India Kharif Crop Sowing 2026 | খরিফ চাষে ধাক্কা! গত বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ কম জমিতে বপন, নজর এখন সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিতে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বর্ষার মরসুম শেষের দিকে এগোলেও ২০২৬ সালের খরিফ চাষে এখনও কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেল (India Kharif Crop Sowing 2026) ২৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন রাজ্যে খরিফ ফসলের বপন চলেছে জোরকদমে। কিন্তু গত বছরের একই সময়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে এবার মোট বপন করা জমির পরিমাণ প্রায় ১.৭ শতাংশ কম। কৃষি মরসুমের শেষ পর্বে এসে ঘাটতির পরিমাণ খুব বড় না হলেও, স্বাভাবিক চাষের এলাকার তুলনায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে দেশের কৃষি ক্ষেত্র। কৃষি মরসুমে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফসলের বপন কতটা হয়েছে, তা দিয়ে সামগ্রিক চাষ পরিস্থিতির একটি ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত আগের পাঁচ বছরের একই সময়ের গড় চাষের জমিকে স্বাভাবিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই মাপকাঠিতে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২০২৬ সালের খরিফ ফসলের বপন স্বাভাবিক এলাকার তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম রয়েছে। ফলে মরসুমের শেষ দিকে বাকি থাকা সময়টিতে বৃষ্টি ও চাষের অগ্রগতি দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : Shivraj Singh Chouhan on Agriculture University Jobs, ICAR Agriculture Education : কৃষি পড়েও চাকরি অভাব! কর্মসংস্থানের হিসাব রাখবে বিশ্ববিদ্যালয়, বড় নির্দেশ শিবরাজের

খরিফ ফসলের চাষ মূলত বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ধান, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল এই মরসুমে চাষ করা হয়। বর্ষার বৃষ্টির সময়, পরিমাণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলে তার বণ্টনের সঙ্গে খরিফ চাষের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ বার জমিতে বপনের ঘাটতির পাশাপাশি আগামী দিনের আবহাওয়ার দিকেও নজর রাখছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের বৃষ্টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department বা IMD) সেপ্টেম্বরেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। ফলে বর্ষার শেষ পর্বে দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকায় বৃষ্টির প্রকৃতি কেমন থাকে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে খরিফ ফসলের পরবর্তী পরিস্থিতি।

কৃষির ক্ষেত্রে শুধু মাস শেষে মোট কত মিলিমিটার বৃষ্টি হল, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য নয়। কোন এলাকায় কতটা বৃষ্টি হল এবং কত দিন অন্তর বৃষ্টি হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও একটি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি হলে যেমন জল জমে ফসলের ক্ষতি হতে পারে, তেমনই দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে জমিতে আর্দ্রতার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির বিস্তার ও বণ্টন খরিফ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে। এবারের বপন পরিসংখ্যানে যে ফসলটি নিয়ে বেশি নজর পড়েছে, সেটি হল ভুট্টা। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গিয়েছে। খরিফ মরসুমের মোট বপন এলাকার ঘাটতির ক্ষেত্রেও ভুট্টার চাষের এই পতন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভুট্টা কৃষি ও খাদ্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফসল। পশুখাদ্য, পোলট্রি শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ভুট্টার ব্যবহার রয়েছে। ফলে ভুট্টার চাষের জমি কমে গেলে তার প্রভাব শুধু কৃষকের জমিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন কম হলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহ, দাম ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের খরচের উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। আগস্টের শেষ সপ্তাহের তথ্য দেখেই ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। কারণ মরসুমের শুরু থেকে চাষের এলাকা ধীরে ধীরে বেড়েছে। জুনের শেষ দিকে যে ঘাটতি ছিল, পরবর্তী সময়ে তার অনেকটাই পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ বপনের কাজ এখনও যে পুরোপুরি থেমে গিয়েছে, এমন নয়। কোথাও দেরিতে বৃষ্টি আসা, কোথাও জমিতে আর্দ্রতা তৈরি হওয়া ও কৃষকদের বপনের সময়সূচির পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণে শেষ পর্যায়েও জমির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে।

আরও পড়ুন : Priyanka Chopra Nick Jonas first message, Nick Jonas asked photo timestamp Priyanka | প্রথম আলাপেই প্রমাণ চেয়েছিলেন নিক! প্রিয়াঙ্কার মুখে ফাঁস প্রেমের অজানা গল্প, ভাইরাল পুরনো চ্যাট

গত বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ কম জমিতে খরিফ ফসল বোনা হলেও, সেটিকে একমাত্র সূচক হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি ধরা পড়বে না। ফলনের পরিমাণ নির্ভর করবে জমির গুণমান, বৃষ্টির পরিস্থিতি, সেচের সুযোগ, বীজের মান এবং আবহাওয়ার পরবর্তী গতিপথের উপর। একই পরিমাণ জমিতে ভাল ফলন হলে উৎপাদনের ঘাটতি কম হতে পারে। আবার বৃষ্টির সমস্যা বা অন্য কোনও প্রাকৃতিক কারণে ফলন কমলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। অন্য দিকে, স্বাভাবিক এলাকার তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম বপন হওয়াও কৃষি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নজর দেওয়ার মতো বিষয়। বর্ষার শেষ পর্যায়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টির ঘাটতি থাকলে কৃষকদের উপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষি এলাকার জমিগুলিতে এর প্রভাব বেশি পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এখন তাই কৃষি দফতর, বাজার আর কৃষকদের দৃষ্টি সেপ্টেম্বরের আকাশের দিকে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ ও বিস্তার কেমন থাকে, সেই সঙ্গে অবশিষ্ট জমিতে বপনের কাজ কতটা এগোয়, তা খরিফ মরসুমের সামগ্রিক ছবিকে আরও পরিষ্কার করে তুলবে। ২০২৬ সালের খরিফ চাষে আপাতত যে ১.৭ শতাংশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, মরসুমের শেষ পর্যায়ে সেটি কতটা কমে আসে, নাকি আরও বাড়ে, সেদিকেই নজর থাকছে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Sanjeeb Reddy story, flower farming business India | L&T চাকরি ছেড়ে ফুল চাষে বাজিমাত সঞ্জীব রেড্ডির, বছরে ৬৫ লক্ষ টাকার বেশি আয়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন