সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে জল্পনা উসকে দিল একটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu) -এর ঘরে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। আর সেই সময়েই সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এবং সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে কিছু মতভেদের ইঙ্গিত মিলছিল। বিশেষ করে দলীয় বৈঠকে নেতৃত্বের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই উপস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও স্পিকারের ঘর থেকে বেরিয়ে দুই বিধায়কই দাবি করেছেন, এটি নিছকই ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।’ একই সুরে কথা বলেন সন্দীপন সাহা। তাঁর কথায়, ‘এটা সম্পূর্ণ সৌজন্যের জায়গা থেকে হয়েছে। অন্য কোনও অর্থ খোঁজা ঠিক নয়।’ কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। কারণ, ঘটনাটির সময় ও প্রেক্ষাপট দুই-ই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। গত সপ্তাহেই পুরনো বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার আগে কালীঘাটে দলীয় বৈঠকেও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ফলে এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহকে অনেকেই আলাদা ভাবে দেখছেন না।
স্পিকারের ঘরে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিও আলাদা করে নজর কাড়ছে। যদিও প্রশাসনিক কাজে স্পিকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক নতুন কিছু নয়, তবুও একই সময়ে বিরোধী শিবিরের দুই ‘বেসুরো’ বিধায়কের উপস্থিতি রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্যের সীমায় আটকে নেই। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে বিরোধী দলের আসনে বসে নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি। সেই পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই মতপার্থক্য কতটা গভীর এবং তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
ঋতব্রত ও সন্দীপনের অবস্থান নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের স্পিকারের ঘরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই সময়ে উপস্থিত হওয়া ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে আপাতত প্রকাশ্যে কিছু বলা হচ্ছে না। অন্যদিকে, বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর তরফেও এই ঘটনাকে নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যদিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। বিধানসভা চত্বরের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ সংবেদনশীল। নতুন সরকার, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, সব কিছুই এখন পরিবর্তনের পথে। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে আসছে, ভবিষ্যতে তৃণমূলের ভিতরে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি লুকিয়ে রয়েছে এই ঘটনাতে? যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না, তবুও ঘটনাপ্রবাহ নজরে রাখছেন সকলে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নানা মতামত ঘুরছে। কেউ বলছেন এটি নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ, আবার কেউ মনে করছেন এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল। রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেক সময় ছোট ছোট ঘটনা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। স্পিকারের ঘরে এই সাক্ষাৎ সেই ধরনের কোনও ইঙ্গিত বহন করছে কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার মন্তব্য অনুযায়ী এটি সৌজন্যের সাক্ষাৎ হিসেবেই ধরা হচ্ছে, কিন্তু প্রশ্নের অবসান ঘটেনি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ritabrata Banerjee Suvendu Adhikari meeting | ৪০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎেই বিতর্ক! শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক জল্পনায় কী বললেন ঋতব্রত



