Hooghly murder verdict, extramarital affair murder case | পরকীয়ার খবর ফাঁসের ‘মূল্য’ মৃত্যু! চুঁচুড়া আদালতের রায়ে প্রেমিক অজয়ের ফাঁসি, ৭ বছর পর ন্যায় পেল অতনু পরিবার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ চুঁচুড়া: একজন প্রতিবেশীর বলা একটি বাক্য, ‘তোমার স্ত্রী যে প্রেম করছে জানো?’ তারপরেই শুরু হয়েছিল ঘটনাপ্রবাহ, যার শেষ হয়েছিল রক্তাক্ত খুনে। সাত বছর পর সেই মামলার নিষ্পত্তি করল হুগলির (Hoogly) চুঁচুড়া আদালত (Chinsurah Court)। বুধবার প্রথম দায়রা বিচারক রিন্টু শূর (Rintu Shur) অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলকে (Ajay Mondal) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। আদালতের এই রায় ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি নিহত অতনু সরকারের (Atanu Sarkar) পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ১১ জুলাই। হুগলি জেলার চুঁচুড়া ঝিলপাড় এলাকার বাসিন্দা অতনু সরকার ও তাঁর পরিচিত সুরজিৎ মাল (Surajit Mal) -এর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুরজিৎ প্রাণে বেঁচে গেলেও, অতনুকে আর ফিরিয়ে আনা যায়নি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ যে তথ্য পায়, তা এই মামলাকে অন্য মাত্রা দেয়।

আরও পড়ুন : Purba Bardhaman murder, extramarital affair murder | বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, পরিকল্পিত খুন! বর্ধমানের সেচখাল থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত দেহ, গ্রেফতার প্রেমিক-প্রেমিকা

তদন্তকারীরা জানতে পারেন, একটি বিবাহিত মহিলার সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কথা জানতেন অতনু এবং সুরজিৎ। তাঁরা বিষয়টি মহিলার স্বামীর কানে তোলেন। আর সেই কারণেই তাঁদের উপর নেমে আসে হামলা। অভিযোগ ওঠে, ওই মহিলার প্রেমিক অজয় মণ্ডলই এই আক্রমণের নেপথ্যে। পুলিশ অজয়কে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে পেশ করা নথি ও সাক্ষ্যে উঠে আসে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ। সরকারি কৌঁসুলি দেবেন্দ্র তিওয়ারি (Debendra Tiwari), যিনি মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় (Shankar Gangopadhyay)-এর তত্ত্বাবধানে মামলাটি পরিচালনা করেন, জানান, ‘প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বামীর কাছে পৌঁছে যাওয়ায় অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই আক্রোশ থেকেই পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়।’ আদালতে মোট ১৯ জন সাক্ষ্য দেন, যাঁদের বক্তব্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

মামলার শুনানির সময় উঠে আসে, ঘটনার আগের দিনই অতনু ও সুরজিৎ সংশ্লিষ্ট মহিলার স্বামীকে সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলেন। এরপরের দিনই তাঁদের উপর আক্রমণ হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক বার কোপানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। স্থানীয়দের তৎপরতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও অতনুর মৃত্যু ঘটে সেদিনই। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার আদালত অজয়কে দোষী সাব্যস্ত করে। পরের দিন, অর্থাৎ বুধবার সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারক রিন্টু শূর জানান, অপরাধের প্রকৃতি এবং পরিকল্পিত হামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য। আদালতে উপস্থিত প্রত্যেক সাক্ষী ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও পেশ করা হয়। সবকিছু বিবেচনা করেই আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয়। এই রায়ের পর নিহত অতনুর পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে আদালতের রায়ে তাঁদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। অন্য দিকে, অভিযুক্তের পরিবার এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি খুনের মামলা নয়, বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক পরিস্থিতি এবং হিংসার জটিল চিত্রও তুলে ধরে। একটি সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পর যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, তারই চরম পরিণতি ছিল এই হামলা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধ বা সম্পর্কের জটিলতা কখনওই হিংসার পথ বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে না।

চুঁচুড়া আদালতের এই রায় রাজ্যের বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কঠোর সাজা, এই দুই দিকই নজর কেড়েছে। আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের রায় ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনার সাত বছর পর আদালতের এই সিদ্ধান্তে আবারও সামনে এল সেই রাতের ভয়াবহ স্মৃতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, আজও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে শিউরে ওঠেন। একটি কথার জেরে এমন পরিণতি, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলকে সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারেন। তবে আপাতত চুঁচুড়া আদালতের এই রায়ই বহাল রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bhadreshwar civic body resignation, Hooghly TMC councillors resign | ভদ্রেশ্বরে রাজনৈতিক ভূকম্পন: চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী -সহ ৮ কাউন্সিলরের ইস্তফা, জনমতের ইঙ্গিতে বড় বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন