সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ উত্তর ২৪ পরগণা : উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় (Habra) ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে বিয়ার খাইয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই ছাত্রী। পরে গভীর রাতে অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে হাবড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের বয়স ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে ১২ বছরের এক নাবালিকাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বর্তমানে আক্রান্ত নাবালিকা হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়া পুরসভা এলাকার একটি বাড়িতে মামার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল ১৪ বছরের ওই কিশোরী। সেখানে কয়েক দিন থাকার পর শনিবার সন্ধ্যায় এক দূর সম্পর্কের আত্মীয় কিশোরী তাকে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায়। দু’জনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুটা দূর যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে পরিচিত দুই যুবকের দেখা হয়। অভিযোগ, ওই দুই যুবক দুই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় যায়। সেখানে তাঁদের বিয়ার খাওয়ানো হয়েছিল বলে পুলিশের কাছে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ১২ বছরের কিশোরীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, নেশাজাতীয় পানীয় খাওয়ানোর পর পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে থাকে। সে অসুস্থ বোধ করার আগেই দুই যুবক তাকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। কিশোরীটি বাড়িতে ফিরে গেলেও ১৪ বছরের নাবালিকাকে তারা সঙ্গে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এরপরই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। রাত বাড়লেও ১৪ বছরের কিশোরী বাড়ি না ফেরায় মামার বাড়ির লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়স্বজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না মেলায় শেষ পর্যন্ত হাবড়া থানায় যোগাযোগ করা হয়। পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। শুরু হয় নাবালিকাকে উদ্ধারের তল্লাশি।
পুলিশ প্রথমে ওই ১২ বছরের কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে কোথায় গিয়েছিল, কারা তাদের সঙ্গে ছিল ও ১৪ বছরের কিশোরীকে শেষ কোথায় দেখা গিয়েছিল, এই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই তল্লাশি চালানো হয়। পরে স্থানীয় একটি শিবমন্দিরের কাছে নির্জন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছরের নাবালিকাকে। উদ্ধারের সময় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় তাকে দ্রুত হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে তার চিকিৎসা চলছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগের ধরন এবং কিশোরীর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্ত আরও গুরুত্ব দিয়ে শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বয়স আনুমানিক ২৩ থেকে ২৪ বছর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দু’জনেই বিবাহিত। পারিবারিক অশান্তির কারণে তাঁদের স্ত্রী বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে থাকেন না বলেও জানা গিয়েছে। তবে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের এই তথ্যের সঙ্গে অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
ধৃতদের মধ্যে এক যুবকের বিরুদ্ধে এর আগেও মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ফলে তাঁর আগের কোনও অভিযোগ বা ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মামলার যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা জানার চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনার সম্ভাব্য স্থান, নাবালিকাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি ও অভিযুক্তদের গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নাবালিকার শারীরিক পরিস্থিতি এবং চিকিৎসকদের রিপোর্টও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, নাবালিকাকে কীভাবে ওই জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ১২ বছরের কিশোরীকে বাড়ি চলে যেতে বলা হলেও ১৪ বছরের নাবালিকাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই দুই যুবকের ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারীরা জোর দিচ্ছেন। আদালতে ধৃতদের হাজির করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নাবালিকাকে কেন ওই নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে কতক্ষণ রাখা হয়েছিল ও তার আগে বা পরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদা করে যাচাই করা হচ্ছে। নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে পরিবারের। বর্তমানে চিকিৎসাধীন কিশোরীর শারীরিক পরিস্থিতির উপরও নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রয়োজনীয় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের প্রতিটি অংশ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। উল্লেখ্য, হাবড়ার এই ঘটনা ফের অপ্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিচিত ব্যক্তির ডাকে বাইরে বেরোনো থেকে শুরু করে নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, পুরো ঘটনাক্রমই তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কতটা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Rourkela railway station rape case | রৌরকেল্লা স্টেশনে ভয়াবহ অভিযোগ, কনফার্মড টিকিটের নাম করে যুবতীকে ধর্ষণ! রেলকর্মী গ্রেফতার




