সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বর্ষার মাঝেই ফের বদলাতে চলেছে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার চরিত্র। উত্তর বঙ্গোপসাগরে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাবে ওডিশা ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ দ্রুত বাড়তে পারে। আগামীকাল কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের জন্য ফের সক্রিয় হতে চলেছে বর্ষার দুর্যোগের আশঙ্কা। উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হওয়া বর্ষাকালে নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে নিম্নচাপের অবস্থান, শক্তি ও গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা ও বিস্তার বদলে যায়। এ বারও আবহাওয়া দফতরের নজর রয়েছে সমুদ্রের ওই অংশের দিকে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপের পরিস্থিতি তৈরি হলে পূর্ব ভারতের আবহাওয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ওডিশা এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টির দাপট বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য নিম্নচাপের প্রভাবে আগামীকাল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ একটানা বা স্বল্প সময়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হলে শহর ও শহরতলির নিচু এলাকায় জল জমার সমস্যা তৈরি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বর্ষাকালে জল জমা নিয়ে এমনিতেই মানুষের দুর্ভোগ থাকে। তার উপর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়লে সেই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। উপকূলবর্তী এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলির আবহাওয়ার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প স্থলভাগের দিকে ঢুকে পড়লে মেঘ সঞ্চারের পরিমাণ বাড়তে পারে। তার ফলেই কয়েকটি এলাকায় স্বল্প সময়ে প্রবল বৃষ্টি নামার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যদিও নিম্নচাপ ঠিক কোথায় অবস্থান করবে এবং কোন পথে এগোবে, তার উপর পরবর্তী কয়েক দিনের বৃষ্টির ছবি নির্ভর করবে।
ওডিশাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে নিম্নচাপের প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি পড়তে পারে। অতিবৃষ্টির জেরে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নদী, নালা ও জলাধারে জলস্তর বাড়তে পারে। ফলে প্রশাসনের তরফেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে সম্ভাব্য নিম্নচাপের প্রভাব কেবল বাংলা ও ওডিশাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আইএমডির পূর্বাভাসে দেশের একাধিক রাজ্যে আগামী দিনে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। কর্ণাটক, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, তামিলনাড়ু, কারাইকাল, পুদুচেরি, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, কেরল, গোয়া এবং রাজস্থানের কিছু এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
মধ্য ভারতের বেশ কয়েকটি এলাকাতেও বর্ষার সক্রিয়তা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ়ে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকতে পারে। ঝাড়খণ্ডেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও সতর্কতা রয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের কিছু এলাকায় আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টি হলে ভূমিধস, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং স্থানীয় জলপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। উত্তর-পূর্ব ভারতেও বর্ষার প্রভাব বজায় থাকতে পারে। একই সময়ে মধ্য মহারাষ্ট্রের কিছু অংশেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই আগামী কয়েক দিন বর্ষার সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে। কোথাও ভারী বৃষ্টি, কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দু’দিন অন্ধ্রপ্রদেশ, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কারাইকলের কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ফলে বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ছাদ কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিদ্যুতের খুঁটি, বড় গাছ বা বিচ্ছিন্ন কাঠামোর নিচে আশ্রয় নেওয়াও বিপজ্জনক। শহরাঞ্চলে বৃষ্টির সময় রাস্তার জল বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসেছে কি না, সে দিকেও সতর্ক থাকা জরুরি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।
কলকাতার ক্ষেত্রেও নিম্নচাপের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশের সঙ্গে বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির প্রবণতা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই বর্ষার কারণে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার উপরও নজর রয়েছে। যদিও সম্ভাব্য নিম্নচাপের প্রধান প্রভাব গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় পড়ার কথা, তবু নিম্নচাপের গতিপথ বদলালে বৃষ্টির বিস্তারও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আগামী কয়েকটি আবহাওয়া বুলেটিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জন্ম এবং তার পরবর্তী গতিপথ। নিম্নচাপ কতটা শক্তিশালী হবে, স্থলভাগের দিকে এগোবে কি না এবং কোন এলাকায় বেশি সময় অবস্থান করবে— তার উপরই বৃষ্টির পরিমাণ নির্ভর করবে। তাই আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আইএমডি।
বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক নিম্নচাপ তৈরি হওয়া নতুন নয়। তবে এ ধরনের নিম্নচাপ যখন সক্রিয় হয়, তখন অল্প সময়ের মধ্যে আবহাওয়ার চরিত্র বদলে যেতে পারে। তাই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সামনে রেখে সতর্ক থাকা জরুরি। আগামী বুলেটিনে নিম্নচাপের অবস্থান ও শক্তি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বাংলার বৃষ্টির ছবিও আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে তাকিয়ে দক্ষিণবঙ্গ, ফের বৃষ্টির বড় ধাক্কা আসে কি না, সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Netaji Seva Kendra West Bengal, Suvendu Adhikari Announcement | প্রতি বিধানসভায় ‘নেতাজী সেবাকেন্দ্র’, মাসে ৩০ হাজার টাকা! প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতাও বাড়ল, বিধানসভায় বড় ঘোষণা শুভেন্দুর




