Sheikh Hasina return Bangladesh, Sheikh Hasina December return | ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তা, বিচার হবে আইনের পথেই: তারেক রহমানের উপদেষ্টার দাবি

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দেশে ফেরা নিয়ে ফের জোরালো হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা। আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা, তাঁর নিজের এমন ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে আরও আলোচনা। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির বিচার হবে দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | মোদীর পর কে? ২০৩৪-এর ভারত, বিজেপির উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা, যুব নেতৃত্ব বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গে ওই উপদেষ্টা জানিয়েছেন, দেশে ফেরার পরে তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। তাঁকে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে দেওয়া হবে না। তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়াও চলবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকেই। অর্থাৎ, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে একদিকে যেমন তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়াও থেমে থাকবে না। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশ ছাড়েন তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে থাকার পর এবার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা নিজেই জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের (Awami League) কয়েকজন নেতার সঙ্গে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথাও তাঁর তরফে উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (International Crimes Tribunal) মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। ওই রায়কে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। ফলে দেশে ফিরলে তাঁকে কোন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, সেই প্রশ্নও সামনে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, বিচারিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল জায়গা এখানেই। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও গাফিলতি থাকবে না। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থার সামনে তাঁকে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে। আদালতে তাঁর আইনি অধিকারও বজায় থাকবে। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ই কার্যকর হবে। ফলে রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে আলাদা রাখার একটি কাঠামো তৈরির কথাই সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বড় ঘটনা হতে পারে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগের (Awami League) রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। দলের বহু নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন, আবার বেশ কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করতে পারে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থানও এক নয়। তাঁর সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করা হচ্ছে। অন্যদিকে তাঁর বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁর শাসনামলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জন্য তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ডিসেম্বর মাসে তিনি সত্যিই দেশে ফিরলে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি লড়াইও আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখানে নিরাপত্তার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দেশে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। উপদেষ্টার বক্তব্যে তাই নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা করে গুরুত্ব পেয়েছে। দেশে ফেরার পরে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ওপরই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এবং রায় রয়েছে, সেগুলির নিষ্পত্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নয়, আদালতের মাধ্যমেই হবে, এমন অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে উপদেষ্টার বক্তব্যে। তাঁর কথায়, আদালত যে রায় দেবে, তা মেনে নেওয়াই হবে নিয়ম। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে সরকার একদিকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে আদালতের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সামনে রাখছে। শেখ হাসিনা নিজেও দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরতে চান, এই ঘোষণার পর থেকেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য সময়, নিরাপত্তা এবং বিচারিক পরিণতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের (Awami League) আরও কয়েকজন নেতার দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথাও সামনে এসেছে।

তবে ডিসেম্বর এখনও আসেনি। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তার আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন কোনও সিদ্ধান্ত আসে কি না এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেখ হাসিনা সত্যিই যদি ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরেন, তাহলে তাঁর জন্য সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে এবং আদালতের সামনে তাঁর আইনি লড়াই কীভাবে এগোবে। কারণ একদিকে বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গুরুতর আইনি অভিযোগ, দু’টি বিষয় একই সময়ে সামনে আসতে চলেছে। তাই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত শুধু একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন নয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিস্থিতির জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sheikh Hasina arrest Bangladesh, Hasina return news | শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, দেশে ফিরলেই গ্রেফতারের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন