WBCS 2024 Preliminary Result | WBCS ২০২৪ প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ, মেইনে যাওয়ার ছাড়পত্র পেলেন ৩,৮৪২ পরীক্ষার্থী!

SHARE:

WBPSC announces WBCS 2024 Preliminary Examination results, with 3,842 candidates qualifying for the Mains examination and category-wise cut-off marks released.

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৫ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসে (WBCS) চাকরির স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি চালাচ্ছিলেন, তাঁদের অপেক্ষার অবসান। প্রকাশিত হল WBCS ২০২৪ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ফল ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (West Bengal Public Service Commission)। কমিশনের প্রকাশিত ফলের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন মোট ৩,৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। প্রাথমিক পরীক্ষার বাধা পেরিয়ে এবার তাঁরা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অর্থাৎ মেইন পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অনুশীলন ও পরীক্ষার ফলের অপেক্ষার পর এই ঘোষণা স্বাভাবিকভাবেই উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যাঁরা এবারের প্রিলিমিনারিতে সফল হতে পারেননি, তাঁদের কাছেও ফলাফল ভবিষ্যতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করবে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, WBCS (Exe.) Etc. Preliminary Examination, 2024-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞাপন নম্বর ০৮/২০২৪-এর অধীনে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বরের সম্পূর্ণ তালিকা একটি PDF নথির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে কমিশন। ফলে পরীক্ষার্থীদের আর অন্য কোনও সূত্রের উপর নির্ভর করতে হবে না। সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ফলের PDF সংগ্রহ করে নিজেদের রোল নম্বর মিলিয়ে নিলেই জানা যাবে তাঁরা মেইন পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন কি না।

আরও পড়ুন : IIT Kharagpur Physical AI School | ৩৫ কোটি টাকার উদ্যোগে আইআইটি খড়্গপুরে নতুন ইতিহাস! দেশে প্রথম ফিজিক্যাল এআই স্কুল তৈরির প্রস্তুতি

এবারের ফল প্রকাশের সঙ্গে বিভাগভিত্তিক কাট-অফ নম্বরও সামনে এনেছে WBPSC। ফলে কোন শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্য কত নম্বরের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা এক নজরে বুঝে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সাধারণ বা UR বিভাগের ক্ষেত্রে কাট-অফ নম্বর রাখা হয়েছে ১২৮। EWS বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সীমা ১০৬.৫। OBC বিভাগের ক্ষেত্রে কাট-অফ হয়েছে ১২১। তফসিলি জাতি বা SC বিভাগের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১১২ নম্বর। অন্যদিকে, তফসিলি উপজাতি বা ST বিভাগের কাট-অফ নম্বর ৯৫.২৫। শুধু সাধারণ বিভাগ নয়, বিশেষ সংরক্ষিত শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের জন্যও পৃথক কাট-অফ প্রকাশ করেছে কমিশন। PwBD-UR বিভাগের ক্ষেত্রে কাট-অফ নম্বর ৮৯। PwBD-SC বিভাগের জন্য তা ৮৪। পাশাপাশি MSP বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কাট-অফ নম্বর ১০৮.৫। এই বিভাগভিত্তিক নম্বরের তালিকা প্রকাশের ফলে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্ধারিত সীমার মধ্যে তুলনা করতে পারবেন।

WBCS পরীক্ষার ফল দেখার পদ্ধতিও যথেষ্ট সহজ। পরীক্ষার্থীদের প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে WBCS ২০২৪ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বা ফলের লিঙ্ক খুঁজে নিতে হবে। প্রকাশিত PDF ফাইলটি খুললেই উত্তীর্ণ প্রার্থীদের রোল নম্বরের তালিকা দেখা যাবে। সেই তালিকায় নিজের রোল নম্বর রয়েছে কি না, তা মিলিয়ে নিতে হবে। যাঁরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে ফল দেখবেন, তাঁদের জন্য রয়েছে আরও সহজ একটি উপায়। PDF ফাইল খোলার পর কিবোর্ডের Ctrl+F বোতাম একসঙ্গে চাপতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের রোল নম্বর লিখলে PDF-এর মধ্যে সেটি খুঁজে পাওয়া যাবে। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরাও PDF রিডারের সার্চ অপশন কাজে লাগিয়ে একইভাবে নিজেদের রোল নম্বর পরীক্ষা করতে পারবেন। তবে ফল দেখার সময় রোল নম্বর সঠিকভাবে লিখছেন কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই ধরনের একাধিক সংখ্যা থাকলে ভুল পড়ার সম্ভাবনা এড়াতে সম্পূর্ণ রোল নম্বর মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন : Government School Enrolment in West Bengal | সরকারি স্কুলে পড়ুয়া ফেরাতে বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের, কলকাতায় ৫০০ স্কুলে নজরদারি! ট্যাবলো নিয়ে প্রচারে নামছে প্রশাসন

