন।

৫০ ওভারের ম্যাচে ২২৮ রানের লক্ষ্য ক্রিকেটে অসম্ভব নয়, বিশেষ করে এই পিচে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন আবারও নিজেদের পুরনো দোষে ফিরে গেলেন, চাপে ভেঙে পড়া, ব্যাটিং অর্ডারে অস্থিরতা এবং পার্টনারশিপের অভাব হারের বড় কারণ হয়ে রইল। বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতেই ধস নেমে আসে। টপ অর্ডার ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারে হতাশাজনক। রুবিয়া হায়দার (Rubya Haider) ৪, সারমন আখতার (Sarmon Akter) ৩, নিগার সুলতানা (Nigar Sultana) ৪, শোভনা মোস্তারি (Shobhana Mostary) ২, সুমাইয়া আখতার (Sumaiya Akter) ১ এবং স্বর্ণা আখতার (Shorna Akter) মাত্র ১ রান করে আউট হন। ফলে ৩৩ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষের পথে পৌঁছে যায়। দলের এই পরিস্থিতিতে সামান্য প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ফাহিমা খাতুন (Fahima Khatun) এবং নাহিদা আখতার (Nahida Akter)। সপ্তম উইকেটে ওঁরা ৩৩ রানের জুটি গড়েন। পরে ফাহিমা ও রাবেয়া খান অষ্টম উইকেটে আরও ৪৪ রান যোগ করেন। এই দুই জুটির সৌজন্যে বাংলাদেশ কিছুটা মান বাঁচিয়ে ১২৭ রানে পৌঁছতে সক্ষম হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের মূল সমস্যা থেকেই গেল। যেমন : দায়িত্বহীন ব্যাটিং ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া। উইকেটের অবস্থা ব্যাটারদের পক্ষে থাকলেও কেউ-ই সেট হতে পারেননি। স্ট্রাইক রোটেট করতে না পারা এবং শর্ট বল সামলাতে না পারার ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।নিউজিল্যান্ডের বোলাররা পরিকল্পনা মাফিক বল করেন। ফ্রান জোনাস (Fran Jonas) ৩টি উইকেট নিয়ে ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে দেন। তাঁর সঙ্গে মেলিন্ডা সিসন (Melie Kerr) ও জেস ওয়াটকিন (Jess Watkin) গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পুরো ইনিংস জুড়ে তাদের লাইন-লেন্থ ছিল নিখুঁত, আর বাংলাদেশের ব্যাটাররা কোনও উত্তরই খুঁজে পাননি।

বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা এদিনের ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা ভাল শুরু করতে পারিনি। ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে নিতে পারেনি। আমাদের মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে। প্রতিটি ম্যাচই শিক্ষা।’ অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক সোফি ডিভাইন (Sophie Devine) ম্যাচ শেষে বলেন, ‘বাংলাদেশের বোলিং আমাদের শুরুতে চাপে ফেলেছিল, কিন্তু আমরা পরিকল্পনা মেনে খেলেছি। ব্রুকের (Brooke Halliday) সঙ্গে আমার জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে।’

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সমস্যা এখন মনস্তাত্ত্বিক। অনেকেই বলছেন, ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ও অনভিজ্ঞতা বারবার দলের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠছে। কোচ হাশান তিলকরত্নে (Hashan Tillakaratne) ম্যাচের শেষে বলেন, ‘মেয়েরা চেষ্টা করছে, কিন্তু চাপে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। আমরা এই জায়গায় কাজ করছি। টেকনিক নয়, এখন মানসিক প্রস্তুতি বেশি জরুরি।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের জন্য পরের ম্যাচটা এখন ‘ডু অর ডাই’। এখনও টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব বাকি আছে, কিন্তু টানা পরাজয়ে তাদের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছে। অন্যদিকে, ভক্তরাও হতাশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন, ‘বোলাররা নিয়মিত ভাল করছে, কিন্তু ব্যাটারদের পারফরম্যান্স দেখে লজ্জা লাগছে।’ কেউ কেউ আবার বলেছেন, ‘মেয়েরা যদি একটু দায়িত্ব নিয়ে খেলে, ২২৮ রানের লক্ষ্য অসম্ভব কিছু নয়।’ ক্রিকেট বিশ্লেষক আতহার আলি খান মনে করেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা অনেক উন্নতি করেছে, কিন্তু ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় এখনও পিছিয়ে। এটা শুধু টেকনিক নয়, আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশের পরাজয় শুধু রান-সংখ্যার নয়, মানসিকভাবে যুদ্ধেরও হয়ে থাকল। সুযোগ ছিল ম্যাচে ফিরে আসার, কিন্তু ব্যাটিং ধস ও ভুল সিদ্ধান্তে সেই তাঁরা সম্ভাবনা হারাল। তবুও ফাহিমা, রাবেয়া এবং নাহিদার লড়াই দেখিয়েছে, এখনও আশার আলো নিভে যায়নি। আগামী ম্যাচে পাকিস্তানের (Pakistan) বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। দল যদি টপ অর্ডারের সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে এখনও টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। না হলে আরেকটি হতাশার গল্প অপেক্ষা করছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Richa Ghosh 94, India vs South Africa Women’s World Cup | রিচার ব্যাটে ঝড়, তবু জঘন্য বোলিংয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার ভারতের

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন