সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : ২০২৭ সালের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে রোহিত শর্মা (Rohit Sharma) ও বিরাট কোহলির (Virat Kohli) জায়গা হবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেটমহলে আলোচনা অব্যাহত। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই অভিজ্ঞ তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মনহাস (Mithun Manhas)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত ফিটনেস ও পারফরম্যান্সকে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেই দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না, আবার বয়স বেড়েছে বলেই তিনি কাউকে বাদ দেওয়ার পক্ষেও নন। মাঠে ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স এবং শারীরিক সক্ষমতাই হওয়া উচিত নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি।
২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলের পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কোন ক্রিকেটাররা সেই প্রতিযোগিতায় খেলবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচক কমিটি ও দলের কোচের সিদ্ধান্তের উপর। ফলে রোহিত ও কোহলির বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। তবে বোর্ড সভাপতির বক্তব্যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য সম্ভাবনার দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং ধারাবাহিকভাবে রান করা এবং ফিটনেস ধরে রাখার উপরেই তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘স্পোর্টস্টার’-কে (Sportstar) দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মিঠুন মনহাস জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের দল নিয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করার সময় আসেনি। তাঁর কথায়, ‘বিসিসিআইয়ের হয়ে বলতে পারি, এখনও এই বিষয়ে কিছু বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কারণ, বিশ্বকাপে কারা খেলবে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচক কমিটি ও কোচের। কিন্তু আমি একটা কথা বলতে পারি। বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার প্রধান শর্ত ফিটনেস ও পারফরম্যান্স হওয়া উচিত। বয়স নয়।’
বোর্ড সভাপতির এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট। কারণ, রোহিত ও কোহলি দু’জনেই ভারতীয় ক্রিকেটের অভিজ্ঞ মুখ। দীর্ঘদিন ধরে দেশের হয়ে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন ক্রিকেটারের ফিটনেস, ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় দল গঠনের সময় নির্বাচকদের সামনে থাকে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরি করা, দুই দিকই বিবেচনা করতে হয়। মিঠুনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রে বয়সকে একমাত্র মাপকাঠি করা উচিত নয়। কোনও ক্রিকেটার যদি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকেন ও ধারাবাহিকভাবে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারেন, তা হলে তাঁর বয়স নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নেই। বোর্ড সভাপতির কথায়, ‘যদি কারও ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা না থাকে ও সে ভাল খেলে দেশকে জেতায়, তা হলে তো অন্য কোনও দিকে তাকানোরই প্রয়োজন নেই।’
এই বক্তব্য থেকেই রোহিত ও কোহলিকে ঘিরে চলা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। কিন্তু বোর্ড সভাপতি তাঁদের বিশ্বকাপ দলে রাখার নিশ্চয়তা দেননি। তিনি যে নীতির কথা বলেছেন, তা সব ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে দুই তারকার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ভূমিকা পালনের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেটে রোহিত ও কোহলির ভূমিকা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে একদিনের ক্রিকেটে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের ব্যাটিংকে শক্তিশালী করেছে। বড় ম্যাচে চাপ সামলানো, ইনিংসের গতি নিয়ন্ত্রণ করা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের ধরন বদলানোর ক্ষেত্রে দু’জনেরই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় এই অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগতে পারে। তবে অতীতের সাফল্যই ভবিষ্যতের দলে জায়গা নিশ্চিত করে না। নির্বাচকদের কাছে বর্তমান ফর্ম এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ধারাবাহিক অবদানই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিরাট কোহলির ফিটনেস বরাবরই আলোচনায় থাকে। মাঠে তাঁর তৎপরতা, দ্রুত রান নেওয়ার ক্ষমতা ও ফিল্ডিংয়ে সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে খেলার পরেও শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি যে পরিশ্রম করেন, তা ক্রিকেটমহলে পরিচিত। তবে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের সময় তাঁর ফর্ম ও ফিটনেস কেমন থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আগামী দিনের ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্সই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।
অন্য দিকে, রোহিত শর্মাও নিজের ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক গঠন ও প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় দলের হয়ে এক দিনের ক্রিকেটে তাঁর অধিনায়কত্ব এবং ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। ওপেনার হিসেবে শুরুতেই বড় রান করার পাশাপাশি দীর্ঘ ইনিংস খেলার ক্ষমতাও তাঁর অন্যতম শক্তি। তবে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের দলে জায়গা ধরে রাখতে হলে তাঁকেও নিজের ফিটনেস ও ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। শুধু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নয়, তাঁকে মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায়। প্রতিযোগিতার আগে ভারতীয় দলকে দীর্ঘ পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কোন ক্রিকেটার কোন ভূমিকায় খেলবেন, ব্যাটিংয়ের গভীরতা কতটা থাকবে, পেস ও স্পিন আক্রমণের ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে? এ ধরনের একাধিক বিষয় দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে। এই পরিকল্পনার মধ্যেই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জায়গা নির্ধারিত হবে তাঁদের বর্তমান পারফরম্যান্স এবং দলের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে মিঠুন মনহাসের বক্তব্য নির্বাচকদের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল বেছে নেওয়ার দায়িত্ব নির্বাচক কমিটি ও কোচের। ফলে তাঁর মন্তব্যকে রোহিত ও কোহলির জন্য সরাসরি সবুজ সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং বোর্ডের অবস্থান হিসেবে এটুকু বলা যায়, বয়সের কারণে কাউকে আগেভাগে বাতিল করার বদলে তাঁর ফিটনেস ও পারফরম্যান্স বিচার করা উচিত। এখন নজর থাকবে আগামী দিনে একদিনের ক্রিকেটে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির পারফরম্যান্সের দিকে। তাঁরা কতটা ধারাবাহিকভাবে রান করেন, শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন কি না ও দলের পরিকল্পনায় নিজেদের কতটা কার্যকর করে তুলতে পারেন, তার উপরেই নির্ভর করবে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপে তাঁদের সম্ভাবনা। আপাতত বোর্ড সভাপতির বক্তব্যে বয়সের চেয়ে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই উঠে এসেছে। বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেতে হলে দুই তারকাকেও সেই মাপকাঠিতে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shubman Gill 223, Rohit Sharma 101 | শুভমন গিলের ২২৩-এ মুগ্ধ রোহিত, ‘২০০ রান তো রোজ হয় না’, জয়ের কৃতিত্ব সতীর্থকে দিলেন গিল




