Suvendu Adhikari, Delhi Visit | পুজো উদ্বোধনের ব্যস্ততার মাঝেই দিল্লি যাচ্ছেন শুভেন্দু! কলকাতা-হাওড়ার পুরভোট ঘিরে কি বড় কৌশল বৈঠক?

SHARE:

দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের কর্মসূচীর মাঝে শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: দুর্গাপুজোর উদ্বোধন ঘিরে রাজ্য জুড়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচী। তারই মধ্যে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় একাধিক পুজোর উদ্বোধন করার পর রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা তাঁর। একই রাতে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সংক্ষিপ্ত সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই ও ভোটের কৌশল নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও আলোচনা হতে পারে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদিও দিল্লি সফরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানাননি শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে আয়োজিত ব্রিক্‌স (BRICS) সংক্রান্ত নৈশভোজের কর্মসূচীতে যোগ দিতেই তিনি রাজধানীতে যাচ্ছেন। ফলে সফরের আনুষ্ঠানিক কারণ সামনে এলেও এর পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা থামেনি।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari Birsingha Tourism Centre | Vidyasagar Birthplace : বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহে বড় পরিকল্পনা, পর্যটন থেকে গবেষণা, ঘাটালের জন্য একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

দুর্গাপুজোর মরসুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজোর উদ্বোধন রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হয়ে উঠেছে। শুভেন্দুও রবিবার থেকে কলকাতা এবং জেলার একাধিক পুজো মণ্ডপে উপস্থিত হচ্ছেন বলে সূত্রে উল্লেখ। মঙ্গলবার তাঁর কর্মসূচীতে রয়েছে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা। প্রথমে রানাঘাটের চারের পল্লীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কথা তাঁর। এর পর কল্যাণীর নাইন-এ পার্কের পুজো মণ্ডপে যাবেন তিনি। দিনের পরের কর্মসূচিতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় গাঁধীপল্লি বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানগুলি শেষ করে কলকাতায় ফিরে দমদম বিমানবন্দর থেকে দিল্লির বিমান ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে একদিকে উৎসবের কর্মসূচি, অন্যদিকে রাজধানীতে নির্ধারিত অনুষ্ঠান, দুইয়ের মধ্যে সময়ের সমন্বয় করেই সফর সাজানো হয়েছে। পুজোর উদ্বোধনের পর নিজের দিল্লি যাত্রা নিয়ে শুভেন্দু জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফে ব্রিক্‌সের একটি ডিনার মিটিং আছে। বিকেলে যাব। রাতেই ফিরে আসব।’ তাঁর এই বক্তব্যে সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির কথা উঠে এলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা রাজনৈতিক বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে বড় নির্বাচন সামনে থাকলে নেতৃত্বের মধ্যে সাংগঠনিক আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সেই কারণেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটকে ঘিরে দিল্লির সফর নিয়ে নানা সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। যদিও কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।

এদিকে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বাড়ার অন্যতম কারণ, এই দুই শহরের রাজনৈতিক গুরুত্ব। কলকাতা রাজ্যের রাজধানী ও প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অন্য দিকে, হাওড়াও শিল্প, পরিবহণ ও নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই দুই পুরসভায় ভোট হলে তা রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। নাগরিক পরিষেবা, পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট এবং শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, পুরভোটে সাধারণত এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে দলগুলিকে শুধু রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক প্রচার নয়, স্থানীয় সমস্যার ভিত্তিতেও ভোটের পরিকল্পনা সাজাতে হয়। বিজেপির ক্ষেত্রেও এই দুই শহরে সংগঠন মজবুত করা, ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on 3.10 Lakh Banned Cough Syrup Bottles Destroyed at Eco Park | Suvendu Adhikari : ইকো পার্কে ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস! নেশার বিরুদ্ধে ফের বড় অভিযান, যুবসমাজ নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর

সূত্রের দাবি, নভেম্বর মাসে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই সময়সূচিকে চূড়ান্ত বলে ধরা যাবে না। পুরভোটের প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক দলগুলির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সংগঠনের শক্তি, ওয়ার্ডের সমীকরণ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা এবং নাগরিক সমস্যার ওপর প্রচার। ভোটের আগে নেতৃত্বের বৈঠক হলে সেই আলোচনায় কোন এলাকায় কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কী ভাবে প্রচার চালানো হবে এবং স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় কী ভাবে বাড়ানো যায়, এমন বিষয় উঠে আসতে পারে। তবে শুভেন্দুর দিল্লি সফরে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি শুভেন্দুর সফরের সময়সূচীও নজর কেড়েছে। মঙ্গলবার রাতেই কলকাতায় ফিরে বুধবার মুর্শিদাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে কয়েকটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কর্মসূচি রয়েছে বলে সূত্রে জানা গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক সমীকরণও বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে আটটিতে জয় পেয়েছিল বিজেপি। পাশাপাশি রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার (Shakharov Sarkar) জয়ী হয়েছেন। বিধানসভা উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামেও ব্যাপক লিড দিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

দুর্গাপুজোর মতো বড় সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের জনসংযোগও বাড়ে। পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্যোক্তা এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে উপস্থিতির মাধ্যমে রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা যায়। শুভেন্দুর মঙ্গলবারের কর্মসূচীতে নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুজো রয়েছে, আর পরের দিন মুর্শিদাবাদ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে পুজোর কর্মসূচীর পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকেও আলোচনায় আসছে। তবে কোনও পুজো উদ্বোধনকে সরাসরি নির্বাচনী প্রচার হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখন সকলের লক্ষ্য থাকবে দিল্লি সফর শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কী জানান এবং কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়ে বিজেপির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও বৈঠক হলে তার আলোচ্য বিষয়, সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত শুভেন্দুর ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী, মঙ্গলবার পুজো উদ্বোধনের পর দিল্লি যাত্রা এবং রাতে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য দিকে, পুরভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উৎসবের মরসুমে জনসংযোগের কর্মসূচী ও নির্বাচনের প্রস্তুতি এই দুই ক্ষেত্রেই আগামী কয়েক দিন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর থাকবে।

ছবি: সংগৃহীত 

আরও পড়ুন : Rabi Season Fertiliser Stock India | রবি মরশুমে বড় স্বস্তি কৃষকদের, দুই বছরের সর্বোচ্চ সারের মজুত দেশে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন