PM Narendra Modi Auckland speech, India New Zealand ties | ‘২৫ বছর আগে বন্ধুর দেওয়া মাফলার এখনও আছে’ : অকল্যান্ডে আবেগঘন মোদী, প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পুরনো স্মৃতি ও নতুন সম্পর্কের বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড : নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে আবেগ ও কূটনীতির এক অনন্য মিশেল তুলে ধরলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দীর্ঘ ৪০ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই সফর ঘিরে অকল্যান্ডে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। শহরের স্পার্ক অ্যারেনায় (Spark Arena) আয়োজিত কিয়া ওরা মোদী’ (Kia Ora Modi) অনুষ্ঠানে হাজার হাজার প্রবাসী ভারতীয়র উপস্থিতিতে গর্জে ওঠে গোটা প্রেক্ষাগৃহ। মঞ্চে উঠে মোদীর প্রথম অভিবাদনেই ধরা পড়ে সংস্কৃতির সংযোগ, প্রথমে ‘নমস্তে’, তারপর মাওরি ভাষায় ‘কিয়া ওরা’ জানিয়ে তিনি শুরু করেন বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘৪০ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডে এসেছেন। এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমি ১৪০ কোটি ভারতবাসীর শুভেচ্ছা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি।’ তাঁর এই মন্তব্যে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস আরও বাড়ে।

নিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি : সংগৃহীত

আরও পড়ুন : uranium supply India Australia | মেলবোর্নে মোদী-আলবানিজ বৈঠকে বড় চুক্তি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পাবে ভারত; ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত বার্তা

এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে ওঠে মোদীর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। তিনি জানান, বহু বছর আগে, যখন তিনি কোনও সরকারি পদে ছিলেন না, তখন প্রথমবার নিউজিল্যান্ডে এসেছিলেন। সেই সময়কার এক বন্ধুর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যখন কেউ আমাকে চিনত না, তখন এই দেশে এসেছিলাম। সেই সময় এক বন্ধু আমাকে একটি মাফলার, একটি টুপি ও একজোড়া গ্লাভস উপহার দিয়েছিলেন।’ এরপরই তিনি জানান, ‘আজ আমি সেই মাফলারটাই পরে এসেছি। এত বছর ধরে এটি যত্ন করে রেখেছি। এটি আমার কাছে এই দেশের মানুষের ভালবাসার স্মৃতি।’ তাঁর এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর ভাষণের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভারত-নিউজিল্যান্ড (India-New Zealand) সম্পর্কের প্রসঙ্গ। মোদী বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, এটি স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্মানের উপর দাঁড়িয়ে।’ তিনি নিউজিল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াকা’ (Waka) -এর উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ওয়াকা শুধু একটি নৌকা নয়, এটি একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রতীক। ভারত ও নিউজিল্যান্ড এখন সেই নতুন যাত্রার জন্য প্রস্তুত।’ এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন (Christopher Luxon) -এর প্রশংসা করতেও ভোলেননি মোদী। তিনি বলেন, ‘ভারতীয়দের মধ্যে লাক্সন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।’ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে লাক্সন ও বিরোধী নেতা ক্রিস হিপকিন্স (Chris Hipkins) -এর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মোদী বলেন, ‘তাঁদের পারফরম্যান্স ভারতীয়দের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।’ এই মন্তব্যে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্বও সামনে আসে।

প্রবাসী ভারতীয়দের অবদান নিয়েও বিশেষভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের সাফল্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। তাঁর কথায়, ‘নিখিল রবিশঙ্কর (Nikhil Ravishankar) এয়ার নিউজিল্যান্ড (Air New Zealand) -এর সিইও হয়েছেন, আনন্দ সত্যনন্দ (Anand Satyanand) গভর্নর-জেনারেলের পদ অলঙ্কৃত করেছেন।’ পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন রচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra), ঈশ সোধি (Ish Sodhi) ও এজাজ প্যাটেল (Ajaz Patel) -এর নাম, যারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানের নামেও ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রয়েছে। ‘বম্বে হিলস (Bombay Hills), কলকাতা স্ট্রিট (Calcutta Street), দিল্লি ক্রিসেন্ট (Delhi Crescent), অমৃতসর স্ট্রিট (Amritsar Street) এই নামগুলো আমাদের ঐতিহাসিক সংযোগের নিদর্শন।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মন্তব্যে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরেন।

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মোদী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে যখনই আমার কথা হয়, তারা আপনাদের প্রশংসা করেন। সেই প্রশংসা শুনে আমার গর্ব হয়।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনারাই দুই দেশের সম্পর্ককে সবচেয়ে শক্তিশালী করে তুলেছেন।’ এই বক্তব্যে প্রবাসী ভারতীয়দের ভূমিকার প্রতি তাঁর আস্থা প্রকাশ পায়। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর এই সফর শুধু কূটনৈতিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ব্যক্তিগত স্মৃতি ও আবেগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অকল্যান্ডের সভায় মোদীর বক্তব্যে যেমন অতীতের স্মৃতি উঠে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের সহযোগিতার দিকও সামনে এসেছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করা গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। মোদীর এই সফর সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অকল্যান্ডের এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে এক আবেগঘন সংযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এটি ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক নতুন দিশাও দেখিয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন