সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : আন্তর্জাতিক অস্থিরতার আবহে দেশের নীতিনির্ধারণে নতুন তৎপরতার ইঙ্গিত মিলল। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর মন্ত্রিসভাকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিশা দিয়েছেন। প্রশাসনিক কাজের গতি বৃদ্ধি, সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কটের জন্য প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ লক্ষ্য, এই তিন বিষয়েই তিনি জোর দিয়েছেন। ছ’দিনে পাঁচটি দেশ সফর সেরে দেশে ফিরে বৃহস্পতিবার প্রথমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এই বৈঠকের একটি বিশেষ দিক ছিল, ২০২৬ সালে এই প্রথম পূর্ণমন্ত্রীদের পাশাপাশি স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার এই বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যৎ রূপরেখা, বিস্তৃত নানা বিষয় উঠে আসে।
সরকারি সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব ভারতের জ্বালানি আমদানিতে পড়তে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই বিকল্প উৎসের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সতর্ক থাকতে বলছে, তাই এখন থেকেই বিকল্প শক্তির ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিতে হবে।’ সেই প্রেক্ষিতে বায়োগ্যাস, সৌরশক্তি এবং অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোয় গতি আনার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি ফাইল যাতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতায় আটকে না থাকে, সে বিষয়ে মন্ত্রীদের সতর্ক করেছেন তিনি। বৈঠকে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই প্রশাসনের মূল শক্তি, দেরি হলে তার প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়ে।’ এই নির্দেশ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আরও দায়বদ্ধতা ও গতিশীলতা আনতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার আলোচনায় উঠে এসেছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টিও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পুনরায় মনে করিয়ে দেন, ২০৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারতকে উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ (Viksit Bharat 2047) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বৈঠকে বলা হয়, ‘এই লক্ষ্য কেবল একটি ধারণা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের অঙ্গীকার।’ এছাড়াও, আগামী ১০ জুন মোদী-৩ (Modi 3.0) সরকারের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে এই প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থনীতির গতি বাড়াতে শিল্প, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে বৈঠকে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়েও সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি তুলে ধরেন। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠকের পর প্রশাসনিক মহলে একটি বার্তা পরিষ্কার, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। জ্বালানি সঙ্কটের সম্ভাবনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, এই তিন ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রেখে এগোতে হবে। সেই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে এই নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের উপর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর যে ইঙ্গিত মিলেছে, তা আগামী দিনের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi tenure record, Indian PM history | ২৪ বছরের রেকর্ড : সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘতম সময়ের রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী, ছাপালেন চামলিংকে



