সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটে তারকাদের সাফল্য, মাঠের পারফরম্যান্স এবং দলের অন্দরের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তবে এবার জাতীয় দলের প্রাক্তন স্পিনার অমিত মিশ্রের (Amit Mishra) একটি পুরনো অভিজ্ঞতা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ফিট হয়ে ফিরলে তাঁকে আবার জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস পেয়েছিলেন মিশ্র। কিন্তু সেই আশ্বাস শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি বলেই দাবি করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Virat Kohli 2027 World Cup | বিশ্বকাপে রোহিত-কোহলি? বয়স নয়, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে
শুধু তাই নয়, ফিট হয়ে ফেরার বিষয়ে যোগাযোগ করার পর কোহলি নাকি তাঁর ফোনও ধরেননি। উত্তর মেলেনি বার্তারও। দীর্ঘ দিন পর নিজের ক্রিকেটজীবনের সেই সময় নিয়ে মুখ খোলায় বিষয়টি ঘিরে ক্রিকেটমহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভারতের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর প্রায় ন’বছর কেটে গিয়েছে মিশ্রের। অথচ তাঁর দাবি, দেশের হয়ে সেই ম্যাচটিই যে শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে, তা তিনি তখন বুঝতে পারেননি। চোটের কারণে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, সুস্থ হয়ে উঠলে আবার জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার সুযোগ পাবেন। সেই প্রত্যাশার পিছনে ছিল তৎকালীন দলের কোচ অনিল কুম্বলে (Anil Kumble) ও অধিনায়ক কোহলির আশ্বাস। কিন্তু বাস্তবে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন আর হয়নি। একসময় ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করা এই স্পিনারের বক্তব্য, তাঁর ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, তা নিয়ে আজও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন অমিত মিশ্র। সেই ম্যাচেই চোট পান তিনি। তখন ভারতীয় দলের কোচ ছিলেন অনিল কুম্বলে ও অধিনায়কত্বের দায়িত্বে ছিলেন বিরাট কোহলি। চোট পাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই মিশ্রের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সুস্থ হওয়ার পরে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ মিলবে কি না। দলের বাইরে চলে যাওয়ার আগে তিনি কোচের সঙ্গে কথা বলেন। কুম্বলে তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, চোট সারিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠলে আবার দলে ফেরার সুযোগ পাবেন। একই ধরনের আশ্বাস পেয়েছিলেন কোহলির কাছ থেকেও বলে জানিয়েছেন মিশ্র। সম্প্রতি আকাশ চোপড়ার (Aakash Chopra) পডকাস্টে নিজের ক্রিকেটজীবনের এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার। সেখানে তিনি জানান, বেঙ্গালুরুতে চোট পাওয়ার পরে দল ছেড়ে যাওয়ার সময় কুম্বলের কাছে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। মিশ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কুম্বলে তাঁকে উদ্বিগ্ন না হতে বলে জানিয়েছিলেন, ফিট হয়ে উঠলেই দলে ফেরার সুযোগ আসবে। কোচের এই আশ্বাসে তিনি আশা পেয়েছিলেন। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়া নতুন কিছু নয়। ক্রিকেটারেরা সুস্থ হয়ে আবার দলে ফিরে আসেন। তাই মিশ্রও ভেবেছিলেন, তাঁর ক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে।
কুম্বলের সঙ্গে কথা বলার পর কোহলির কাছেও নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন। মিশ্রের দাবি, অধিনায়কও তাঁকে জানিয়েছিলেন, পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠলে দলে ফেরার বিষয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। এই কথার ভিত্তিতেই তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন, চোট সারিয়ে মাঠে ফিরলে জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য আবার খুলতে পারে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল খুঁজে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মিশ্র। তাঁর কথায়, ফিট হয়ে ওঠার পরে কোহলির সঙ্গে আবার তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, সেই সময়ে তাঁর দলে ফেরার মতো পরিস্থিতি রয়েছে কি না। মিশ্রের দাবি, কোহলি তাঁকে সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে জানাবেন বলে জানিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনও উত্তর আসেনি। এক সপ্তাহ থেকে দু’সপ্তাহ, তার পরে তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও অপেক্ষার অবসান হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সাড়া পাননি। পাঠানো বার্তারও কোনও উত্তর মেলেনি।
পডকাস্টে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিশ্র বলেন, ‘কোহলিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এখন ফেরার মতো পরিস্থিতি আছে কি না। কোহলি বলেছিল ৭-১০ দিনের মধ্যে জানাবে। এক সপ্তাহ, দু’সপ্তাহ, তিন সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছিল। কোনও উত্তর আসেনি। ও-আমার ফোনও তোলেনি। বার্তার জবাব দেয়নি।’ তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানতে তিনি বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার পরেও নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট উত্তর পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। মিশ্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর দাবি, চোটের কারণে জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর অন্য ক্রিকেটারেরা সুস্থ হয়ে দলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর নিজের ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি। যদিও চোটের পর প্রত্যেক ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তন নির্ভর করে ফিটনেস, দলের প্রয়োজন, নির্বাচকদের পরিকল্পনা ও প্রতিযোগিতার পরিস্থিতির মতো একাধিক বিষয়ের উপর, মিশ্রের অভিযোগের মূল জায়গাটি হল, তাঁকে ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে সেই বিষয়ে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিজ্ঞতায়, দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগের অভাবই সবচেয়ে হতাশাজনক হয়ে উঠেছিল।
ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘ দিন ধরে খেলা মিশ্রের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে একাধিক উত্থান-পতন ছিল। স্পিনার হিসেবে তিনি জাতীয় দলের হয়ে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ পেয়েছেন। তবে ২০১৭ সালের ইংল্যান্ড ম্যাচের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফেরা হয়নি। সেই সময়ের চোটের পর তাঁর কেরিয়ার কী ভাবে এগোবে, তা নিয়ে তিনি যে আশাবাদী ছিলেন, বর্তমান বক্তব্যে তা বোঝা যায়। তাঁর দাবি, কোচ ও অধিনায়কের কাছ থেকে পাওয়া আশ্বাস সেই প্রত্যাশাকে আরও জোরদার করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ না আসায় তাঁর মনে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে। অবশ্য মিশ্রের এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোহলির সিদ্ধান্ত বা তাঁর যোগাযোগ না করার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য সামনে আসেনি। জাতীয় দলে কোনও ক্রিকেটারকে ফেরানোর বিষয়টি একজন অধিনায়কের একক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয় না। নির্বাচক, দলের কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়ের ফিটনেস ও দলের কৌশলগত প্রয়োজন, সবই সেখানে ভূমিকা পালন করে। ফলে মিশ্রের বক্তব্যে যে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে, তার পাশাপাশি সেই সময়কার দল নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কোহলির পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
কিন্তু, প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের পরিবেশে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিতে পারে। চোটের কারণে দল থেকে বাদ পড়া একজন ক্রিকেটারের কাছে সুস্থ হয়ে ফেরার প্রত্যাশা স্বাভাবিক। সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তাও পেশাদার ক্রিকেটের অংশ। কিন্তু ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া বা বারবার যোগাযোগ করেও উত্তর না পাওয়ার অভিজ্ঞতা একজন খেলোয়াড়ের কাছে হতাশাজনক হতে পারে। মিশ্রের অভিযোগ সেই ব্যক্তিগত হতাশার কথাই সামনে এনেছে। অমিত মিশ্রের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর আলোচনার কেন্দ্রে চোটের পর দলে ফেরার আশ্বাস ও পরবর্তী যোগাযোগের অভাবও আছে। ২০১৭ সালের বেঙ্গালুরু ম্যাচের পর যে পর্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে এত দিন পরে মুখ খুলে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন এই স্পিনার। তাঁর অভিযোগ, ফিট হয়ে উঠলে ফেরানো হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, অথচ পরে সেই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আর কোনও উত্তর পাননি। জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে তাঁর আক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সেই অসমাপ্ত যোগাযোগের ঘটনাও। এখন এই অভিযোগ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা কত দূর গড়ায়, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Anushka Sharma Homeopathy Controversy, Liver Doc Reaction Viral | হোমিওপ্যাথি নিয়ে পোস্টে বিতর্কের কেন্দ্রে অনুষ্কা! ‘জলের ওষুধ’ মন্তব্যে পাল্টা কটাক্ষ, উত্তপ্ত নেটদুনিয়া



