Bhadreshwar civic body resignation, Hooghly TMC councillors resign | ভদ্রেশ্বরে রাজনৈতিক ভূকম্পন: চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী -সহ ৮ কাউন্সিলরের ইস্তফা, জনমতের ইঙ্গিতে বড় বার্তা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ হুগলি : হুগলির ভদ্রেশ্বর (bhadreshwar) পুরসভায় আচমকাই তৈরি হল রাজনৈতিক অস্থিরতা। চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী (Pralay Chakraborty) -সহ মোট আট জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম কোনও পুরসভায় এত সংখ্যক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে ইস্তফা দেওয়ার ঘটনা সামনে এল। প্রলয়ের দাবি, ‘জনমতকে মান্যতা’ দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দলের প্রার্থীর পরাজয়ের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। চন্দননগর (Chandannagar) বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর দখলে ছিল। ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টিতেই জিতেছিল তৃণমূল। একটি করে আসন পেয়েছিল বিজেপি (Bharatiya Janata Party) এবং নির্দল প্রার্থী। পরে ওই দুই জনপ্রতিনিধিও তৃণমূলে যোগ দেন। ফলে কার্যত বিরোধীশূন্য বোর্ড চলছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে চিত্রটা বদলে যায়। প্রায় ১৪টি ওয়ার্ডে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। দলের প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) চন্দননগর কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার ভোটে হেরে যান। সেই ফলের পরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন : World Cup final Shakira, Madonna BTS performance | বিশ্বকাপ ফাইনালে ‘মেগা শো’: শাকিরা, ম্যাডোনা, বিটিএস, বিরতিতে নজির গড়তে চলেছে ফিফা

বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার এগ্‌জিকিউটিভ অফিসারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রলয়। পরে জানা যায়, আরও সাত জন কাউন্সিলরও একই পথে হাঁটেন। প্রলয় বলেন, ‘ব্যক্তিগত কারণে ইস্তফা দিয়েছি। মানুষ যখন সমর্থন করেছিল, তখন কাজ করেছি। এখন মানুষ যাদের সমর্থন করছে, তাদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।’ তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের তরফে কোনও নির্দেশ ছিল না। বিজেপি বা স্থানীয় বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহর (Dipanjan Guha) পক্ষ থেকেও কোনও চাপ তৈরি হয়নি বলেই তিনি দাবি করেন। রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তৃণমূলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর উন্নয়নমূলক কাজের জন্য অনুদান পেতে সমস্যা হচ্ছিল। ফলে কাউন্সিলরদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছিল। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পথ বেছে নিয়েছেন।

অন্যদিকে বিজেপির একাংশ এই ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্তের আশঙ্কা থেকেই পদত্যাগ করেছেন প্রলয় ও অন্যান্য কাউন্সিলররা। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছেন প্রলয়। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার পরিবারের কেউ বা দূরসম্পর্কের কোনও আত্মীয়ও পুরসভায় চাকরি করেন না।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘কাগজপত্র ঘেঁটে দেখলে বোঝা যাবে, আগের চেয়ারম্যানের সময় নিয়োগ হয়েছিল। আমি ২০১৮ সালে চেয়ারম্যান হই।’ তাঁর দাবি, ইস্তফার পেছনে অন্য কোনও কারণ নেই, ‘জনমতকে মান্যতা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তই এখানে প্রধান। এই পরিস্থিতিতেও পুরবোর্ডের কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলেই জানানো হয়েছে দলীয় সূত্রে। ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খান (Firoz Khan) -এর নেতৃত্বে আপাতত বোর্ড চলবে। প্রশাসনিক স্তরে পরিষেবা চালু রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যা না হয়।

বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে যদি পদত্যাগ করে থাকে, তা হলে বলা যায় তাদের অন্তরাত্মা জেগে উঠেছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছে না, এটা বড় সমস্যা। আমরা চাই, সাধারণ মানুষ যেন সঠিক পরিষেবা পান।’ তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতার ছবি দেখা যাচ্ছে। ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) পুরসভায় দুর্নীতি ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের অভিযোগ তুলে একাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। সেখানে তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিদ্রোহী কাউন্সিলররা ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভদ্রেশ্বরের ঘটনাও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় স্তরে ভোটের ফলাফল এবং জনমতের প্রতিফলন সরাসরি প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যেখানে একদল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় ছিল, সেখানে এই ধরনের ইস্তফা নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে, আগামী দিনে ভদ্রেশ্বর পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো কতটা স্থিতিশীল থাকে এবং নতুন করে কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে কি না। পাশাপাশি, অন্যান্য পুরসভাতেও এই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Kakoli Ghosh Dastidar resignation news, TMC internal conflict | দুর্নীতি থেকে ‘নৈতিক অভিঘাত’ : তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার চিঠিতে বিস্ফোরক বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন