মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে সামিল হয়েছিলেন দেশের অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররাও। সেই অভিনন্দনের তালিকায় ছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)। কিন্তু তাঁর কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা যে স্মৃতি মন্ধানার (Smriti Mandhana) কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল, তা নিজেই জানিয়েছেন ভারতীয় দলের তারকা ওপেনার তথা নতুন অধিনায়ক। কারণ, ধোনি সাধারণত খুব বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। ফোনে যোগাযোগ করলেও দ্রুত উত্তর পাওয়া যায় না বলে ক্রিকেটমহলে তাঁর সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা প্রচলিত আছে। সেই ধোনিই বিশ্বকাপ জয়ের পর স্মৃতিকে বার্তা পাঠিয়ে দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে নিজের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেই অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেন স্মৃতি মন্ধানা। অনুষ্ঠানে সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হর্ষ ভোগলে (Harsha Bhogle)। কথোপকথনের সময় ধোনির কাছ থেকে পাওয়া অভিনন্দন বার্তার প্রসঙ্গ ওঠে। স্মৃতি মন্ধানা জানান, বিশ্বকাপ জয়ের পর ধোনি তাঁকে নিজে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁকে অবাক করেছিল। কারণ, ধোনি যে খুব একটা ফোন ব্যবহার করেন না, তা তাঁর জানা ছিল। ফলে এমন একজনের কাছ থেকে হঠাৎ শুভেচ্ছা পাওয়াটা তাঁর কাছে ছিল ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। স্মৃতির কথায়, ‘বিশ্বকাপ জয়ের পর উনি আমাকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। আমি জানি, উনি খুব বেশি ফোন ব্যবহার করেন না। তাই ওঁর কাছ থেকে বার্তা পেয়ে অবাক হয়েছিলাম। উনি আমাকে জানিয়েছিলেন, দলের প্রত্যেকের কাছে যেন তাঁর শুভেচ্ছা পৌঁছে দিই।’ অর্থাৎ শুধু স্মৃতিকে অভিনন্দন জানানোই ধোনির উদ্দেশ্য ছিল না। বিশ্বজয়ী দলের সমস্ত ক্রিকেটারকে একসঙ্গে শুভেচ্ছা জানাতে চেয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। দলের প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় স্মৃতিকেই তিনি বেছে নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন : Shubman Gill : শুভমন গিল ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে কতটা সফল হবেন?
অনুষ্ঠানে হর্ষ ভোগলে মজা করে স্মৃতির কাছে জানতে চান, ধোনির ফোন নম্বর কি তিনি নিজের মোবাইলে সেভ করে রেখেছেন? উত্তরে স্মৃতি জানান, ধোনির নম্বর তাঁর কাছে আগে থেকেই ছিল। ফলে নতুন করে নম্বর জোগাড় করতে হয়নি। কিন্তু, ধোনির মতো সাধারণত ফোন থেকে দূরে থাকা একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাওয়ায় তাঁর বিস্ময় কমেনি। এই কথোপকথনের মধ্যেই উঠে আসে দুই প্রজন্মের ভারতীয় ক্রিকেটারের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও যোগাযোগের একটি সুন্দর দিক। উল্লেখ্য, কেন তিনি স্মৃতিকেই বার্তা পাঠিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে সেই ব্যাখ্যাও দেন ধোনি। তাঁর কথায়, বিশ্বকাপজয়ী দলের কোনও ক্রিকেটারের নম্বরই তাঁর কাছে ছিল না। ফলে সরাসরি প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সেই সময় স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা তিনি ভাবেন। এর পিছনে আরও একটি যোগসূত্র ছিল। বিশ্বকাপের আগে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে স্মৃতির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই স্মৃতিকে বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন ধোনি।

