অনুপ্রাণ অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ‘শিক্ষিত’ সমাজের মানুষদের
সাশ্রয় নিউজ ★ মুর্শিদাবাদ : ওরা ভাবে যা, করেও তাই। তা-ই ওরা উদ্যোমী। সামাজিক। ওঁদের কেউ কেউ সায়েন্স নিয়ে পড়ছে, কেউ আর্টস নিয়ে। কেউ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রী। পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপ। করোনা ভাইরাসের প্রোকোপের জন্য লকডাউনে যখন সকলে মুখে মুখোশ পরে ঘুরছেন, দারিদ্র গলাটিপে ধরেছে মানুষের। কর্মহীন মানুষ। শিশুরা খিদেয় অতিষ্ঠ। ব্যথাতুর মানুষের ছটফট হৃদয়বিদারক। তখন ওঁদের প্রাণের ভেতর সমাজের জন্য কিছু স্ফূরণে জাগে। আত্মার ধ্বনি ছড়িয়ে যায়। না। কারও সাহায্য না। নিজেদের পকেট মানি বাঁচিয়ে সামাজিক কাজ শুরু করেন মাত্র ছ-জন বন্ধু। না শিশুদের পাশে দাঁড়াতে, মানুষের যন্ত্রণা ভাগ করে নিতে কোনও রাজনৈতিক ব্যানারের তলায় দাঁড়াতে হয়নি।
পরিবার পরিজনদের থেকে বাধা আসেনি? কী অকপট স্বীকারোক্তি, একেবারেই না। বরাং তাঁদের সাপোর্ট পেয়েছি। আর আমরা তো আমাদের কাজ অর্থাৎ পড়াশোনা বজায় রেখে এই সমস্ত কাজ করি। হাসতে হাসতে বললেন একজন, দেখুন, ইচ্ছে থাকলে অনেক কিছুই করা যায়। পাশ থেকে একজন বললেন, এই দেখুন আজকে আপনি যে প্রোগ্রামে এসেছেন। এটাতে কোনও আড়ম্বর দেখছেন? না। আমরা আড়ম্বর করে কিছু করতে চাই না। নিজেদের পকেটমানি বাঁচিয়ে এত কিছু করছেন আপনারা, হঠাৎ এমন কাজ কেন করতে গেলেন! চাইলে গ্রুপ বিজনেস বা অন্য কিছু তো করতে পারতেন? এখনকার ছেলে মেয়েদের ভেতর যা ট্রেণ্ড আর কী! অকপট, পাশের বাড়ির শিশুটি যখন শীতে ছটফট করে। কিংবা ক্ষুধার্ত দাদু-ঠাকুমারা যখন খালি গায়ে পেট ধরে বসে থাকে, তখন তাঁদের কী হবে? বা ধরুন, রক্তের জন্য একজন থ্যালাসেমিয়া বা ক্যানসার রোগী হাপিত্যেশ করছেন, তাঁদের কী হবে? আমাদের জীবনে এস্ট্যাবিলিটি আসবে জানি। কেউ এক বা একাধিক কাজের ভেতর ঢুকে যাব! তবু আমাদের সামাজিক কাজ চলবে।
এইসব ছেলে-মেয়েদের সামাজিক উন্নয়নমূলক ভাবনা ও কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত স্থানীয় মানুষজনও। শিবপদ মিত্র নামে একজন বললেন, ছেলে মেয়েগুলি কী করছে তাই দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি মহাযজ্ঞ। এঁদেরই এক সদস্যর পিতৃপ্রয়াণ বার্ষিকী। মহা ধুমধাম করে পরিবারের লোকজনকে আত্মীয়স্বজনদের, প্রতিবেশীদের ডেকে খাওয়াতেই পারতেন। কিন্তু কী করলেন ওই পরিবার, নিজেরা নয়, শিশু ও দু:স্থ মানুষদের নিজেদের মতো করে তৃপ্তি করে খাওয়ালেন। এই কাজ অন্যদেরও পথ দেখাবে বৈকী।

অনুপ্রাণ সংগঠনের অন্যতম কর্ণধার, প্রণব কুণ্ডু বললেন, আমাদের একটি স্কুল চলে। সেখানে বাচ্চাদের সুস্থ্য ও সুন্দরভাবে পাঠদান করা হয়। ওখানে দু’জন দাদা দিদি পড়ান। আমরাও যাই। তাছাড়া প্রায়ই কোনওনা কোনও প্রোগ্রাম থাকেই। এখন আমাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬০ জন।
উল্লেখ্য, বহরমপুর গান্ধী কলোনীতে ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২ সোমবার খাবার বিতরণ করল অনুপ্রাণ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছেলে মেয়েরা। প্রতিনিয়ত কাজের পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে দেখে, চোখে মুখে আলোর ঝলক ফুটে উঠেছে অন্যান্য সদস্যদের। সময় যদি সঙ্গে থাকে, মানুষের ভালবাসা যদি সঙ্গে থাকে খুব মসৃণতার সঙ্গে ওঁরা এগিয়ে যেতে পারবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে মনে করছেন শহরের শিক্ষিত সমাজ।




