সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ২০২৭ সালের এক দিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতির ছক সাজাতে শুরু করেছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubman Gill)। আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa), জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং নামিবিয়ায় (Namibia) বসবে ক্রিকেটের মহারণ। তার আগে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ড (New Zealand) সফরকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে ভারতীয় দল। শুধু দ্বিপাক্ষিক সিরিজে জয় নয়, বিশ্বকাপের সম্ভাব্য পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়াও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে অনুশীলন শুরু করেছেন শুভমন। কেন এই সফরকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভারত অধিনায়ক।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় শুভমন জানিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া ও মাঠের পরিবেশের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের নভেম্বরের পরিস্থিতির বেশ কিছু মিল পাওয়া যেতে পারে। সাধারণত ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড কিংবা অস্ট্রেলিয়া (Australia) সফরে গেলে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসে খেলার অভিজ্ঞতা হয়। কিন্তু আগামী বছরের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে। ফলে বছরের এই সময়ের পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা ভারতীয় দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শুভমনের বক্তব্য, বিশ্বকাপের আগে এমন পরিবেশে খেলার সুযোগ পাওয়া দলের প্রস্তুতিতে বাড়তি সুবিধা দেবে। তাঁর মতে, ‘বিশ্বকাপে যে ধরনের পরিবেশের মুখোমুখি হতে হবে, নিউজিল্যান্ডে নভেম্বরের শুরুতে অনেকটা সেই পরিস্থিতিই পাওয়া যাচ্ছে।’ সাধারণত শীতের পরের দিকে বিদেশ সফরে গিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটারেরা যে ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত হন, এবার তার থেকে কিছুটা আলাদা পরিস্থিতিতে খেলার সুযোগ মিলছে। বিশ্বকাপের সময়ের সঙ্গে এই সফরের সময়ের মিল থাকায় এখানকার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রতিযোগিতায় কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন অধিনায়ক।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক তিনটি দেশই ভারতীয় দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন মাঠে বাউন্স ও গতির ভূমিকা থাকে। জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ার মাঠের পরিবেশও উপমহাদেশের উইকেটের থেকে আলাদা। বিদেশের মাটিতে এক দিনের ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হলে শুধু ব্যাটিং বা বোলিংয়ের দক্ষতা থাকলেই চলে না, পরিবেশ ও পিচের চরিত্র বুঝে খেলার অভ্যাসও প্রয়োজন। তাই বিশ্বকাপের প্রায় এক বছর আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের পরিবেশে নিজেদের তৈরি রাখার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় শিবির। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দলের বাকিদের তুলনায় আগেই নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভমন। দলের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আগে নিজের খেলার কয়েকটি দিক নিয়ে আলাদা করে কাজ করতে চেয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে আরও সময় দিতে চেয়েছেন ভারত অধিনায়ক। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাঁর টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা না থাকায় এই সফরের আগে সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে তিনি প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন।
শুভমন জানিয়েছেন, দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে চার-পাঁচটি অতিরিক্ত অনুশীলন পর্বের পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যাটিং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগে চার-পাঁচটি বাড়তি সেশন করতে চেয়েছিলাম। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে। এখানে এসে নিজের খেলার কিছু দিক নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল।’ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা যাচাই করাই ছিল তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য। নিউজিল্যান্ডে এর আগে ভারতীয় এ দলের হয়ে কয়েকটি ম্যাচ খেললেও জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই শুভমনের। ফলে সেখানকার পিচ, বাউন্স ও আবহাওয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচিতি সীমিত। বিদেশের মাটিতে ব্যাটিং করার সময় বলের গতি, অতিরিক্ত বাউন্স এবং সুইংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিউজিল্যান্ডের উইকেটে এই বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়। তাই আগেভাগে পৌঁছে অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের প্রস্তুতিকে তিনি আরও মজবুত করতে চেয়েছেন।
অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের বোলিং শক্তি নিয়েও আশাবাদী শুভমন। নিউজিল্যান্ডের পিচে ভারতীয় পেসারদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সেখানকার উইকেটে পর্যাপ্ত বাউন্স থাকায় দক্ষ জোরে বোলারদের পক্ষে নিজেদের শক্তি কাজে লাগানো সহজ হতে পারে। অংশুল, আকিব, গুরনুর ও অর্শদীপের মতো বোলারদের নাম উল্লেখ করে তাঁদের সামর্থ্যের উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন ভারত অধিনায়ক। শুভমনের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পিচে ভাল বাউন্স রয়েছে। অংশুল, আকিব, গুরনুর কিংবা অর্শদীপ আমাদের পেসাররা দারুণ পারফর্ম করছে। ওদের যে দক্ষতা রয়েছে, তাতে এই ধরনের উইকেটে নিজেদের কাজ আরও ভাল ভাবে করতে পারবে।’ বিদেশের মাটিতে পেসারদের ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক সফরগুলিতেও দেখা গিয়েছে। নতুন বলে উইকেট নেওয়া, মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা এবং শেষ দিকে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলার ক্ষেত্রে পেস আক্রমণের ধার বড় ভূমিকা নিতে পারে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শুধু ব্যাটারদের রান করা বা বোলারদের উইকেট নেওয়াই শেষ কথা নয়। দলের প্রত্যেক সদস্যকে আলাদা আলাদা পরিবেশে নিজেদের ভূমিকা বুঝে নিতে হয়। নিউজিল্যান্ডের সফরে সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে ভারতীয় দল। বিশেষ করে নভেম্বর মাসের আবহাওয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা আগামী বছরের বিশ্বকাপের আগে মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে খেলার আগে নিউজিল্যান্ডের পিচে বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য কার্যকর অনুশীলন হতে পারে। শুভমনের আগে থেকেই নিউজিল্যান্ডে পৌঁছনোর সিদ্ধান্তের পিছনে ব্যক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ববোধের দিকটিও রয়েছে। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার আগে নিজের খেলার দুর্বলতা ও উন্নতির জায়গাগুলি নিয়ে তিনি কাজ করতে চাইছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে প্রতিটি সফরের পরিবেশকে কাজে লাগানো জরুরি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতার আগে সময় নষ্ট না করে যত বেশি সম্ভব ম্যাচ পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাইছে ভারত।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ এখনও বেশ কয়েক মাস দূরে। কিন্তু তার প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, শুভমনের পরিকল্পনা থেকেই তা বোঝা যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ড সিরিজকে তিনি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই হিসেবে দেখছেন না। বরং বিশ্বকাপের সম্ভাব্য পরিবেশ, বিদেশের পিচের চরিত্র এবং দলের বোলিং শক্তি যাচাই করার সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগাতে চাইছেন। এখন দেখার, এই আগাম প্রস্তুতি মাঠের লড়াইয়ে ভারতীয় দলকে কতটা সুবিধা দেয় ও নিউজিল্যান্ড সফরে অধিনায়ক শুভমন গিলের নিজের পারফরম্যান্স কেমন হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sonakshi paparazzi issue | পাপারাজ্জির ক্যামেরায় বিরক্ত সোনাক্ষী সিন্হা, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক



