I-PAC Case CBI Probe | ‘রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই’! আইপ্যাক মামলায় সিবিআই তদন্তে অনড় ইডি, সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা প্রশ্ন তৃণমূলের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: আইপ্যাক (I-PAC) দফতরে ইডির তল্লাশি এবং সেই অভিযান ঘিরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে ওঠা বাধাদানের অভিযোগের মামলা নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে তদন্তের সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুললেও তাতে সম্মতি জানাল না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বরং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হল, স্থানীয় পুলিশের উপর তাদের আস্থা নেই। তাই মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের (CBI) হাতে দেওয়ার নির্দেশই চায় ইডি। মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র (Justice Prashant Mishra) ও বিচারপতি এনভি আঞ্জরিয়া (Justice N.V. Anjaria) -এর বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই আদালতের তরফে এমন একটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়, যেখানে তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারের উপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ইডির আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসবি রাজু (S.B. Raju) সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। ফলে মামলাটি কোন তদন্তকারী সংস্থার হাতে যাবে, সেই প্রশ্নই ফের সামনে চলে আসে।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Auckland speech, India New Zealand ties | ‘২৫ বছর আগে বন্ধুর দেওয়া মাফলার এখনও আছে’ : অকল্যান্ডে আবেগঘন মোদী, প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পুরনো স্মৃতি ও নতুন সম্পর্কের বার্তা

মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী (Menaka Guruswamy)। তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্তমানে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকার চাইলে নিজেরাই ঠিক করতে পারে, ওই ঘটনার তদন্ত রাজ্য পুলিশ করবে, না কি অন্য কোনও তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁর যুক্তি, এই পরিস্থিতিতে পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করানোর ক্ষেত্রে আপত্তির কারণ থাকা উচিত নয়। আদালতও এক পর্যায়ে বিষয়টি রাজ্যের উপর ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে। বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র জানতে চান, রাজ্য সরকারকে কি তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়া যায়? আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্য চাইলে পুলিশ অথবা সিবিআই, যে কোনও একটি সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করাতে পারে। কিন্তু ইডির তরফে সেই পথ গ্রহণ করা হয়নি।

এসবি রাজুর বক্তব্য, মামলার আসল আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি আগে প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল একজন কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই অভিযোগের তদন্ত কোন সংস্থা করবে। তাঁর দাবি, এই প্রশ্নে শীর্ষ আদালতের একটি নির্দেশ থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধুমাত্র বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার বদলে বিষয়টির আইনি দিকও আদালত বিবেচনা করুক। মামলায় সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta)। তাঁর বক্তব্যেও তদন্তকারী সংস্থা নির্বাচন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে যেন কেউ এমন অভিযোগ করতে না পারেন যে রাজনৈতিক কারণেই মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্ট পুরো বিষয়টি শুনে তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে নির্দেশ দিক।

এর পরেই মামলায় নতুন আইনি প্রশ্ন তোলেন মেনকা গুরুস্বামী। তিনি ইডির আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, কোনও এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন করা যায় কি না, তা নিয়েও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতের একাধিক পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করেন তিনি। গুরুস্বামীর আরও যুক্তি, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস সময় পেরিয়ে গিয়েছে। যদি তদন্তের প্রয়োজন থাকে, তা হলে বর্তমান রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগেই এফআইআর দায়ের করতে পারত। তাই ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এসে তদন্তের নির্দেশ চাইতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও বিচারাধীন মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং মূল অভিযোগকে একেবারে আলাদা করে দেখার পথে আদালত এই মুহূর্তে যেতে চাইছে না। অর্থাৎ প্রথমে মামলাটি আদালতে শুনতে পারা যায় কি না এবং তার পরে মূল অভিযোগের বিচার, এই দুই বিষয়কে পৃথক করে দেখার পরিবর্তে পুরো বিষয়টি একসঙ্গে বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে বেঞ্চ।

এই পর্যায়ে ইডির তরফে স্থানীয় পুলিশের উপর আস্থার অভাবের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য, রাজ্য পুলিশের হাতে তদন্তভার গেলে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। ইডির এই অবস্থান থেকেই মামলায় তদন্তকারী সংস্থা নির্বাচন নিয়ে সংঘাত আরও বাড়ল। ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৮ জানুয়ারির তল্লাশি অভিযানকে ঘিরে। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের সঙ্গে যুক্ত একটি দফতর এবং তৃণমূলের (Trinamool Congress) পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

তল্লাশির সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন। ইডির অভিযোগ, অভিযান চলাকালীন তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু নথি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি ছিল, সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি তাঁর ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে তদন্তকারীদের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং নথি সরিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। দলের বক্তব্য, ভোটের আগে ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্বাচনী পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলে তৃণমূল। ফলে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বক্তব্য একেবারে বিপরীত অবস্থানে দাঁড়ায়। ইডির দাবি ছিল, তল্লাশি অভিযানের সময় তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। কিন্তু তল্লাশির ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ দ্রুত আদালতে পৌঁছে যায়। ঘটনার দিনই কলকাতা হাই কোর্টে যায় ইডি। পরের দিন, ৯ জানুয়ারি, ওই আবেদনের শুনানি হয়। তবে মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এর পরেই ইডি আরও এক ধাপ এগিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের মূল বিষয় হয়ে ওঠে, রাজ্য পুলিশের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা হবে কি না। সেই প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সাংবিধানিক ও আইনি দিক। মঙ্গলবারের শুনানিতে তাই শুধু আইপ্যাক দফতরে তল্লাশি নিয়ে অভিযোগের বিচার হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনতা, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা, সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি এফআইআর চাওয়ার আইনি সুযোগ, একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী যেমন ইডির আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই ইডি স্থানীয় পুলিশের উপর আস্থা না থাকার কথা জানিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় থেকেছে। শেষ পর্যন্ত আদালত জানিয়েছে, সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২ সেপ্টেম্বর। ফলে আইপ্যাক-কাণ্ডে তদন্তের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে মঙ্গলবারের শুনানিতে ইডি-তৃণমূলের আইনি অবস্থানের যে সংঘাত সামনে এসেছে, তাতে ২ সেপ্টেম্বরের শুনানি মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Hockey World Cup India match, India loses to England hockey | হকি বিশ্বকাপে এগিয়েও শেষরক্ষা হল না ভারতের! ইংল্যান্ডের কাছে ২-৪ গোলে হার হরমনপ্রীতদের, শেষ কোয়ার্টারে ভেঙে পড়ল রক্ষণ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন