সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বসিরহাট : বসিরহাটের হাসনাবাদে অঙ্গনওয়াড়ি চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে ১৫ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল ঘোলাপাড়া এলাকা। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী বিশাখা জানার (Bishakha Jana) বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগ। দাবি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকায় একাধিক মহিলার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও তিনি নাকি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। উল্টে এখন তাঁর কোনও খোঁজই মিলছে না। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিশাখার বাড়ির সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতারিত মহিলারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, হাসনাবাদের বিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোলাপাড়া এলাকার ১২৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কর্মরত বিশাখা বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে দাপট দেখাতেন। অভিযোগ, তিনি দাবি করতেন, নিজের ‘উচ্চমহলের যোগাযোগ’ -এর জোরেই নাকি অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি পাইয়ে দেওয়া সম্ভব। এই ফাঁদে পড়ে এলাকার বহু মহিলা ভরসা করেছিলেন তাঁর উপরে। বিশেষ করে যারা আর্থিক সঙ্কটে ভুগছিলেন বা দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী চাকরির খোঁজে ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকেই বিশাখা নাকি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন। অভিযোগ, বিশপুর এলাকার সাত জন মহিলার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিজনের কাছ থেকে ১ থেকে ৩ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে বিশাখা তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে চলে আসবে। কিন্তু সময় গড়িয়ে যেতে থাকে, আর নিয়োগপত্র আসে না। বার বার তাঁকে ফোন করা হলেও সঠিক উত্তর মিলত না। কখনও তিনি বলতেন, ‘প্রক্রিয়া চলছে’, কখনও আবার, ‘উচ্চ দফতর থেকে সাইন বাকি’। ধীরে ধীরে প্রতারিত মহিলারা সন্দেহ করতে শুরু করেন।
অভিযোগকারীদের কথায়, টাকার জন্য তাগাদা দিতে গেলে বিশাখা নানা অজুহাত দিতে শুরু করেন। কখনও অসুস্থতার কথা, কখনও পারিবারিক সমস্যার কথা বলে সময় চান। এরপর এক সময় দেখা যায়, তিনি পুরোপুরি যোগাযোগ এড়িয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশীরাও নাকি জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিন ধরে বিশাখাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন প্রতারিত সাত মহিলা ও তাঁদের পরিবার। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা বিশাখার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, ‘টাকা ফেরত দাও’, ‘প্রতারককে গ্রেফতার করো’, ‘গরিব মানুষের টাকা মাপ নয়’ এরকম নানা লেখা স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে ঘোলাপাড়া এলাকা। প্রতারিত এক মহিলা বলেন, “বিশাখা দিদি বলেছিলেন, চাকরি নিশ্চিত। শুধু টাকার দরকার। আমরা বিশ্বাস করে জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছি। এখন বুঝতে পারছি, আমাদের ঠকানো হয়েছে।” আরেকজনের অভিযোগ, “আমার স্বামীর অসুস্থতার জন্য বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করেছিলাম। সবটাই নষ্ট হয়ে গেল।” বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশাসন অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে তাঁদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করুক। একজন মহিলা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “বিশাখা পালিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের টাকা তো গেছে! আমরা কি চুপ করে বসে থাকব? পুলিশকে বলব, প্রশাসনকে বলব, এই প্রতারণার বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী হয়ে এমন প্রতারণা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এর পিছনে হয়ত কোনও বড় চক্র কাজ করছে। যদি সত্যিই কোনও চক্র থাকে, প্রশাসনের উচিত তার খোঁজ নেওয়া। এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। একজন প্রতিনিধি বলেন, “যদি সত্যিই কোনও কর্মী চাকরির নামে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ প্রতারিত হলে আমরা চুপ থাকতে পারি না।” পুলিশও ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অভিযুক্ত বিশাখা জানা এখনও পলাতক। তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত তিন-চারদিন ধরে তিনি বাড়িতে নেই। তবে তিনি কোথায় গেছেন, তা কেউই বলতে পারছেন না। এদিকে প্রতারিত মহিলাদের দাবি, তাঁরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না। টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁদের কথায়, “চাকরি না হোক, টাকা ফেরত দিক। আমরা টাকার জন্য মরেছিলাম। এখন সেই টাকাই নেই।” উল্লেখ্য, চাকরির লোভে, ভরসার আশ্রয়ে, আর্থিক চাপে পড়ে মানুষ প্রতারিত হন, এমন ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ এলাকায় গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশ তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং অভিযুক্তকে কত দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma leadership, Gambhir reaction | রাঁচীর রাতের নায়ক রোহিত! গম্ভীরের সামনে মাঠে ফের ‘নেতা’ হয়ে উঠলেন শর্মা




