সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার। স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করে স্বতন্ত্র ‘আয়ুষ দফতর’ (AYUSH Department) গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কল্যাণীতে এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নীতিগতভাবে গৃহীত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ এবং হোমিওপ্যাথি এই সমস্ত বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য আলাদা পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আয়ুষ ব্যবস্থার যে বিস্তার ঘটছে, সেই সুযোগকে রাজ্যে কাজে লাগাতে চাই।’ পাশাপাশি এই নতুন দফতরের নেতৃত্বে একজন দক্ষ প্রশাসনিক আধিকারিককে বসানো হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিধি বাড়ানোর দিকেই ইঙ্গিত করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘স্বাস্থ্য দফতরকে আরও শক্তিশালী করা হবে, পাশাপাশি আয়ুষের জন্য আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রেই আলাদা করে পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (International Yoga Day) পালনের নতুন পরিকল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার থেকে নবগঠিত আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর (Sports Department) যৌথভাবে রাজ্যজুড়ে এই দিনটি পালন করবে। শুধু সরকারি স্তরেই নয়, স্কুল, কলেজ, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO) এবং পুলিশ প্রশাসন, সব ক্ষেত্রেই বৃহৎ পরিসরে যোগ দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ যোগ দিবস পালন করছে। আমরা এতদিন সেই ধারার বাইরে ছিলাম। এবার আমরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেব।’ এই মন্তব্যে রাজ্যের নতুন অবস্থান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুধুমাত্র উদযাপন নয়, এই বছর যোগ দিবস পালনে কঠোর নিয়মাবলীও চালু করা হচ্ছে। আয়ুষ দফতরের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে তবেই যোগাসন করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘যেখানে পাবলিক যোগা হবে, সেখানে অংশগ্রহণকারীদের আগে অন্তত দু’দিন মহড়া দিতে হবে।’ অর্থাৎ, প্রস্তুতি ছাড়া কেউ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।
এছাড়া, এই কর্মসূচীকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রাখার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘কেউ শুধু ছবি তোলার জন্য যোগ দিবসে অংশ নেবেন না।’ এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে প্রশাসন। প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে, আয়ুষ দফতর আলাদা হলে রাজ্যে বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। বর্তমানে বহু মানুষ আয়ুর্বেদ বা হোমিওপ্যাথির মতো পদ্ধতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই ক্ষেত্রগুলির জন্য আলাদা নীতিগত সহায়তা এবং অবকাঠামো এতদিন সীমিত ছিল। নতুন দফতর সেই ঘাটতি পূরণে ভূমিকা নিতে পারে।এছাড়া, যোগচর্চা এবং প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রসার ঘটানোর ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যোগ একটি বড় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর জনসচেতনতা তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিভিন্ন ক্ষেত্রকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার। এখন নজর মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দিকে। অনুমোদন মিললে দ্রুতই নতুন দফতরের কাঠামো, দায়িত্ব এবং কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা হতে পারে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বিকল্প চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর এই উদ্যোগ আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও সামাজিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi cabinet meeting 2026 | মন্ত্রিসভায় মোদীর তিন দিশা: জ্বালানি সঙ্কটের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রশাসন ও ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য সামনে



