মেধা পাল, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিশ্বফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ব্রাজিলের (Brazil) বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চলেছে ভারত। সঙ্গে রয়েছে উরুগুয়ে (Uruguay) ও পানামার (Panama) মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিচিত দল। একের পর এক বড় দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফুটবলমহলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির জন্য ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। সৌরভের মতে, বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারলে ভারতীয় ফুটবলারদের মান আরও বাড়বে। শুধু বড় কোনও দলের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ খেললেই যে রাতারাতি পরিবর্তন আসবে, এমনটা নয়। বরং সারা বছর ধরে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই ভারতীয় ফুটবলাররা নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সামনে ব্রাজিলের মতো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ। স্বাভাবিক ভাবেই সেই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সৌরভের নজর শুধু ব্রাজিল ম্যাচে আটকে নেই। তাঁর বক্তব্যের মূল জায়গা হল, এই ধরনের ম্যাচকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক সূচির অংশ করে তোলা। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) -এর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সৌরভ বলেছেন, ‘বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার উদ্যোগ খুবই ভাল। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেললে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি হবে না, এমনটা ভাবার কারণ নেই।’
এখানেই থেমে থাকতে নারাজ সৌরভ। তাঁর মতে, একটি বা দু’টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করে সেই উদ্যোগকে সফল বলা যাবে না। নিয়মিত বড় দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। সারা বছর ধরে এই ধরনের ম্যাচ খেলতে পারলে ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপ সামলানোর ক্ষমতাও তৈরি হবে বলে মনে করেন কলকাতার মহারাজ। সৌরভের কথায়, ‘সারা বছর যদি এই ধরনের ম্যাচ খেলা যায়, তা হলে ফুটবলারদের শেখার সুযোগ বাড়বে। শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে নিজের খেলার দুর্বল জায়গাগুলি বুঝতে সুবিধা হয়।’
ভারতীয় ক্রিকেটের উদাহরণ দিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সৌরভ। দীর্ঘদিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব করা সৌরভ জানেন, বিশ্বের প্রথম সারির দলগুলির বিরুদ্ধে নিয়মিত খেললে কী ভাবে একটি দলের মান বাড়তে পারে। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির পিছনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ক্রিকেটের প্রসঙ্গে সৌরভের বক্তব্য, ‘ক্রিকেটের দিকে তাকান। ভারত সারা বছর বিশ্বের সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে খেলে। সেই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেটের মান বাড়ছে। ফুটবলেও একই ধরনের পরিকল্পনা দরকার।’ সৌরভের এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভাবনা। ফুটবলে আন্তর্জাতিক মানের দলগুলির সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না পেলে কোনও দেশের খেলোয়াড়দের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে, কিন্তু শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেললে ম্যাচের গতি, শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং চাপের মধ্যে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
ভারতের ফুটবলের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক ভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে হলে শুধু ঘরোয়া প্রতিযোগিতার উপর নির্ভর করলে হবে না। জাতীয় দলকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। ব্রাজিল, উরুগুয়ে কিংবা পানামার মতো দলগুলির বিরুদ্ধে ম্যাচ সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচকে ঘিরে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে মাঠে নামা ভারতীয় ফুটবলারদের কাছে বড় অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক, এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট খেলার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতিতে কাজে লাগতে পারে।
সৌরভের বক্তব্যে লম্বা আন্তর্জাতিক সূচীর প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে এসেছে। তাঁর মতে, বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা মানে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি হয়। একটি দল কোন জায়গায় পিছিয়ে রয়েছে, কোথায় গতি কম, প্রতিপক্ষের চাপের সময় কী ভাবে বল ধরে রাখতে হয়, দ্রুত আক্রমণ কী ভাবে সামলাতে হয়— এই সমস্ত অভিজ্ঞতা মাঠে খেলেই অর্জন করা যায়। এআইএফএফ যে বড় দলগুলির বিরুদ্ধে ভারতকে খেলানোর পরিকল্পনা করছে, তা সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সৌরভ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের উদ্যোগকে দীর্ঘ পরিকল্পনায় পরিণত করতে হবে। কয়েকটি ম্যাচ আয়োজনের পরে যদি তা থেমে যায়, তা হলে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন। বরং বছরের বিভিন্ন সময়ে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ভারত যে জায়গায় পৌঁছেছে, ফুটবলেও সেই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সৌরভ। তাঁর মতে, বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার ফলে ক্রিকেটারদের মান যেমন বেড়েছে, তেমনই ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের উন্নত করতে পারে। উল্লেখ্য, ভারতীয় ফুটবলের সামনে এখন তাই বড় চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বড় সুযোগও তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ শুধু দর্শকদের জন্য আকর্ষণের বিষয় নয়, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আর সেই ম্যাচগুলিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা না করে নিয়মিত আন্তর্জাতিক সূচির অংশ করার কথাই বলছেন সৌরভ। ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি নিয়ে বহু দিন ধরেই নানা পরিকল্পনা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরে ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা যে বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে, সৌরভের বক্তব্যে সেই দিকটিই সামনে এসেছে। ক্রিকেটের সাফল্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফুটবলেও একই ধরনের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা করা গেলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। এখন দেখার, ব্রাজিল-উরুগুয়ের মতো দলের বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচগুলি ভারতীয় ফুটবলের সেই দীর্ঘ পথচলার কতটা কার্যকর ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Shreyas Iyer Backup, Gautam Gambhir World Cup Plan | শ্রেয়সের বিকল্প তৈরি করছে ভারত! বিশ্বকাপের আগে তিলককে নিয়ে বড় পরিকল্পনা গম্ভীর-আগরকরদের, নজরে অফ স্পিনও