মহেন্দ্র সিং ধোনি বলেন, ‘ওই দলের কারও নম্বর আমার কাছে ছিল না। আমি চেয়েছিলাম আমার শুভেচ্ছা যেন সকলের কাছে পৌঁছে যায়। বিশ্বকাপের আগে আমরা একসঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করেছিলাম। তাই স্মৃতিকে বার্তা পাঠিয়ে দেখার কথা ভাবি। ওকে বলেছিলাম, দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে যেন আমার অভিনন্দন পৌঁছে দেয়।’ ধোনির এই বক্তব্যে বোঝা যায়, বিশ্বকাপ জয়ের পর মহিলা দলের সাফল্যকে তিনি কতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে প্রত্যেক ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও পুরো দলকে তিনি অভিনন্দন জানাতে চেয়েছিলেন। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ জয় দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। গত বছরের নভেম্বর মাসে সেই সাফল্য অর্জন করে ভারত। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, একাধিক প্রতিযোগিতায় লড়াই এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে আসে ভারতীয় দলের। এই জয় শুধু একটি প্রতিযোগিতার শিরোপা পাওয়ার ঘটনা ছিল না, মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মেয়েদের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই সাফল্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ধোনিও মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয়ের তাৎপর্য নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই সাফল্য ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের পরবর্তী পথচলার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে। একটি বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে শুধু বর্তমান দলের ক্রিকেটারেরাই কৃতিত্ব অর্জন করেননি, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েদের সামনেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছেন। ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের তরুণীদের কাছে এই জয় একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে ধোনি মনে করেন। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের বক্তব্য, ‘এটা খুব বড় একটা ঘটনা। ভারতের মহিলা ক্রিকেট কী ভাবে সামনে এগোবে, সেই পথের একটি দিশা তৈরি করে দিয়েছে এই জয়। দেশের হয়ে ট্রফি জেতা অবশ্যই বড় সাফল্য। কিন্তু এই মেয়েরা আগামী দিনের ক্রিকেটারদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটের কাছে এই সাফল্যের গুরুত্ব অনেক।’

মহেন্দ্র সিং ধোনির এই মন্তব্যে মহিলা ক্রিকেটের সামাজিক ও ক্রীড়াগত গুরুত্বের দিকটিও উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষ ক্রিকেটের তুলনায় মহিলা ক্রিকেটের পরিকাঠামো, প্রচার ও দর্শকসংখ্যা নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্স, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য আর ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লিগের প্রসারের ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বকাপ জয় সেই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। ধোনির মতে, এই সাফল্য আগামী দিনের মেয়েদের কাছে ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার সাহস জোগাবে। অন্যদিকে, স্মৃতি মন্ধানা ভারতীয় মহিলা দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন। বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর কাছে ধোনির শুভেচ্ছা পৌঁছনো তাই শুধু ব্যক্তিগত অভিনন্দনের ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হয়ে যাবে। এটি ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের মধ্যে সম্মানের সম্পর্কের একটি বড় দিকিও। এক দিকে পুরুষ দলের হয়ে একাধিক বড় ট্রফি জেতা প্রাক্তন অধিনায়ক, অন্য দিকে বিশ্বমঞ্চে ভারতকে সাফল্য এনে দেওয়া মহিলা দলের অন্যতম সদস্য, দু’জনের এই কথোপকথনে ক্রিকেটের বৃহত্তর ঐক্যের ছবিও উঠে এসেছে।

ধোনির ক্রিকেটজীবনে নেতৃত্ব, বড় ম্যাচে চাপ সামলানো আর দলকে সাফল্যের পথে নিয়ে যাওয়ার বহু রেকর্ড আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরেও ভারতীয় ক্রিকেটের বিভিন্ন সাফল্য নিয়ে তাঁর আগ্রহ বজায় রয়েছে। মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয় নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া সেই আগ্রহেরই পরিচয় দেয়। অন্য দিকে, স্মৃতির কাছে এই বার্তা ছিল এমন একজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি, যাঁর নেতৃত্বে ভারত একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশ্বকাপ জয়ের পর স্মৃতির মাধ্যমে দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার ধোনির এই উদ্যোগ তাই আলোচনায় এসেছে। সাধারণত কম ফোন ব্যবহার করা মাহি নিজেই যোগাযোগের পথ বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন বিশ্বজয়ী দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার যেন তাঁর অভিনন্দন পান। আর সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মৃতি প্রকাশ্যে আনতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ধোনির বার্তা ও ভারতীয় মহিলা দলের বিশ্বকাপ জয়ের তাৎপর্য।
সব ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Smriti Mandhana record, Smriti Mandhana highest run scorer | ইতিহাস লিখলেন স্মৃতি মন্ধানা! টি-২০ ক্রিকেটে সবাইকে টপকে নতুন রেকর্ড ভারতের তারকার

