India Theatre Command reform, Narendra Modi defense reform | নরেন্দ্র মোদীর বড় প্রতিরক্ষা সংস্কার: এক কমান্ডে তিন বাহিনী, সীমান্তে যৌথ অপারেশনের নতুন যুগের পথে ভারত

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: স্বাধীনতার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোয় সবচেয়ে বড় রদবদলের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। থিয়েটার কমান্ড (Theatre Command) চালুর পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর নেতৃত্বে এই উদ্যোগ কার্যকর হলে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী তিনটি পৃথক শাখায় বিভক্ত, ভারতীয় স্থলসেনা (Indian Army), ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy) ও ভারতীয় বিমানবাহিনী (Indian Air Force)। প্রতিটি বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড ব্যবস্থা থাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, একাধিক বাহিনী একইসঙ্গে কাজ করলেও একটি একক নেতৃত্বের অভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লেগেছে। নতুন থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থায় সেই সমস্যা দূর করার লক্ষ্যেই এক ছাতার তলায় তিন বাহিনীকে আনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari latest news, Rath Yatra security arrangements | কলকাতার রথযাত্রায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ইসকনের সূচনা মঞ্চে হাঁটবেন নিজে, জেলা সফরেও নজর

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের কৌশলগত প্রয়োজন অনুযায়ী তিনটি প্রধান থিয়েটার কমান্ড গঠন করা হবে। উত্তরাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড (Northern Theatre Command) চিন সীমান্তের ওপর নজরদারিতে থাকবে। পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড (Western Theatre Command) পাকিস্তান সীমান্তের নিরাপত্তা ও অপারেশনের দায়িত্ব নেবে। পাশাপাশি মেরিটাইম থিয়েটার কমান্ড (Maritime Theatre Command) ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌ ও আকাশ শক্তির সমন্বয়ে কাজ করবে। এই তিনটি কমান্ডের অধীনে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সব ধরনের সামরিক সম্পদ একত্রে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা মহলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘থিয়েটার কমান্ড চালু হলে যুদ্ধ পরিচালনায় গতি ও দক্ষতা অনেকটাই বাড়বে। একই কমান্ডের অধীনে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র তিন দিক থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।’ এই ব্যবস্থায় একজন থিয়েটার কমান্ডার সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সমস্ত বাহিনীকে নেতৃত্ব দেবেন। ফলে আলাদা আলাদা নির্দেশের পরিবর্তে একক পরিকল্পনায় অভিযান পরিচালনা করা যাবে।

এই সংস্কারের প্রেক্ষাপটে অতীত অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসছে। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় দেখা গিয়েছিল, যা সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক গলওয়ান সংঘর্ষ (Galwan Valley Clash) -এর পর চিন সীমান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নতুন করে প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একযোগে আঘাত হানার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, চিন (China) ইতিমধ্যেই তাদের সামরিক কাঠামোকে থিয়েটার কমান্ডের আদলে পুনর্গঠন করেছে। ফলে সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে ভারতকেও আধুনিক ব্যবস্থায় এগিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ আর একক বাহিনীর ওপর নির্ভর করে লড়া সম্ভব নয়। প্রযুক্তিনির্ভর ও বহু-মাত্রিক যুদ্ধের যুগে সমন্বিত শক্তিই সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠছে। সেই দিকেই লক্ষ্য রেখে ভারত এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

সরকারি সূত্রে খবর, থিয়েটার কমান্ড চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি চলেছে। বিভিন্ন স্তরে আলোচনা, বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বও এই প্রস্তাব নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছে। নতুন ব্যবস্থায় দায়িত্ব বণ্টন, কমান্ড কাঠামো এবং সম্পদের ব্যবহার কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এই উদ্যোগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, এটি যুদ্ধ কৌশলের একটি বড় রূপান্তর। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য থিয়েটার কমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।’ একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান ও রিয়েল-টাইম অপারেশন পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই রদবদল কার্যকর করতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, নেতৃত্বের কাঠামো নির্ধারণ এবং সম্পদের সুষম বণ্টন, এই বিষয়গুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। দীর্ঘদিন ধরে পৃথকভাবে পরিচালিত বাহিনীগুলিকে একত্রে এনে একটি একক কাঠামোয় পরিচালনা করা সহজ নয়। তবুও কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানা গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করে তোলার ওপর বরাবরই জোর দিয়েছেন। ‘ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গড়ে তুলতে হবে’ এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই থিয়েটার কমান্ডের পরিকল্পনা এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সীমান্তে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের মত। উল্লেখ্য, আগামী দিনে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষমতায় বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত অপারেশন এবং কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ আরও সুরক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থিয়েটার কমান্ড চালু হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mejia Shyam Steel investment, Suvendu Adhikari | ‘হেলিকপ্টার পাঠাব, একবার দেখে যান’ : মেজিয়ায় শিল্পমঞ্চ থেকে মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর, ১৫ হাজার কোটির প্রকল্পে নতুন সমীকরণ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন