West Bengal old age pension 2000 rupees, Suvendu Adhikari pension announcement | বার্ধক্য, বিধবা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতা ২ হাজার টাকা! নতুন করে আবেদন বাধ্যতামূলক, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের মাসিক আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার। বর্তমানে ১,৫০০ টাকা করে যে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, তা আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়ে মাসে ২,০০০ টাকা করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই হারে তিনটি শ্রেণির উপভোক্তাই এই বর্ধিত আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবেন। তবে নতুন ঘোষণা হলেও এখনই প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ২,০০০ টাকা করে পৌঁছবে না। যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য পরবর্তী ধাপে বর্ধিত ভাতা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণার পরেই রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে এই তিন শ্রেণির মানুষকে মাসিক আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসা হলেও মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই অর্থের পরিমাণ নিয়ে নানা সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মাসিক সহায়তার অঙ্ক ১,৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২,০০০ টাকা হবে।

আরও পড়ুন : Northern Sea Route India, India Russia Maritime Trade | ২০২৭-এই রাশিয়ামুখী ভারতের নতুন সমুদ্রপথ! নর্দার্ন সি রুটে প্রথম কার্গো জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি

রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় এই তিন ধরনের সামাজিক ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে ১,০০০ টাকা। সরকার গঠনের পর প্রথম দফায় ৫০০ টাকা বাড়িয়ে সেই অঙ্ক ১,৫০০ টাকা করা হয়। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ আগস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের বর্ধিত হারে অর্থ দেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পর খুব বেশি সময় না যেতেই ফের ৫০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সামনে এল। ফলে একদিকে আগের তুলনায় মোট ১,০০০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অন্য দিকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের জন্য নতুন করে আবেদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও শুরু হতে চলেছে। ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনটি হল পুরনো আবেদন বাতিল করা। আগের সরকারের আমলে বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের আবেদন আর কার্যকর থাকবে না। পুরনো আবেদনকারীদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ আগে আবেদন করেছিলেন বা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে।

সরকারের যুক্তি, নতুন করে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা পুনর্গঠন করা হবে। আবেদনকারীর বয়স, আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করছেন কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলা হবে। ফলে ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপভোক্তা নির্বাচন প্রক্রিয়াতেও নতুন করে প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ইতিমধ্যেই ভাতা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যেও নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে। আগে যাঁরা সরকারি তালিকায় ছিলেন, তাঁদের পুরনো আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন তালিকায় চলে যাবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য পরীক্ষা করা হবে। প্রশাসনের কাছে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, কারণ মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে। তাই প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু ২,০০০ টাকা ভাতা ঠিক কবে থেকে দেওয়া হবে, সেই সময়সীমা এখনও নির্দিষ্ট করে জানাননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে ঘোষণার পরেই উপভোক্তাদের মধ্যে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি উঠছে, তা হল নতুন অঙ্কের টাকা অ্যাকাউন্টে আসবে কবে? প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ২,০০০ টাকা হারে ভাতা চালু হবে না বলেই সরকারি ঘোষণার ধরন থেকে বোঝা যাচ্ছে। নতুন আবেদন গ্রহণ, নথি পরীক্ষা, যোগ্যতা যাচাই এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পরে কার্যকর হবে বর্ধিত হার। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। নতুন করে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়লে সেগুলি যাচাই করতে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে কাজ করতে হবে। বয়সের প্রমাণ, আর্থিক অবস্থার তথ্য এবং প্রকল্পের অন্যান্য শর্ত পরীক্ষা করার পরে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সেই কারণে ঘোষণার পরপরই ২,০০০ টাকা হারে অর্থপ্রদান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আগামী আর্থিক বছরের শুরু অর্থাৎ এপ্রিল থেকে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের অনুমান। যদিও সরকারের তরফে এখনও এপ্রিল মাসকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে উপভোক্তাদের অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশের জন্য। উল্লেখ্য যে, ভাতা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির যোগও রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির (BJP) সংকল্পপত্রে প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদের মাসিক আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পরে প্রথম দফায় ১,০০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছিল ভাতার অঙ্ক। এবার সেই অর্থ আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বার্ধক্যভাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। কর্মক্ষমতা কমে আসা প্রবীণদের একটি অংশের নিয়মিত আয়ের উৎস সীমিত। তাঁদের কাছে মাসিক সরকারি সহায়তার অর্থ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে কাজে লাগে। একই ভাবে স্বামীহারা মহিলাদের জন্য বিধবাভাতা ও শারীরিক বা অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণে আর্থিক সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ভাতাও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাসে ২,০০০ টাকা খুব বড় অঙ্ক না হলেও বর্তমান বাজারে নিয়মিত সরকারি সহায়তার পরিমাণ বাড়লে উপভোক্তাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকবে। বিশেষ করে ওষুধ, খাবার, যাতায়াত কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচ সামলানোর ক্ষেত্রে এই বাড়তি ৫০০ টাকা কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে কারা নতুন তালিকায় জায়গা পাচ্ছেন এবং বর্ধিত অর্থপ্রদান কত দ্রুত শুরু হচ্ছে তার ওপর। অন্য দিকে, পুরনো আবেদন বাতিল করে নতুন করে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও কাজের চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ইতিমধ্যেই ভাতা পাওয়ার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদেরও নতুন প্রক্রিয়ার মধ্যে আনতে হবে। কোনও যোগ্য ব্যক্তি যাতে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়টি নিয়েও নজর রাখতে হবে প্রশাসনকে। একই সঙ্গে অযোগ্য আবেদনকারীর নাম যাতে তালিকায় না থাকে, তার জন্য নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নথি এবং তথ্য জমা দিতে হতে পারে। যদিও কোন পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে, কোথায় আবেদনপত্র জমা দিতে হবে এবং কী কী নথি প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও সামনে আসেনি। প্রশাসনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতেই সেই তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় তাই একসঙ্গে দু’টি বিষয় সামনে এসেছে, একদিকে সামাজিক ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে উপভোক্তা তালিকা নতুন করে তৈরির উদ্যোগ। ১,৫০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা বৃদ্ধির ফলে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন করে যাচাইয়ের মাধ্যমে উপভোক্তাদের তথ্যও হালনাগাদ করার সুযোগ পাবে প্রশাসন। এখন লক্ষ্য থাকবে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হওয়ার সময়সীমা ও নতুন আবেদনপত্র গ্রহণের নিয়মের দিকে। সরকারের পরবর্তী নির্দেশিকা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে ২,০০০ টাকা হারে ভাতা পেতে বর্তমান উপভোক্তাদের ঠিক কী করতে হবে। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় রাজ্যের প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার নতুন অঙ্ক সামনে এসেছে। তবে সেই টাকা হাতে পেতে হলে পুরনো আবেদনকারীদেরও নতুন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে, এটাই এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দিক।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajnath Singh West Bengal, Suvendu Adhikari defence project | ৩৪০০ কোটির প্রকল্পে বাংলায় তৈরি হবে যুদ্ধজাহাজ! কী পরিকল্পনা রাজনাথ ও শুভেন্দুর?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন