সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন, ৯ অক্টোবর : তিন দিনের ব্যবধানে ফের বড় ধাক্কা খেলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ক (Elon Musk)। চলতি সপ্তাহের শুরুতে যে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ফিরেছিলেন টেসলা (Tesla) এবং স্পেসএক্স (SpaceX) প্রধান, বৃহস্পতিবার সেখান থেকে ফের ছিটকে গেলেন। ফোর্বস (Forbes)-এর রিয়েল টাইম হিসাব বলছে, এক লেনদেন দিবসেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে প্রায় ৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার মুছে গিয়েছে। এর ফলে তাঁর মোট সম্পদ নেমে এসেছে ৯৯১.৬ বিলিয়ন ডলারে।

মার্কিন সময় অনুযায়ী ৮ অক্টোবর দুপুর দেড়টা ইডিটি (Eastern Daylight Time – EDT) নাগাদ এই পতন নথিভুক্ত হয়, যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টা। এই সময় স্পেসএক্স এবং টেসলা দুই সংস্থার শেয়ারের দামই একসঙ্গে পড়তে থাকে। বাজার সূত্রের খবর, স্পেসএক্স বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের পথে হাঁটছে, এই খবর সামনে আসার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
গত কয়েকদিনে মাস্কের সম্পদের গতিবিধি ছিল রোলার কোস্টারের মতো। ২ অক্টোবর একদিনেই তাঁর সম্পদ ৬১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে যায়। এর পর ৫ অক্টোবর সকালে স্পেসএক্সের শেয়ার ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। ওই সময় মরগ্যান স্ট্যানলি (Morgan Stanley)-এর গবেষণা প্রতিবেদনে সংস্থাটির শেয়ারকে তুলনামূলকভাবে কম দামে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে টেসলার শেয়ারও প্রায় ১ শতাংশ বাড়ে। দুই সংস্থার দামের এই যৌথ বৃদ্ধিতে মাস্ক ফের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করেন। কিন্তু এই অবস্থান মাত্র তিন দিন টিকল।
পতনের নেপথ্যে রয়েছে স্পেসএক্সের ৪০ বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহাকাশ সংস্থাটি ব্যাঙ্ক এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ওই বিপুল অর্থ সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা করছে। এই অর্থ এনভিডিয়ার (Nvidia) তৈরি উন্নত চিপ কেনার কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence – AI) ভিত্তিক পরিকাঠামো এবং স্যাটেলাইট পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য এই চিপ প্রয়োজন হবে বলে সংস্থা মনে করছে। তবে এত বড় অঙ্কের অর্থ বাজার থেকে তোলার পরিকল্পনায় বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শেয়ারের উপর চাপ বাড়িয়েছে।
বুধবার সকালে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর স্পেসএক্সের শেয়ার ২ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। ওই একদিনেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার কমে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এদিন লেনদেনের দ্বিতীয়ার্ধে স্পেসএক্সের শেয়ার প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ কমে ১৬২ ডলারের নিচে নেমে আসে। টেসলার শেয়ারও একই সময়ে ২ শতাংশের বেশি পড়ে ৩৭০ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে। দুই সংস্থার শেয়ারে এই যৌথ পতনের সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের সম্পদের হিসাবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩৬.৪ বিলিয়ন ডলার কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের একাংশের মন্তব্য, ‘শেয়ারনির্ভর সম্পদ হওয়ায় সামান্য দর পতনও বড় অঙ্কের ক্ষতি তৈরি করছে।’
এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরে একাধিকবার মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। ১২ জুন তিনি প্রথমবারের জন্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেন। স্পেসএক্সের শেয়ার প্রকাশ্যে লেনদেন শুরু হওয়ার পর তৈরি হওয়া উৎসাহে তাঁর সম্পদ এক সময় ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। অর্থাৎ এক ট্রিলিয়নের সীমার চেয়ে প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার বেশি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই স্পেসএক্সের শেয়ারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয় এবং টেসলার প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ারের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তখন তাঁর সম্পদ ৯৬২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। এর পর ফের শেয়ার বাড়ায় তিনি ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ফেরেন, কিন্তু এবার ফের পতন হলো।
বর্তমানে মাস্কের সম্পদের প্রায় পুরোটাই দুই সংস্থার বাজারমূল্যের সঙ্গে বাঁধা। ফলে শেয়ারের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেই ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাবে কয়েকশো কোটি ডলারের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। ৯৯১.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসা এই হিসাব আরও একবার প্রমাণ করল, ট্রিলিয়নেয়ার তকমা কতটা বাজারনির্ভর এবং অস্থির। আগামী দিনে স্পেসএক্সের অর্থ সংগ্রহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং টেসলার শেয়ারের গতিবিধির উপরেই মাস্কের সম্পদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত



