“অনেক অভিভাবক মনে করেন, সরকারি চাকরি পেতেই স্কুলে পড়া। এই ধারণায় বদল আনতে হবে।” : অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : শিক্ষা সম্পর্কে একটি বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেছে ‘প্রথম ‘ নামে বেসরকারি সংস্থা। গতকাল পশ্চিমবঙ্গ বাঙলা আকাদেমি-তে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সহ বিশিষ্ট জন। প্রথম-এর সিইও রুক্সিনী বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যান দেন, ” সরকারি স্কুলে কোভিড সিচ্যুয়েশনের পরেও ভর্তির প্রবণতা বেড়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতেও বেড়েছে ভর্তির প্রবণতা। তিনি জানান, “দক্ষিণ ভারতের স্কুলগুলিতে ভর্তির সঙ্গে স্কুলে উপস্থিতির হারের সাযুজ্য বেশি। উত্তর ও পূর্ব ভারতের স্কুলে সেই ফারাক রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকে পড়ুয়াদের শেখার মান সর্বভারতীয় স্তরে বেশ খারাপ। পশ্চিমবঙ্গেও তা সন্তোষজনক নয়। সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়াদের মধ্যে সরকারি স্কুলে পড়ার প্রবণতা বেশি। এ ক্ষেত্রে রাজ্য শীর্ষে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে টিউশন নেয় ৭৮.২% পড়ুয়া। গৃহশিক্ষকদের উপরে নির্ভরতা বিহারে ৭১.১%।” রুক্সিনীর রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁর বক্তৃতায় বলেন,”‘সারা দেশে শিক্ষায় আমরা যে এগিয়ে, তা আবার প্রমাণিত হল। তবে করোনা পরবর্তীকালে পড়ুয়াদের শেখার বিষয়ে একটা ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতিও আমাদের সরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা দ্রুত মিটিয়ে দেবেন।” তবে এই রিপোর্ট-এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, রাজ্যের শিক্ষিত মহল। তাঁদের মত, রাজ্যে অনেক সরকারি স্কুলই শিক্ষকের অভাবে ভুগছে। শিক্ষায় দুর্নীতির দায়ে জেল খাটছেন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষাক্ষেত্রের বেশ কিছু আধিকারিক। উল্টো দিকে, হবু শিক্ষকরা দিনরাত এক করে আন্দোলনরত। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অনুষ্ঠানে বলেন, “অনেক মা-বাবা মনে করেন, তাঁদের সন্তান সরকারি চাকরিই যদি না পায়, তা হলে পড়াশোনা করে কী লাভ? কিন্তু সারা পৃথিবীতে দেখা গিয়েছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পরে যে উপার্জন করা সম্ভব, দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়লে তার থেকে বেশি উপার্জন করা যায়। সব স্তরেই শিক্ষার মূল্য আছে। তিনি আরও বলেন, “অনেক অভিভাবক মনে করেন, সরকারি চাকরি পেতেই স্কুলে পড়া। এই ধারণায় বদল আনতে হবে।”




