1.40 Crore Cash Recovered in Kharagpur | জনশতাব্দীতে কোটি টাকার রহস্য, খড়গপুরে ধৃত যুবক

SHARE:

খড়গপুর রেল স্টেশনে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের যাত্রীর কাছ থেকে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার হাওড়ার যুবক।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ খড়গপুর, ৫ অক্টোবর ২০২৬:  পশ্চিম মেদিনীপুর : খড়গপুর রেল স্টেশনে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এক যাত্রীর কাছ থেকে মিলেছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় রাহুল সোনি নামে হাওড়ার এক যুবককে গ্রেফতার করেছে খড়গপুর জিআরপি (Kharagpur GRP)। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন, টাকার উৎসই বা কী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকায় একসঙ্গে এত টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃত যুবকের সঙ্গে এই বিপুল অর্থের সম্পর্ক কী ও এর পিছনে কোনও বড় আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

পুলিশ সূত্রে খবর, টাটা থেকে হাওড়াগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস খড়গপুর স্টেশনে পৌঁছনোর পরই ঘটনাটি সামনে আসে। ট্রেনটি খড়গপুরের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ালে এক যুবক সেখান থেকে নামেন। তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই গোপন সূত্রে তথ্য পেয়েছিলেন রেল পুলিশের আধিকারিকেরা। সেই খবরের ভিত্তিতে স্টেশনে সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ট্রেন থেকে নামার পরই ওই যুবককে আটক করেন খড়গপুর জিআরপির কর্মীরা। এরপর তাঁর কাছে থাকা জিনিসপত্র পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ নগদ এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাস্থলে তৎপরতা বেড়ে যায়। খড়গপুর স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মেই উদ্ধার হওয়া টাকা গোনার কাজ শুরু হয়। নগদ অর্থের পরিমাণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করেন আধিকারিকেরা।

ধৃত যুবকের নাম রাহুল সোনি। তিনি হাওড়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে খবর। টাটা থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে তাঁর যাত্রার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সাধারণত এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকা জরুরি। ফলে রাহুলের কাছে থাকা টাকার বৈধ উৎস কী, কোনও ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে এই অর্থের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Raiganj AIIMS announcement, Suvendu Adhikari healthcare announcement | উত্তরবঙ্গে দু’টি বড় হাসপাতালের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! রায়গঞ্জে AIIMS ও জলপাইগুড়িতে ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল টাকার গন্তব্য। ওই যুবক কোথা থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন ও হাওড়ায় পৌঁছে কার হাতে তা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। তিনি একাই এই অর্থ পরিবহণ করছিলেন, নাকি এর পিছনে আরও কোনও ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করতে চাইছে রেল পুলিশ। ঘটনায় কোনও সংগঠিত আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহণের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। সেই কারণে যুবকের পরিচিতি, যাত্রাপথ, ট্রেনের টিকিট ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য সামগ্রী সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে টাকার উৎস বা এর সঙ্গে অন্য কারও যোগসূত্র সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রেল স্টেশনে নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিদিন খড়গপুর স্টেশন দিয়ে বহু যাত্রী যাতায়াত করেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। ফলে এখানে সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা রেল পুলিশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ করেই এই বিপুল অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ নিয়ে ট্রেনে যাতায়াতের ঘটনা ঘিরে যাত্রীদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেন ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার পরিবর্তে নগদে এই অর্থ পরিবহণ করা হচ্ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা প্রয়োজন। কোনও বৈধ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন : West Bengal school cook cum helper salary | PM POSHAN : শিশুর পাতে খাবার তুলে দেন যাঁরা, তাঁদের পকেটই কেন ফাঁকা? রাজ্যে স্কুলের রান্নাকর্মীদের নিয়ে বড় প্রশ্ন

বর্তমানে রাহুল সোনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত থাকলে তাদের শনাক্ত করাও তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নথি ও অন্যান্য তথ্যও পরীক্ষা করা হতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার এই নগদ অর্থ কোথা থেকে এল এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছনোর কথা ছিল? আপাতত সেই রহস্যের জট খোলার চেষ্টা করছে খড়গপুর জিআরপি। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে এই ঘটনার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন: CAA Certificate, Suvendu Adhikari CAA Announcement | ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিএএ শংসাপত্র! মতুয়া সমাজকে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Sasraya News
Author: Sasraya News