প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : বলিউড থেকে অনেকটাই দূরে, আলো-ঝলমলে প্রিমিয়ার বা পার্টিতে তাঁকে আর তেমন দেখা যায় না। বদলে গত কয়েক বছরে বারবার সামনে এসেছে তাঁর আধ্যাত্মিক অনুরাগের খবর। সম্প্রতি মুম্বাই বিমানবন্দরে স্বামী বিরাট কোহলি (Virat Kohli) -এর সঙ্গে দেখা গেল অনুষ্কা শর্মাকে (Anushka Sharma)। সাদা সুতির চুড়িদার, স্নিগ্ধ সাজ, চোখে রোদচশমা এসবই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু অনুরাগীদের চোখ আটকে গেল অন্য জায়গায় অভিনেত্রীর গলায় তুলসীর মালা। গত কয়েক মাস ধরেই অনুষ্কার গলায় এই তুলসীমালা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে প্রশ্ন, তিনি কী জীবনযাপনে বড় কোনও পরিবর্তন এনেছেন? আধ্যাত্মিকতার পথে কী আরও কয়েক ধাপ এগোলেন এই তারকা দম্পতি? অনুষ্কার আধ্যাত্মিক ঝোঁক নতুন নয়। বহুবার তাঁকে দেখা গিয়েছে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ (Premanand Maharaj) -এর আশ্রমে। গত বছর ডিসেম্বরেও বিরাটকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান তিনি। সেই সময় তাঁদের মুখে শোনা গিয়েছিল, ‘আমরা দু’জনে আপনাকে স্মরণ করছি, আপনার কাছে নিজেদের সমর্পণ করছি।’ উত্তরে প্রেমানন্দ মহারাজ বলেছিলেন, ‘আমরা সকলে শ্রীজির সন্তান। মাথার উপর একই আকাশের ছাতা। রাধানাম জপ করতে হবে।’

এই ঘটনার পর থেকেই অনেকে মনে করছেন, অনুষ্কা ও বিরাট হয়ত ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক অনুশাসনের পথে হাঁটছেন। তুলসীমালা পরার সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম জড়িত বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। যেমন : আমিষ খাবার, পেঁয়াজ-রসুন, মদ্যপান ত্যাগ করা ইত্যাদি। যদিও এই সব বিষয়ে অনুষ্কা বা বিরাট প্রকাশ্যে কিছু জানাননি। তবু ভক্তদের কৌতূহল থামছে না। অনুষ্কার সাম্প্রতিক বিমানবন্দর লুক নিয়েও আলোচনা কম হয়নি। সাদা রঙের উপর নীল ছাপা সুতির চুড়িদার, হাতে ঘড়ি, চোখে সানগ্লাস অত্যন্ত সরল ও স্বাভাবিক সাজ। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই সরলতার মধ্যেই এক ধরনের সচেতন বার্তা থাকতে পারে, গ্ল্যামার থেকে দূরে, শান্ত জীবনের ইঙ্গিত।’ তবে তা কতটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, কতটা সাময়িক তা এখনও পরিষ্কার নয়।

২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া জ়িরো (Zero) ছবির পর বড় পর্দায় আর দেখা যায়নি অনুষ্কাকে। সেই ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। তার পর থেকেই অভিনয়জগৎ থেকে তিনি ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। প্রযোজনা সংস্থার কাজ ও পারিবারিক জীবনে বেশি সময় দিতে শুরু করেন। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিনি কী চিরতরে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন? অন্য দিকে, বিরাট কোহলিও সাম্প্রতিক সময়ে আধ্যাত্মিক চর্চার কথা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, ধ্যান এবং ইতিবাচক চিন্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে তাঁকে। ক্রিকেটের চাপ সামলাতে আধ্যাত্মিকতার আশ্রয় নিচ্ছেন কি না, সে প্রশ্নও উঠছে। কিন্তু অনুষ্কা বা বিরাট কেউই এখনও তাঁদের জীবনযাপনে নির্দিষ্ট কোনও পরিবর্তনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি। ফলে সবটাই আপাতত জল্পনা। অনুরাগীদের একাংশ বলছেন, ‘তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।’ আবার অন্যদের মতে, ‘তারকারা যখন প্রকাশ্যে আধ্যাত্মিকতার বার্তা দেন, তখন তা স্বাভাবিক ভাবেই আলোচনায় আসে।’

বলিউডে যেখানে প্রতিনিয়ত গ্ল্যামার, প্রচার ও প্রতিযোগিতার চাপ, সেখানে অনুষ্কার এই শান্ত ও সংযত উপস্থিতি আলাদা করে চোখে পড়ছে। তিনি কি নতুন কোনও জীবনের অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন? নাকি সাময়িক ভাবেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন?

একটি বিষয় সাফ যে অনুষ্কা ও বিরাট তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে চান। তবু জনমানসে তাঁদের জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে ছোট্ট পরিবর্তনও বড় আলোচনার জন্ম দেয়। তুলসীমালার এই উপস্থিতি হয়তো কেবল আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতীক, আবার হয়তো জীবনের নতুন দিশার ইঙ্গিত। এই উত্তর আপাতত অমীমাংসিত। তবে গলায় তুলসীমালা ও সাদা সরল সাজে অনুষ্কার সাম্প্রতিক উপস্থিতি প্রমাণ করছে, তিনি আগের মতোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, শুধু আলো বদলেছে, মঞ্চ বদলেছে। গ্ল্যামার থেকে আধ্যাত্মিকতার পথে এই যাত্রা কত দূর যাবে, তা সময়ই বলবে।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Chota Chiku fan, Kohli | মাঠে ‘ছোটা চিকু’ দেখে থমকে গেলেন বিরাট! রোহিতকে ডেকে নিজের শৈশব দেখালেন কোহলি, উচ্ছ্বসিত আট বছরের গর্বিত



