সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৪ অক্টোবর ২০২৬: আলোর উৎসব দীপাবলিতে (Diwali) কলকাতার আকাশে বৃষ্টির বড় কোনও আশঙ্কা নেই। উৎসবের দিনগুলিতে শহরের আবহাওয়া মূলত শুষ্কই থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Meteorological Department)। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা কমে প্রায় ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। ফলে দীপাবলির রাতে বৃষ্টির দুশ্চিন্তা না থাকলেও বাতাসে শীতের হালকা ছোঁয়া অনুভব করতে পারেন শহরবাসী। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে উৎসবের পর দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় হালকা বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান এইচ আর বিশ্বাস জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শহরের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
বর্তমানে রাতের তাপমাত্রা যে জায়গায়, আগামী দু’দিনে সেখান থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পতন হতে পারে। সেই হিসাবেই কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রির আশপাশে পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি থাকলেও রাতের দিকে আবহাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাইরে বেরনো মানুষজনের কাছে এই তাপমাত্রার পরিবর্তন আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে। গত কয়েক দিন ধরে কলকাতার আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখা গিয়েছে। কখনও আংশিক মেঘলা আকাশ, কখনও আবার মেঘের চাদরে ঢাকা পড়েছে শহর। সোমবার আকাশের বেশির ভাগ অংশ মেঘে ঢাকা ছিল। মঙ্গলবারও সেই পরিস্থিতির কিছুটা রেশ বজায় থাকে। যদিও বৃষ্টির পরিমাণ ছিল খুবই সামান্য। এই আবহাওয়ার পিছনে ঘূর্ণিঝড় মুরুসুর (Cyclone Murusu) পরোক্ষ প্রভাব ছিল বলে আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণ। তবে সেই প্রভাব এখন অনেকটাই কেটে গিয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণিঝড় মুরুসু গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতের মধ্যে সেটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ার পূর্বাভাস ছিল। কলকাতার আবহাওয়ার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি কোনও যোগ ছিল না। বাংলার জন্য এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আলাদা করে কোনও সতর্কতাও জারি করা হয়নি। কিন্তু, ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও গতিপথের প্রভাবে বাতাসের প্রবাহে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। সেই সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় কলকাতার আকাশে মেঘের উপস্থিতি বেড়েছিল। তারই প্রভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আবহাওয়ার চরিত্রে কিছুটা বদল দেখা যায়। বর্তমানে শহরের উপর দিয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি স্তরে উত্তুরে অথবা সামান্য জলীয় বাষ্প মেশানো উত্তর-পশ্চিমী বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দু’দিনে সেই বাতাসের গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে। অপেক্ষাকৃত শুষ্ক উত্তুরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমী বাতাসের প্রভাব বাড়লে আকাশ পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা কমার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
শীতের আগমনের আগে নভেম্বরের শুরুতেই কলকাতার আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন শহরবাসীর কাছে স্বস্তির খবর। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উৎসবের আয়োজন, আলোকসজ্জা দেখা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বৃষ্টির বাধা না থাকার সম্ভাবনা বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর। দীপাবলির পরেও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পুরোপুরি একই রকম থাকবে না। উৎসবের পরের দিন দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা। কলকাতাতেও তার সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর অনুযায়ী, পূর্বালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এই বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদিও ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই। ফলে বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও তার জেরে বড় ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা আপাতত করা হচ্ছে না। তবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের উৎসবের পরের দিনের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
গত মঙ্গলবার কলকাতার তাপমাত্রার পরিসংখ্যানেও গরমের প্রভাব ধরা পড়েছে। এ দিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৩ ডিগ্রি বেশি। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.২ ডিগ্রি বেশি। অর্থাৎ দিনের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ খানিকটা উপরে রয়েছে। কিন্তু আগামী দু’দিনে রাতের পারদ কয়েক ধাপ নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে বদল আসতে পারে। দীপাবলির সময় কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা নিয়ে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত প্রদীপ জ্বালানো, বাজি পোড়ানো, মণ্ডপ ও বাড়ির আলোকসজ্জা দেখা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন বহু মানুষ। বৃষ্টির কারণে সেই আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এবারের পূর্বাভাসে তেমন উদ্বেগের কারণ দেখা যাচ্ছে না। ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে শহরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় উৎসবের দিনগুলিতে শুষ্ক আবহাওয়ার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা কমলে উৎসবের পরিবেশে শীতের হালকা অনুভূতিও যোগ হবে।
আলিপুর হাওয়া অফিস সূত্রের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কাটার পর বাতাসের গতিপথ, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ও আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই কলকাতার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির বাসিন্দাদেরও নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেটের দিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। আপাতত আলিপুরের পূর্বাভাসে উৎসবের দিনগুলিতে বৃষ্টির বড় বাধার আশঙ্কা নেই। আগামী দু’দিনে রাতের তাপমাত্রা কমে ২২ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছলে দীপাবলির আবহে কলকাতায় শীতের আগমনের পূর্বাভাস আরও জোরাল হতে পারে।
ছবি: প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Subhashgram rape allegation | সুভাষগ্রামে ভয়াবহ অভিযোগ! স্বামীকে মারধর, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ধৃত ১