৩,৮৪২ জনের এই তালিকায় জায়গা পাওয়ার অর্থ হল সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা WBCS নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এই পরীক্ষা মূলত পরবর্তী ধাপের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের একটি প্রাথমিক স্তর। মেইন পরীক্ষার ফল, পরবর্তী মূল্যায়ন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণের পরেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, WBCS পরীক্ষা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন পদে কাজ করার সুযোগ পাওয়ার লক্ষ্যেই প্রতি বছর বহু পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব, সরকারি পরিষেবা পরিচালনা ও রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে কাজ করার সুযোগ থাকায় WBCS পরীক্ষাকে ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আগ্রহ যথেষ্ট বেশি। সেই কারণে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনটি পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এবারের ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ মেইন পরীক্ষার প্রস্তুতি। প্রিলিমিনারির তুলনায় মেইন পরীক্ষার প্রস্তুতির ধরন অনেকটাই আলাদা। এখানে শুধু তথ্য মনে রাখার ক্ষমতা নয়, বিভিন্ন বিষয়ে গভীর ধারণা, বিশ্লেষণ করার দক্ষতা ও নির্দিষ্ট কাঠামোয় উত্তর লেখার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ফল প্রকাশের পর সময় নষ্ট না করে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা প্রথমবার WBCS মেইন পরীক্ষায় বসতে চলেছেন, তাঁদের পরীক্ষার কাঠামো এবং বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা দরকার। কোন বিষয়ে কতটা সময় দেওয়া হবে, কীভাবে নিয়মিত লেখার অনুশীলন করা হবে এবং পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র কীভাবে বিশ্লেষণ করা হবে, সেই বিষয়গুলি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষার সময়সূচির দিকেও নজর রাখতে হবে।

অন্যদিকে, প্রিলিমিনারিতে সফল হতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্যও এবারের ফল নতুন করে প্রস্তুতি সাজানোর সুযোগ এনে দিয়েছে। কাট-অফের সঙ্গে নিজেদের প্রাপ্ত নম্বরের তুলনা করে কোন বিষয়ে ঘাটতি ছিল, তা চিহ্নিত করা যেতে পারে। আগামী পরীক্ষার জন্য সেই অনুযায়ী প্রস্তুতির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে ভবিষ্যতে ভাল ফলের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। মেইন পরীক্ষার দিনক্ষণ, আবেদন সংক্রান্ত পরবর্তী নির্দেশিকা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য পরীক্ষার্থীদের WBPSC-এর সরকারি ওয়েবসাইট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কোনও সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি বা নতুন নির্দেশিকা প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করাও জরুরি। বিশেষ করে মেইন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নথি, পরীক্ষার নিয়ম ও অন্যান্য প্রশাসনিক নির্দেশ সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, ৩,৮৪২ জন পরীক্ষার্থীর মেইন পরীক্ষায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় WBCS ২০২৪ নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। তবে চূড়ান্ত সাফল্যের পথ এখনও বাকি। প্রিলিমিনারির বাধা পেরিয়ে এবার লিখিত পরীক্ষার কঠিন প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে নির্বাচিত প্রার্থীদের। রাজ্য প্রশাসনে কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে যাঁরা এতদিন প্রস্তুতি চালিয়েছেন, তাঁদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য মেইন পরীক্ষায় ভাল ফল করা। ফল প্রকাশের পর তাই উত্তীর্ণদের নজর এখন পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং কমিশনের নতুন নির্দেশিকার দিকে।

ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM POSHAN West Bengal, cook cum helper salary | পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের রান্নাকর্মীদের বেতন, বোনাস ও অবসর সুবিধার দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News