Netaji Seva Kendra West Bengal, Suvendu Adhikari Announcement | প্রতি বিধানসভায় ‘নেতাজী সেবাকেন্দ্র’, মাসে ৩০ হাজার টাকা! প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতাও বাড়ল, বিধানসভায় বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জন্য আলাদা সেবাকেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই সেবাকেন্দ্রগুলির নাম হবে ‘নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’। বিধায়কদের নিজেদের বিধানসভা এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য সরকার প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি। এত দিন মাসে ৬ হাজার টাকা করে চিকিৎসাভাতা মিললেও এবার থেকে তা বেড়ে ১০ হাজার টাকা হবে। আগামী অগস্ট থেকেই বর্ধিত অর্থ পাওয়ার কথা প্রাক্তন বিধায়কদের।বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সময়ের সঙ্গে বিধায়কদের কাজের ধরন বদলেছে। এক সময় সরকারি দফতর থেকে বিধায়করা সাধারণ মানুষের কাজকর্ম দেখভাল করতেন। এখন অধিকাংশ বিধায়কেরই নিজস্ব দফতর রয়েছে। কোথাও দলের কার্যালয়কেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়, আবার কোথাও আলাদা অফিস রয়েছে। সেই ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত রূপ দিতে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একটি করে সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Narendra Modi | আরও ১০ বছর মোদী কেন? বিশ্বরাজনীতিতে ভারতের উত্থান, যুবশক্তি ও বিরোধীদের কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই কেন্দ্রগুলির দরজা শুধু শাসক দলের ভোটারদের জন্য খোলা থাকবে না। বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে ভোট দিয়েছেন এবং যাঁরা ভোট দেননি, দুই পক্ষের মানুষই যাতে পরিষেবা পান, সেই নীতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের হিসাবের বাইরে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সেবাকেন্দ্রকে একটি নাগরিক পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সেবাকেন্দ্রগুলির নামকরণেও থাকছে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর (Subhas Chandra Bose) নাম। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে বিধায়কদের এই কেন্দ্রগুলির জন্য নেতাজীর একটি নির্দিষ্ট ছবি পাঠানো হবে। ধুতি-পাঞ্জাবী পরিহিত নেতাজীর সেই ছবি সেবাকেন্দ্রে রাখতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একই ধরনের নাম ও পরিচিতি নিয়ে পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু হয়েছে বলেও বিধানসভায় দাবি করেছেন শুভেন্দু। নতুন নির্দেশ কার্যকর হলে আরও বহু বিধানসভা এলাকায় একই ধরনের কেন্দ্র তৈরি হতে পারে। সরকারের তরফে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিধায়কদের জন্য সেবাকেন্দ্র পরিচালনার খরচ সামলানোও কিছুটা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের (Swapan Dasgupta) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে সেবাকেন্দ্র তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত পরিচালনার জন্য আর্থিক কাঠামো তৈরির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। একটি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যোগাযোগ আরও বাড়াতে এই কেন্দ্রগুলি কী ভূমিকা নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

একই অধিবেশনে প্রাক্তন বিধায়কদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। দীর্ঘদিন বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে এত দিন মাসে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। সেই অর্থ এবার বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে চিকিৎসাভাতার পরিমাণ ৪ হাজার টাকা বাড়ছে। আগস্ট মাস থেকেই এই বর্ধিত চিকিৎসাভাতা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রাক্তন বিধায়কদের অবসরকালীন ভাতা নিয়েও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই ভাতা বাড়াতে বিধানসভায় আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আরও আলোচনা করার কথাও তিনি জানিয়েছেন। আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শেষ হলে অবসরকালীন ভাতা বৃদ্ধির পথ খুলতে পারে। ফলে প্রাক্তন বিধায়কদের জন্য একসঙ্গে দুটি আর্থিক সুবিধা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, একটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হচ্ছে, অন্যটির জন্য প্রয়োজন আইনগত পরিবর্তন।

বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে থাকা বিভিন্ন দলের প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। আর্থিক চাপের মধ্যেও তাঁদের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য আছে।’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন বিধায়কদের কাজের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উপর নানা চাপ রয়েছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে অবসরকালীন ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হওয়ায় সেটি কার্যকর হতে আরও সময় লাগতে পারে।

বুধবার বিধানসভায় যাওয়ার আগে আদ্যাপীঠেও গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেখানে সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আধ্যাত্মিক চেতনার প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে গীতাপাঠ বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের মধ্যে গেরুয়া রঙের মাহাত্ম্য তুলে ধরার কথাও উঠে আসে। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, একদিকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নেতাজীর নামে সেবাকেন্দ্র চালু করার উদ্যোগ, অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা, বিধানসভার বুধবারের অধিবেশনে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক, দুই ক্ষেত্রেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সেবাকেন্দ্রগুলির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ কতটা সহজ হয়, তার উপর নজর থাকবে। কারণ শুধু কেন্দ্র তৈরি করাই নয়, সেখানে নিয়মিত পরিষেবা, আবেদনপত্র সংক্রান্ত সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করাও বড় বিষয়। নেতাজীর নামাঙ্কিত এই সেবাকেন্দ্রগুলিকে যদি কার্যকর ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে বিধায়ক ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগের একটি নতুন পরিকাঠামো তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধির ফলে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ সামলানো সহজ হবে। ফলে একই দিনে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিসর এবং প্রাক্তন বিধায়কদের সামাজিক সুরক্ষা, দুই ক্ষেত্রেই নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আনল রাজ্য সরকার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন